ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : জনসেবা ও উন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে চরহাজারী ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী ইমাম হোসেন সোহেল মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার সংকলন মুছাপুর ক্লোজার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ উপকুলীয় অবকাঠামো ক্লোজার ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা ঘুষ-দুর্নীতি, মাদক-মব ও চাঁদাবাজি : বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও জাতির উন্নতি ছোটগল্প: নিহা ও একটি অদৃশ্য উপাখ্যান। একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ সন্তানের সঠিক পথচলায় অভিভাবকদের সচেতনতা অপরিহার্য: সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ আমার মেয়ে। কবি আল হেলাল। কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা।

মুছাপুর ক্লোজার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ উপকুলীয় অবকাঠামো

মুছাপুর ক্লোজার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ উপকুলীয় অবকাঠামো

মুছাপুর ক্লোজার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ উপকুলীয় অবকাঠামো

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি জমি রক্ষায় মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অবকাঠামো।

১. নির্মাণ ইতিহাস

​প্রেক্সাপট ও পটভূমি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী ফেনীর সোনাগাজী অঞ্চলের বিশাল জনপদ দীর্ঘকাল ধরে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের নোনা জলের প্লাবন এবং তীব্র নদী ভাঙনের মুখোমুখি ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছোট ফেনী নদী ও ডাকাতিয়া নদীর পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতো।

​প্রকল্প বাস্তবায়ন: নদী ভাঙন রোধ এবং সমুদ্রের নোনা পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (PaWoBo)-এর অধীনে ‘ছোট ফেনী নদী ড্রেজিং ও মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

রেগুলেটর নির্মাণ: এর অধীনে ২৩ ভেন্ট (কপাট) বিশিষ্ট একটি আধুনিক রেগুলেটর এবং ক্রস-ড্যাম বা ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

কয়েক বছরের কাজের পর ২০১৬ সালের দিকে এর মূল নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

​২. ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

​নদী ভাঙন প্রতিরোধ: ছোট ফেনী নদী ও মেঘনার মোহনায় নির্মিত এই ক্লোজারটির কারণে কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাগাজীর বিস্তীর্ণ উপকূলীয় সীমানা নদী ভাঙন থেকে সুরক্ষা পায়।

​কৃষি ও লোনা পানি নিয়ন্ত্রণ: জোয়ারের সময় সমুদ্রের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে ফসলি জমি নষ্ট করা রোধ করে। মিষ্টি পানির আধার গড়ে তোলায় আশপাশের হাজার হাজার একর জমিতে আমন ও বোরো ধানের বাম্পার ফলন সম্ভব হয়।

​জলাবদ্ধতা নিরসন: ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরের মাধ্যমে বর্ষাকালে উজানের বিপুল পরিমাণ পানি দ্রুত সাগরে নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়, যা নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিশাল অংশের জলাবদ্ধতা দূর করে।

​চর জাগা ও ভূমির প্রসার: ক্লোজার বাঁধ নির্মাণের ফলে পলি জমে আশেপাশের এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠে, যা পরবর্তীতে ম্যানগ্রোভ ঝাউবন ও কেওড়া বনে পরিণত হয়।

​পর্যটন বিকাশ: নদীর মোহনা, ঝাউবন, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য এবং রেগুলেটরের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে মুছাপুর ক্লোজার ও সংলগ্ন সি-বিচ এলাকাটি নোয়াখালীর অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

​৩. বর্তমান অবস্থা ও সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ

​২০২৪ সালের অগাস্টে ধস ও ক্ষতি: ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে দেখা দেওয়া অভূতপূর্ব আকস্মিক বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা প্রচণ্ড পানির তোড়ে মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজার বাঁধের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে যায়। পানির তীব্র চাপে রেগুলেটরের কাঠামো ও গাইড বাঁধ ভেঙে যায়।

​বর্তমান নদী ভাঙন ঝুঁকি: ক্লোজার ও রেগুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ছোট ফেনী নদীর মোহনায় পুনরায় জোয়ার-ভাটার প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লোকালয়ে লোনা পানি ঢোকা ও উপকূলীয় এলাকা নদী ভাঙনের নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।

​পুনর্নির্মাণ উদ্যোগ: পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন করে টেকসই পুনর্নির্মাণ ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সাময়িক ও স্থায়ী সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.