চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন ও জনবল নিয়োগের দাবি
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে স্থানীয় জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ওই কেন্দ্রে কর্মরত একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চরপার্বতী ইউনিয়নের বাসিন্দা, সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সেবাদানকারী নিয়োগের দাবিতে প্রচার চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ওই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক উল্লেখ করেন, চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ১৯৮০ সালে নির্মিত। তিনি ২০০৮ সালে ওই কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে যোগদানের সময় কেন্দ্রটির নির্ধারিত পদগুলোর বিপরীতে জনবল কর্মরত ছিল এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ সেখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামের সহযোগিতায় কেন্দ্রটিতে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন (২৪/৭) প্রসবসেবা চালু করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে কয়েক মাস পর কেন্দ্রটির ভবনের পিলার ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করলে নিরাপত্তার কারণে প্রসবসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকলেও ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (HED) প্রকৌশলীরা কেন্দ্রটিতে সেবা কার্যক্রম বন্ধের জন্য চিঠি দেন বলে দাবি করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে ওই কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মায়া রানীর মাথার ওপর সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয় বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মো. হানিফ আনছারী কয়েকবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে জনবল সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। একজন আয়া কর্মরত থাকলেও তাকে সপ্তাহে তিন দিন চরকাঁকা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
ন্যূনতম সেবা চালু রাখার জন্য সিবাজপুরের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রত্না রানীকে প্রতি সোমবার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চরপার্বতী ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতি সোমবার সেখানে সেবা দিয়ে থাকেন বলে পোস্টে জানানো হয়েছে।
ওই পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আরও দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তবে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই অর্থ ফেরত চলে যায় বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা, পূর্বের বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ার কারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment