মানুষের খেদমতই লক্ষ্য, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হতে চান হাকিম শহীদ উল্লাহ
চিকিৎসাসেবা ও সমাজকল্যাণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা; মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয়।
নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভাকে একটি পরিচ্ছন্ন, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান বিশিষ্ট ইউনানী চিকিৎসক, ইউনান ল্যাবরেটরির স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ব্যবস্থাপক অধ্যাপক হাকিম মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে পৌরবাসীর পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।বসুরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাকিম শহীদ উল্লাহর চিকিৎসা ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সুপরিচিতি রয়েছে বলে জানা যায়।
তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা হাকিম ইলিয়াস (রহ.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক। পিতার হাতে গড়ে ওঠা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনানী চিকিৎসা ও ওষুধ প্রস্তুতকরণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
১৯৫৫ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক হাকিম মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা হাকিম ইলিয়াস (রহ.) মৃত্যুকালে চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে যান।
তাঁদের মধ্যে শহীদ উল্লাহ পারিবারিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিতার প্রতিষ্ঠিত সেবাধারাকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তিনি চাঁদপুর তিব্বিয়া কলেজ ও ফেনী তিব্বিয়া কলেজে অধ্যয়ন শেষে ইউনানী চিকিৎসায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ প্রস্তুতকরণ এবং উদ্ভিদভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ইউনান ল্যাবরেটরির স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ভারত,অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব গমন করেন।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তিনি একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। তাঁর কর্মজীবনে রোগীদের সেবা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
তাঁর পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের পরিচিতিকে তিনি জনসেবার কাজে আরও বিস্তৃত করতে চান।
হাকিম শহীদ উল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে তিনি ‘সেবা ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন’ শীর্ষক শ্রেষ্ঠ যুবক পদক অর্জন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা স্মারক ও পদক পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
চিকিৎসা ও ওষুধ প্রস্তুতকরণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ইউনানী চিকিৎসা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বেও রয়েছেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইউনান তিব্বিয়া ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং ইউনানী মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এসব সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁর পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ।
সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে হাকিম শহীদ উল্লাহর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের।
তিনি অধুনালুপ্ত রামদি-রাজাপুর দুস্থ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সরকারি বরাদ্দের গম সুবিধাভোগীদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রতি মাসে ৫৯ টন গম বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলেও জানান।
এ ছাড়া তিনি উদয়ন স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আম্বিয়া ফোরকানিয়া মাদরাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি হাকিম ইলিয়াস আলী (রহ.) মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যেতে পারে।
বসুরহাট পৌরসভার ইতিহাসের সঙ্গেও হাকিম শহীদ উল্লাহর সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময়ে বসুরহাটকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগে তিনি সহযোগিতা করেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন একজন যুগ্ম সচিব এবং মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ২৩২টি পৌরসভা-সংক্রান্ত সরকারি উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে, বসুরহাটকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তার সম্পৃক্ততায় এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৯০ সালে তিনি বসুরহাট পৌরসভার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সহধর্মিণী লুৎফন নাহারও পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তিনি জানান।
ফলে পরিবারটির জনপ্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে হাকিম শহীদ উল্লাহ এক ছেলে ও নয় মেয়ের জনক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানরা উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশ-বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনের চেষ্টা করছেন।
তাঁদের মধ্যে একজন মেয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক এবং আরেকজন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ডিএমএফ ডিগ্রি অর্জনের পর আয়ারল্যান্ডে বিএসসি কোর্সে অধ্যয়ন করছেন বলে তিনি জানান।
পরিবারের শিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতিকে তিনি নিজের জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে পাওয়া মূল্যবোধকে জনসেবার কাজে লাগাতে চান তিনি।
আসন্ন বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা সম্পর্কে হাকিম শহীদ উল্লাহ বলেন, “আমার বয়স ৭১ বছর। আমার নেওয়ার কিছু নেই। আমি মানুষকে দিতে চাই, জনগণের খেদমত করতে চাই। মানুষের পাশে থাকতে চাই।
”তিনি মনে করেন, পৌরসভার উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট, ড্রেন ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়;নাগরিকদের নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হলো নাগরিকদের কথা শোনা, সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা।
নিজের সম্ভাব্য নির্বাচনী অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, বসুরহাট পৌরসভা থেকে সালিশ-বাণিজ্য, ইভটিজিং, জুয়া, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার দূর করতে কাজ করতে চান।
এ জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তাঁর মতে, তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও গঠনমূলক সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পৌরসভার নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে হাকিম শহীদ উল্লাহ এখন মানুষের সেবা করার নতুন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। চিকিৎসাসেবা, সামাজিক সংগঠন পরিচালনা এবং জনপ্রতিনিধিত্বের অতীত অভিজ্ঞতাকে তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।
তবে নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর অভিজ্ঞতা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নির্ধারিত হবে তাঁর পরিকল্পনা, কাজের স্বচ্ছতা এবং জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment