গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সহজে বিচার পাবেন গ্রামের মানুষ: নোয়াখালীতে সমন্বয় সভা
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার-প্রচারণা জোরদারে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সহজলভ্য ও স্বল্প ব্যয়ের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গ্রাম আদালতের কার্যক্রম প্রত্যাশিত পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
নোয়াখালীর এএসপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত ওপেন হাউস, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং সভায় গ্রাম আদালত বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিচারিক সেবা। গ্রাম আদালত সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন, এতে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আরও সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষ এ সেবা থেকে বেশি উপকৃত হবেন।
জেলা তথ্য কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্যমান এজলাস যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে আরও সচেতন করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জানান, জুমার খুতবায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে প্রচারণার জন্য ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীর বিভিন্ন মসজিদে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এ প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ মানুষের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে।
গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী মামুন সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে গ্রাম আদালতকে সম্পৃক্ত করাই এ সভার মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ের মানুষকে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে। পরে তিনি প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা আরও বেগবান করতে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ইতিবাচক মানসিকতা ও সক্রিয় ভূমিকা থাকলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment