ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : ছোটগল্প: নিহা ও একটি অদৃশ্য উপাখ্যান। একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ সন্তানের সঠিক পথচলায় অভিভাবকদের সচেতনতা অপরিহার্য: সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ আমার মেয়ে। কবি আল হেলাল। কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সহজে বিচার পাবেন গ্রামের মানুষ: নোয়াখালীতে সমন্বয় সভা কবি কুতুবউদ্দিনের একগুচ্ছ সনেট কবিতা । একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫২ কোটি টাকা অনুমোদন কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে তিন দশকের পথ চলায় জাহিদুর রহমান রাজন কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা

একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ

একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ

একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ

নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশিত এ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরসহ উপকূলীয় এলাকায় আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়।

এরপর ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

একনেকে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সেই দাবির বাস্তবায়নের পথ আরও এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে প্রকল্প অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুছাপুর ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মিছিল শেষে উপস্থিত মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় বক্তারা মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রহিম বলেন, “নির্বাচনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও চেষ্টা করে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এ জন্য কোম্পানীগঞ্জবাসী, মুছাপুর ইউনিয়নবাসী এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।তিনি কোম্পানীগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

”বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ক্ষয়ক্ষতি থেকে মানুষ সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পৌঁছাবে।

তারা আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় মুছাপুরসহ বৃহত্তর কোম্পানীগঞ্জের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।

আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আফতাব আহম্মদ বাচ্চু, আনিছুল হক (এমএ), মাস্টার আবু নাছের, একরামুল হক মিলন মেম্বার, আলমগীর হোসেন মিয়া, আলী আজগর (জাহাঙ্গীর মেম্বার), আলাউদ্দিন জিকু, মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে মুছাপুরসহ বৃহত্তর উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমবে।পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.