ক্লোজার ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর ধসের পর নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) বেশ কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১. সরকারি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) পুনর্বাসন পদক্ষেপ
বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ (কৃষি প্রণোদনা): ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে রবিশস্য (যেমন: সরিষা, চীনাবাদাম, মুগডাল, ফেলন ডাল ও শীতকালীন শাকসবজি) এবং বোরো ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে।
লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাত সম্প্রসারণ: নোনা পানি প্রবেশের কারণে যেসকল জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোতে উচ্চফলনশীল ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাতের ধান (যেমন: ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯৯ এবং বিনা ধান-১০) চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিনামূল্যে এই প্রদর্শনী প্লটসমূহ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ: ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং জমিভিত্তিক বিকল্প ফসল নির্বাচনের জন্য কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছেন।
২. পানি সেচ ও সেচ অবকাঠামো পুনরুদ্ধার (BADC ও পানি উন্নয়ন বোর্ড)
ক্যানেল ড্রেজিং ও লোনা পানি নিষ্কাশন: অভ্যন্তরীণ খাল ও ক্যানেলগুলোতে জমা হওয়া লোনা পানি বের করে দেওয়া এবং উজানের মিষ্টি পানি ধরে রাখার জন্য ছোট ছোট ক্যানেল পুনরায় খনন ও পরিষ্কার করা হচ্ছে।
মোবাইল সেচ পাম্প স্থাপন: শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এবং জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে BADC-এর পক্ষ থেকে কিছু জায়গায় জরুরি সেচ পাম্প সরবরাহ করা হচ্ছে।
৩. আর্থিক ও ঋণ সহায়তা
কৃষি ঋণ পুনঃতফসিল ও নতুন ঋণ প্রদান: সরকারি কৃষি ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের রেয়াতি সুদে (স্বল্প সুদে) নতুন কৃষি ঋণ প্রদান করা হচ্ছে এবং পূর্বের বকেয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা শিথিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জরুরি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: অতিদরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য ‘খাদ্যের বিনিময়ে কাজ’ (Kabakha) এবং ‘ভিজিএফ’ (VGF) কার্ডের মাধ্যমে চাল ও খাদ্য সহায়তা প্রদান জোরদার করা হয়েছে।
৪. দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উদ্যোগ
স্থায়ী মেগা রেগুলেটর নির্মাণ: কৃষিজমিতে নোনা পানি ঢোকা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ৭৫১ কোটি টাকার নতুন মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment