ঢাকা    ,

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে নুরুল ইসলাম বাবু

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে নুরুল ইসলাম বাবু

মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে নুরুল ইসলাম বাবু

পরিবার, প্রবাসজীবন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও চরহাজারীর মানুষের সঙ্গে এক দীর্ঘ পথচলার গল্প

নব জ্যোতি ফিচার ডেস্ক:

মানুষের জীবনের পরিচয় শুধু পদ-পদবি কিংবা পেশায় সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, সমাজ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড

সবকিছু মিলেই তৈরি হয় একজন মানুষের জীবনকথা।

নুরুল ইসলাম বাবুর জীবনপথও তেমনই একটি গল্পযেখানে পারিবারিক মূল্যবোধ, দীর্ঘ প্রবাসজীবন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং চরহাজারীর মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার প্রচেষ্টা রয়েছে।

নুরুল ইসলাম বাবুর ভাষায়, মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো পদ নয়, মানুষের প্রয়োজনের সময়ে কতটা পাশে থাকা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

নুরুল ইসলাম বাবুর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা।তাঁর বাবা নুরুল করিম মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তিনি কোম্পানীগঞ্জ ফোরাম, ইউএসএ-এর সভাপতি, মরহুম আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যান কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি এবং বক্স আলী সর্দার জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাই তৌফিকুল ইসলাম তারেক বর্তমানে শাপলা ডগি স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হিসেবে সামাজিক, ক্রীড়া ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

নুরুল ইসলাম বাবু নিজেও মরহুম আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যান কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক এবং বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি, ইউএসএ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।

অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র আলাদা হলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি অভিন্ন মানসিকতা তাদের মধ্যে রয়েছে।

নুরুল ইসলাম বাবুর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর দাদা মরহুম আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যানের স্মৃতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের স্মৃতিতে আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা রয়েছে।

তাঁর মৃত্যুর পরও মানুষের জন্য কাজ করার সেই মানসিকতা পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে সামাজিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় বলে মনে করেন নুরুল ইসলাম বাবু।

পরিবারের স্মৃতিতে আরও রয়েছে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও মরহুম আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামাজিক সম্পর্ক ছিল এবং মওদুদ আহমেদ তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকবার আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যানের বাড়িতে এসেছিলেন।

একইভাবে তাঁর বাবা নুরুল করিম মোল্লার সঙ্গে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও পরিবারে স্মরণ করা হয়।নুরুল ইসলাম বাবুর মতে, এসব সম্পর্ক তাঁর কাছে কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয় নয়, বরং পরিবারের সামাজিক ইতিহাসের অংশ।

প্রবাসজীবন ও শিকড়ের টান দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নুরুল ইসলাম বাবুর জীবনে ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, প্রবাসীরা শুধু নিজের পরিবার নয়, নিজ এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন।

এই ভাবনা থেকেই বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি, ইউএসএসহ বিভিন্ন প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে মানুষের জন্য সহযোগিতা সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।নুরুল ইসলাম বাবুর দাবি, তাঁর পরিবার বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের আর্থিক সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসা ও ওষুধের সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের বিয়ে ও পারিবারিক প্রয়োজনে সহযোগিতা, খাদ্য ও শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনেও বিভিন্ন সময়ে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি মনে করেন, মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার ধরনও ভিন্ন হয়। কারও প্রয়োজন অর্থ, কারও ওষুধ, কারও শিক্ষা উপকরণ, আবার কারও প্রয়োজন খাবার কিংবা জরুরি সহায়তা।।

নুরুল ইসলাম বাবুর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র শিক্ষা।তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ সেট বই দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার সুযোগ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার, আলমারি, সিসি ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহনেও বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তাঁর বিশ্বাস, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়।ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশ।

বিভিন্ন সময়ে মসজিদের জন্য ফ্যান, মাইক, অজুখানা, পায়খানা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে চরহাজারী ইসমাইল পণ্ডিত মসজিদের মাইক ক্রয়ের জন্য ৭০ হাজার টাকা সহযোগিতার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া চরহাজারী মহিলা মাদ্রাসা, হাজারীরহাট আলিম মাদ্রাসা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান নুরুল ইসলাম বাবু।

মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান বিষয় হিসেবে দেখেন না নুরুল ইসলাম বাবু।তাঁর দেওয়া তথ্যে, স্থানীয় একটি হিন্দু মন্দিরের প্রয়োজনেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং একজন অসহায় হিন্দু বিধবা নারীর পাশেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি বলেন, মানুষের কষ্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টাতরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রেও পরিবারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ছোট ভাই তৌফিকুল ইসলাম তারেকের নেতৃত্বে শাপলা ডগি স্পোর্টিং ক্লাব তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।নুরুল ইসলাম বাবুর মতে, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ শেখাতে পারে। তরুণরা যেন মাদক, গ্যাং কালচার, হানাহানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও ভালো কাজে যুক্ত হয়,এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

নুরুল ইসলাম বাবুর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।তিনি জানান, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। চরহাজারীতে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।।

নির্বাচনী সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি।স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমে সমন্বয়মূলক দায়িত্ব পালনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পরও অল্প সময়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বাবুর মতে, নেতৃত্ব শুধু সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।একজন কর্মীর কথা শোনা, তাঁর পরিবারের খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো, সম্মান দিয়ে কথা বলা এবং সাংগঠনিক প্রয়োজনে সহযোগিতা করাও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তাঁর ভাষায়, দলের কর্মী শুধু কর্মসূচির সময়ের মানুষ নন,তাঁরও পরিবার, সমস্যা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

সম্প্রতি চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি বড় মিছিল নিয়ে বসুরহাট বাজারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন নুরুল ইসলাম বাবু।তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।চরহাজারী ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত দুস্থ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, এখানে ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে।চরহাজারীর নদীভাঙ নপ্রবণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও উঠে এসেছে তাঁর জীবনকথায়।বিশেষ করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতপুরের অংশবিশেষসহ নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন বলে জানান।

তাঁর মতে, নদীভাঙন শুধু মাটি হারানোর ঘটনা নয়, এর সঙ্গে একটি পরিবারের বসতভিটা, স্মৃতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে।তিনি জানান, নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নির্দেশনায় তাঁর তত্ত্বাবধানে রহমতপুরের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগের কাজ চলমান রয়েছে।

তবে নদীভাঙনকে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান নুরুল ইসলাম বাবু।চরহাজারীতে মাটি কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ ও মানুষের বসতভিটা রক্ষায় আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের মান নিয়েও কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।বসুরহাট থেকে তেল্লারঘাটসহ বিভিন্ন সড়কের নির্মাণকাজের মান, নির্মাণসামগ্রী ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তা নির্মাণ নয়, এমন অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন মানুষের কাজে আসে।ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়লে চরহাজারীর উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম বাবু।

তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,রাস্তা ও কালভার্টের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা,সরকারি উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতার পক্ষে থাকা,প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পৌঁছাতে সহযোগিতা করা,দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা,তরুণদের খেলাধুলা ও দক্ষতা উন্নয়নে সুযোগ সৃষ্টি,মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি,নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে কাজ করা,কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা তুলে ধরা,দুর্যোগ ও নদীভাঙনে দ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানো,ধর্ম, দল ও মতের ঊর্ধ্বে মানবিক সেবার পরিবেশ তৈরি করা,জনগণের কাছে জবাবদিহিতা বজায় রাখা।

তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়, এটি মানুষের দেওয়া দায়িত্ব।নুরুল ইসলাম বাবুর কাছে চরহাজারী শুধু একটি ইউনিয়নের নাম নয়,এটি তাঁর শিকড়।

এখানকার স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, খেলার মাঠ, নদী, রাস্তা, বাজার এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগ ও সম্পর্ক রয়েছে।তিনি চান চরহাজারীর শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাক, তরুণরা মাদক থেকে দূরে থাকুক, খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হোক, অসহায় মানুষ প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা পাক, নদীভাঙনে মানুষ যেন বসতভিটা না হারায় এবং উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত হয়।

একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।নিজেকে নিখুঁত মানুষ দাবি করেন না নুরুল ইসলাম বাবু।

নিজের ভুল ও সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।তবে পরিবার, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সবকিছু মিলিয়ে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করতে চান বলে জানান তিনি।

তাঁর বাবা নুরুল করিম মোল্লার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, ভাই তৌফিকুল ইসলাম তারেকের ক্রীড়া ও মানবিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর নিজের সামাজিক, সাংগঠনিক ও মানবিক উদ্যোগ সবকিছুর কেন্দ্রে তিনি একটি বিষয়কেই দেখতে চান মানুষের পাশে থাকা।মরহুম আলী আহাম্মদ চেয়ারম্যানের স্মৃতি তাঁকে দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।প্রবাসজীবন তাঁকে মানুষের মূল্য বুঝিয়েছে।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।আর চরহাজারীর মানুষ তাঁকে শিখিয়েছে মানুষের কাছে থাকতে হলে মানুষের পাশে থাকতে হয়।

নুরুল ইসলাম বাবুর প্রত্যাশা, কোনো একদিন তাঁর পরিচয় কোনো পদবি দিয়ে নয়, বরং মানুষের মুখে একটি সহজ বাক্যে উচ্চারিত হোক “মানুষের প্রয়োজনে নুরুল ইসলাম বাবু পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন।”

মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই প্রত্যয় নিয়েই তাঁর পথচলা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.