দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চরপার্বতীর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী "একরামুল হক মিলন"
রাজনীতি, জনসেবা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিন দশকের অভিজ্ঞতা; মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আধুনিক চরপার্বতী গড়ার প্রত্যয়
নব জ্যোতি নিউজ ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একরামুল হক মিলন। কৈশোর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে প্রায় তিন দশকের পথচলায় দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।চরপার্বতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড থেকে তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়া একরামুল হক মিলন স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়।
তাঁর ভাষ্য, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।একরামুল হক মিলনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় তরুন বয়সে।
১৯৯৬ সালে তিনি কেটিএম হাট শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যুবদলের সভাপতি, চরপার্বতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি; বরং স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ২০০১ সাল। সে সময় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা থাকলেও তৎকালীন বিএনপির জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অনুরোধে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বলে জানান।পরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
২০১৬ সালে দল তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।একরামুল হক মিলন জানান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সান্নিধ্যে থেকে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল ইসলামের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কাজ করছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চরপার্বতী ইউনিয়নে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তাঁর নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সম্পর্কে মিলনের বক্তব্য, ব্যক্তিগত পদ-পদবির চেয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কথা তুলে ধরেন একরামুল হক মিলন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংসদ সদস্যের মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে চরপার্বতী ইউনিয়নের সড়ক উন্নয়নের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন।এ ছাড়া তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি চরপার্বতী ইউনিয়নের নয়টি মসজিদে মোট তিন লাখ টাকা এবং একটি মন্দিরে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের দক্ষিণাঞ্চলে ছোট ফেনী নদীর ভাঙন মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, এ কাজে এমপি সাহেব ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লাখ টাকা এবং সরকারি তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি ৪০০টি জিওব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুসাপুর ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পাওয়ায় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিলন।
তাঁর মতে, নদীভাঙন রোধ, উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী একরামুল হক মিলন। সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভার মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চরপার্বতী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে ১১ জনের প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে তিনি জানান।দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে এবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।মিলন বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত এলাকার মানুষের সহযোগিতা পাবেন।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চরপার্বতী ইউনিয়নকে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন একরামুল হক মিলন। পাশাপাশি একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও নাগরিক সেবাবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং দল-মতনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা।
মিলনের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নির্বাচিত হওয়া নয়; বরং মানুষের প্রয়োজন বোঝা, সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। নির্বাচিত হলে তিনি সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একরামুল হক মিলন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে অতীতেও তিনি ব্যক্তিগত নির্বাচনী আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।তাঁর মতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল শক্তি হলো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংগঠনিক ঐক্য এবং জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতা।
তাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি দলীয় নেতা-কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে চরপার্বতীর উন্নয়নে কাজ করতে চান।
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়া কিংবা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়টি এখনো ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি এবং নতুন করে ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে রেখে নিজের প্রার্থিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন একরামুল হক মিলন।
চরপার্বতীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার যে অঙ্গীকার তিনি করছেন, তা বাস্তবায়নে তাঁর পরিকল্পনা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডই হবে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment