৬ নং রামপুরের ৭নং ওয়ার্ডকে আধুনিক ও মাদকমুক্ত করতে চান পল্লী চিকিৎসক মাইন উদ্দিন
জনসেবার অভিজ্ঞতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা
নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং রামপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, উন্নত ও ডিজিটাল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী চিকিৎসক মাইন উদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
১৯৭৯ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং রামপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন মাইন উদ্দিন। তাঁর পিতা মরহুম ছাবিদুল হক এবং মাতা খদিজা বেগম। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। পেশাগতভাবে পল্লী চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মাইন উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি বামনী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাঞ্চারাম বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সেক্রেটারি এবং কোম্পানীগঞ্জ ডাক্তার ও ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
বাঞ্চারাম বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে তিনি দারুল উলুম রাজ্জাকিয়া মাদরাসার সেক্রেটারি ছিলেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্বে রয়েছেন।
এ ছাড়া নিজ এলাকার মসজিদ কমিটির সদস্য এবং চান মিয়া জামে মসজিদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ৭ নং ওয়ার্ডের সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও সম্পৃক্ত রয়েছেন মাইন উদ্দিন।
এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করা, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চান বলে জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাইন উদ্দিনের। ২০১৬ সালে তিনি রামপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দাবি, ওই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেলেও অনিয়ম ও কারসাজির কারণে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
মাইন উদ্দিন জানান, ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাঁর প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাঁর ধারণা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে ৭নং ওয়ার্ডের কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান মাইন উদ্দিন। তাঁর মতে, একটি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য উন্নত সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক উন্নত হলে মানুষের চলাচল, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সহজ হবে।
তিনি বলেন, ওয়ার্ডের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বরাদ্দের অর্থ যেন প্রকৃত উন্নয়নকাজে ব্যয় হয় এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিতে চান।
এলাকার প্রয়োজন চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই প্রার্থী। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও জুয়া বন্ধে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।তাঁর মতে, এসব সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিবার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গঠনমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মাইন উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দল থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। তবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম ও সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, ওয়ার্ডের প্রতিটি বাসিন্দার ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিক থাকবেন।এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা তাঁর।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং প্রবাসে থাকা রামপুরের ভোটারদের প্রতিও সহযোগিতা ও সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মাইন উদ্দিনের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকার মানুষের সেবা করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ, সুশাসন এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ৭ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য এলাকায় রূপ দেওয়া।তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কথা শোনা, তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।সব মিলিয়ে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রামপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান পল্লী চিকিৎসক মাইন উদ্দিন।
আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন পেলে জনসেবা, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তবে তাঁর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারি বরাদ্দের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment