মুমিনের জীবনে পরীক্ষা আসবেই, ধৈর্য ও আদর্শে অবিচল থাকতে হবে: ইসহাক খন্দকার
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
মুমিনের জীবনে অতীতেও পরীক্ষা এসেছে, বর্তমানে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। এসব পরীক্ষা মোকাবিলায় ধৈর্য, সহনশীলতা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোম্পানীগঞ্জ অঞ্চল আয়োজিত ইউনিয়ন সভাপতি, সেক্রেটারি ও ওয়ার্ড সভাপতিদের শিক্ষা শিবির-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা শিবিরে কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সেনবাগ উপজেলা এবং বসুরহাট পৌরসভার সাংগঠনিক পর্যায়ের প্রায় ২৮০ জন দায়িত্বশীল অংশ নেন।
প্রধান অতিথি তাঁর আলোচনায় মুমিনের জীবনে পরীক্ষার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, আদর্শিক দৃঢ়তা বজায় রাখা এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থানে অবিচল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শামছুল আরেফিন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও টিসি ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন মানিক। তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের টিসির নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রশিক্ষণের প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি এবং অর্জিত জ্ঞান সাংগঠনিক কাজে প্রয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়েও আলোচনা করেন।
শিক্ষা শিবিরে দারসুল কোরআন পেশ করেন ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওমর ফারুক। ‘আখিরাতের ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায়’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি পরকালীন জবাবদিহির চেতনা ধারণ, নৈতিক জীবন গঠন এবং সৎকর্মের মাধ্যমে মুক্তির পথ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দীন ‘সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি অর্জনে করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, দায়িত্বশীলদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের ভিত্তি সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহাম্মদ ‘দাওয়াত ইলাল্লাহ ও দায়ী ইলাল্লাহ’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি দাওয়াতি কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নোয়াখালী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও যুব বিভাগের সভাপতি রাশেদ বিল্লাহ আলম ‘এসো প্রজন্ম গড়ি: জ্ঞান অর্জন করি, সৎকর্ম করি, সুস্থ-সুন্দর-উন্নত জীবন গড়ি’ শীর্ষক আলোচনায় তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
শিক্ষা শিবিরের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমির ও মেয়র পদপ্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসাইন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান। এ ছাড়া সেনবাগ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াসিন করিম এবং কবিরহাট উপজেলা জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম মিলন সহযোগিতা করেন।
অনুষ্ঠানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বসুরহাট পৌরসভা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্য এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতারা অংশ নেন।
শিক্ষা শিবিরে দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আদর্শিক প্রশিক্ষণ, দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নৈতিকতা চর্চা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment