দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ ও প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওমর ফারুকের নতুন প্রত্যাশা
চরপার্বতীর ৯ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়নের বসির সারেং বাড়িতে জন্ম নেওয়া মোঃ ওমর ফারুকের রাজনৈতিক পথচলা শুরু কৈশোরেই। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রতিকূল সময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ প্রবাসজীবনের স্মৃতি নিয়ে তিনি এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদেও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গল্পে রয়েছে শৈশবের রাজনৈতিক অনুরাগ, দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, প্রতিকূল পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসে থেকেও এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার প্রচেষ্টা। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের সেবা করাই এখন তাঁর ঘোষিত প্রত্যাশা।
১৯৭৯ সালে জন্ম নেওয়া মোঃ ওমর ফারুকের পিতা মোঃ জামাল উদ্দিন এবং মাতা ছেমনা বেগম। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। পরিবারের সামাজিক পরিবেশ ও এলাকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে কৈশোরে থাকতেই তিনি তৎকালীন বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে শুরু করেন। গ্রামের মানুষের মুখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে দলটির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আরও বিস্তৃত হয়।চরপার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান তিনি।এভাবেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি গড়ে ওঠে।
ওমর ফারুকের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং পরিবার ও বাড়িঘর হামলার শিকার হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০টি মামলার মুখোমুখি হন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বাড়িঘরে চারবার হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন।
এসব ঘটনার কারণে একপর্যায়ে নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তা ও জীবিকার তাগিদে তাঁকে প্রবাসে পাড়ি জমাতে হয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবন তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে যেমন নতুন বাস্তবতা তৈরি করে, তেমনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।
ওমর ফারুক জানান, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার ধারাবাহিকতায় তিনি ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দাবি, দলের প্রতিকূল সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পরও ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা অর্জনের চেয়ে দলের কর্মীদের পাশে থাকাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের ও পরিবারের আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি হামলার শিকার হন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দুই দফায় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকলেও চরপার্বতীর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন বলে জানান ওমর ফারুক। তাঁর দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ থেকে আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসহায় কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছেন।
পাশাপাশি ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়ন প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।তাঁর মতে, প্রবাসজীবন তাঁকে মানুষের জীবনসংগ্রাম, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা স্থানীয় মানুষের সমস্যা বোঝা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চান তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার পর এবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ওমর ফারুক। আসন্ন নির্বাচনে ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সমস্যা শোনা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান। ওয়ার্ডের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদেও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফারুক।ইউপি সদস্য পদে প্রার্থিতা এবং যুবদলের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করার পরিকল্পনার বিষয়টি তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করার বিষয়টিও সাংগঠনকে তিনি জানান দিয়েছেন।
ওমর ফারুকের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনায় যেমন রয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পৃক্ততার কথা, তেমনি রয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রবাসে জীবন গড়ার অভিজ্ঞতা। এখন তাঁর সামনে নতুন লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া।
রাজনৈতিক পরিচয় একজন ব্যক্তিকে পরিচিতি দিতে পারে, কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ। ওমর ফারুকের ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে তাঁর কাজের পরিকল্পনা, অতীতের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা।
চরপার্বতীর ৯ নং ওয়ার্ডে তাঁর প্রার্থিতার ঘোষণাকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের জনমত তৈরি হয়, তা নির্ভর করবে স্থানীয় মানুষের মূল্যায়ন ও নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ওমর ফারুক এখন নতুন পরিচয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন-এটাই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক যাত্রার মূল বার্তা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment