অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনায় চরপার্বতীর সাবেক চেয়ারম্যান"নুরুল আমিন"
চরপার্বতীতে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা; চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নুরুল আমিনের প্রতিশ্রুতি-আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গঠন, মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চায়ের দোকান, বাজার ও পাড়া-মহল্লায় চলছে কথাবার্তা। এই আলোচনায় উঠে আসছে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নুরুল আমিন একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করা তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য। অতীতের মতো বর্তমানেও মানুষের পাশে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চান তিনি।
নুরুল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৯ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মরহুম এন্তাজ এবং মা জাহিদা খাতুন। ছয় ভাই ও দুই বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা নুরুল আমিন ব্যক্তিজীবনে চার কন্যা ও দুই পুত্রসন্তানের জনক।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। একই বছর জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। প্রায় আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে চৌধুরীহাটে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
নুরুল আমিন জানান, ১৯৮৮ সালে চরপার্বতী ইউনিয়নের বি-ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালের চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিলেও সে সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওবায়দুল হক খান।এরপর ১৯৯৭ সালেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বলে জানান তিনি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই সময়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।তাঁর সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর অবস্থান নির্ধারণে ভোটারদের মনোভাব, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততারাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন নুরুল আমিন।
তিনি জানান, চৌধুরীহাট এন্তেজামিয়া আলিম মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া চৌধুরীহাট বি-জামান উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সদস্য এবং শিক্ষানুরাগী হিসেবে যুক্ত থাকার কথাও জানান তিনি।এ ছাড়া চৌধুরীহাট বাজার কমিটি, চৌধুরীহাট বোর্ড অফিস মসজিদ, নিজ এলাকার মসজিদ এবং একটি কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে সভাপতির দায়িত্বে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নুরুল আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখাকে তিনি সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।
েদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন নুরুল আমিন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতার পরও তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন বলে জানান।নিজের রাজনৈতিক জীবনে মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কথাও তুলে ধরেন।
নুরুল আমিনের দাবি, ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন এবং প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, ভোট কারচুপির কারণে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা জানান তিনি। ওই সময় নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আসন্ন চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নুরুল আমিন নির্বাচিত হলে ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া তাঁর পরিকল্পনার অংশ।
বিশেষ করে মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে কাজ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে সালিশ-বাণিজ্য বন্ধ করে ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছভাবে সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নুরুল আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের সব নাগরিকের জন্য সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বরাদ্দের অর্থে কোনো ধরনের হেরফের না করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তাঁর পরিকল্পনায় ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষা। অতীতেও মানুষের পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি, ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকতে চাই।”তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কী ধরনের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সময়সীমা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
সামনে কী ভাবছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান?
চরপার্বতী ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।
তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কেবল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার, সেবাপ্রাপ্তি এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।চরপার্বতী ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চললেও দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পূর্ববর্তী জনপ্রতিনিধিত্ব এবং শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্যদিকে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব নাগরিকের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, চরপার্বতী ইউনিয়নের নির্বাচনী আলোচনায় সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের নাম উঠে আসছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অবস্থান কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, ভোটারদের মনোভাব এবং নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment