সন্তানের সঠিক পথচলায় অভিভাবকদের সচেতনতা অপরিহার্য: সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ
শাহাদাত হোসেন
নব জ্যোতি ডেস্ক:
কলেজে ভর্তির পর সন্তান বড় হয়ে গেছে এমন ধারণা থেকে অনেক অভিভাবক সন্তানের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি আগের মতো নজর রাখেন না। অথচ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের দুই বছর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতা, নিয়মিত খোঁজখবর ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
এমন মন্তব্য করেছেন,নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ বলেন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সন্তানদের লালন-পালন ও পড়াশোনার প্রতি নজর রাখার পর উচ্চমাধ্যমিক বা ইন্টারমিডিয়েটের দুই বছরকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। কলেজের তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনতার সুযোগ পেয়ে কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যেতে পারে। তাই এ সময়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া শিক্ষার্থীদের কলেজে অ্যান্ড্রয়েড ফোন না নেওয়াই ভালো। বাড়িতেও মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত। প্রয়োজন ও বিনোদনের জন্য সীমিত সময়, যেমন এক থেকে দুই ঘণ্টা, মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
কলেজে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এই শিক্ষক। তাঁর ভাষ্য, অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত ও টিফিনের পেছনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করলেও নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয় না। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় বই-খাতা ছাড়াই কলেজে আসে। আবার অনেকে এক-দুইটি ক্লাস করার পর কলেজ থেকে বের হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও শিক্ষাজীবন তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নুর মোহাম্মদ আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারে না। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ সহযোগিতা, উৎসাহ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ভালো ফলাফল করতে পারে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের গাইড করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক শাস্তির পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে, পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষকের একার পক্ষে একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীর সফলতার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই তিন পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment