নুর নবী বাবুল -চার দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলার এক পরিচিত মুখ
বিশেষ প্রতিনিধি।
জীবনের পথ কখনো মসৃণ নয়। কখনো সে পথে থাকে কাঁটা, কখনো প্রতিকূলতার দেয়াল,আবার কখনো মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই হয়ে ওঠে পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে এমনই এক পথচলার নাম নুর নবী বাবুল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় এলাকায় তিনি একটি পরিচিত মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
নুর নবী বাবুল চৌধুরীর জন্ম চরহাজারী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে। তাঁর পিতা শফি উল্লাহ এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কৈশোরেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। তাঁর নিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে পথচলা শুরু করেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব রাজনীতির হাতেখড়ি নেওয়ার পর ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন নুর নবী বাবুল । তিনি আবু মাঝিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে যুবদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালে চরহাজারী যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথাও তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।কৈশোরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সময়ের সঙ্গে পরিণত হয় সাংগঠনিক নেতৃত্বে।
২০০৩ সালে তিনি চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান। ২০১০ সাল থেকে তিনি চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথ সবসময় সহজ ছিল না। বাবুল চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাঁকে একাধিকবার মামলা ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং রাজনৈতিক কারণে প্রায় চারবার কারাবরণও করেছেন। ১৯৯৯ ও ২০১৮ সালে রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এসব ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন অধ্যায়ের অংশ বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর পদচারণা। ২০০৩ সালে ৩ নং চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সেই নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে সামনে রেখে এবারও তিনি জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩ নং চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের সেবা করতে চান বলে জানিয়েছেন নুর নবী বাবুল চৌধুরী।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর-রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল পদ-পদবির বিষয় নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার একটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানান বাবুল চৌধুরী। স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।তিনি আবু মাঝিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান।
একইভাবে আবু মাঝিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবু মাঝিরহাট একাডেমি ও স্থানীয় হাফেজিয়া মাদরাসার সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথাও তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। আবু মাঝিরহাট সাইদিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া তিনি আবু মাঝিরহাট শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি ছিলেন। এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।
কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে প্রয়াত বিএনপি নেতা ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নুর নবী বাবুল চৌধুরী নিজেকে তাঁর নিবেদিত কর্মী, বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় সময় মওদুদ আহমদের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার কথা তিনি বলেন।
বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে গত প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকার কথা জানান তিনি।
বর্তমান সময়ে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলহাজ মো. ফখরুল ইসলাম-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান বাবুল চৌধুরী।
দলের প্রয়োজনে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়াকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দিকে ফিরে তাকালে নুর নবী বাবুলের গল্পে যেমন রয়েছে সংগ্রাম, তেমনি রয়েছে দায়িত্ব ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের নানা অধ্যায়। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া পথচলা তাঁকে নিয়ে এসেছে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বে।
এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাও তাঁর জীবনপথের অংশ।
এখন তাঁর দৃষ্টি আগামী দিনের দিকে। ৩ নং চরহাজারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জনগণের সেবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন।
রাজনীতির মাঠে সময় বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়, আসে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু মানুষের কাছে থেকে দীর্ঘদিন পথ চলার অভিজ্ঞতা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে আলাদা এক অধ্যায় তৈরি করে।
নুর নবী বাবুল রাজনৈতিক জীবনও তেমনই এক দীর্ঘ পথচলার গল্প,যেখানে কৈশোরের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক নেতৃত্ব, মামলা-হামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা,সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিস্তৃত ক্যানভাস।
চার দশকের সেই পথচলার শেষে তাঁর সামনে এখন নতুন স্বপ্ন-চরহাজারীর মানুষের পাশে থেকে, তাঁদের কল্যাণে কাজ করে, ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বের মাধ্যমে জনসেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment