ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনায় চরপার্বতীর সাবেক চেয়ারম্যান"নুরুল আমিন" দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চরপার্বতীর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী "একরামুল হক মিলন" কোম্পানীগঞ্জে সৈয়দিয়া আজগর আলি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা মানুষের খেদমতই লক্ষ্য, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হতে চান হাকিম শহীদ উল্লাহ গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের উদ্যোগে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলার ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার চরহাজারীতে ‘হাজারীবাসা মিনিবার ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ-২০২৬’-এর জমকালো গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত মেয়ে হলো মায়ার কানন। আল হেলাল বসুরহাটে মেধা বিকাশ বৃত্তি পরীক্ষা শনিবার, অংশ নেবে ২,২৮৭ শিক্ষার্থী ইসলাম, ঈমান ও ইহসান: হাদিসে জিব্রাইলের শিক্ষণীয় শিক্ষা: মুঃ ইব্রাহীম খলিল জসিম কোম্পানীগঞ্জে যোগিদিয়া যুব সংঘের বিজয়া সম্মিলন, শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের উদ্যোগে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলার ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার

গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের উদ্যোগে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলার ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার

গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের উদ্যোগে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলার ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার

নবজ্যোতি নিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী। গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশ যৌথভাবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালনা করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতা এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির সহায়তায় আয়োজিত এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীরাও অংশ নেন।

ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ‘চলো খাল বাঁচাই’ উদ্যোগের আওতায় এটি ছিল পঞ্চম খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে খালটির পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আয়োজকদের তথ্যমতে, পাঁচ দিনের কার্যক্রমে খাল থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সংগৃহীত বর্জ্য ডিএনসিসির সহায়তায় সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় খালের পাড়ে জমে পরিবেশ দূষিত করতে না পারে।

খাল পরিষ্কারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারোপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন, খালের পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত রেলিং পুনর্নির্মাণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বসে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া আশপাশের পাড়া-মহল্লায় পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে এলাকার নষ্ট সড়কবাতির সমস্যা ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নজরে আনেন আয়োজকেরা। তাঁদের কাছে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সড়কবাতিগুলো মেরামত করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণ সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তুলতে ডিএনসিসি যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, বসিলা ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি তারই একটি অংশ।

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, বসিলার উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় খালটির আশপাশে মাদক বিক্রি, মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর প্রজনন নিয়ে উদ্বেগ ছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর এলাকাটিতে মানুষের চলাচল ও বসার পরিবেশ উন্নত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, খাল পরিষ্কারের মধ্যেই উদ্যোগটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্থাপন করা ডাস্টবিন, রেলিং ও বেঞ্চের দেখভাল, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ঢাকার অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধারে ডিএনসিসির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে গো আপ ফাউন্ডেশনের।

তিনি মনে করেন, খাল রক্ষা কেবল সরকারি সংস্থার দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সিটি ব্যাংক পিএলসি, ডিএনসিসি এবং অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন দুটি।

উল্লেখ্য, গো আপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি অলাভজনক সংগঠন। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে সংগঠনটি। অন্যদিকে, ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ‘চলো খাল বাঁচাই’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে খাল পুনরুদ্ধার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.