কবি কুতুবউদ্দিনের একগুচ্ছ সনেট কবিতা ।
জলফোঁটা ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
তুমিতো দেখেছ তন্ময়ে, বিশ্রামহীন চোখে
কতখানি জল মিশে গেছে এই বালুকার পথে
জাগতিক সুখ , জমেছে যা- দিয়ে গেছি এই রথে
বিবর্ণ ব্যথা কতখানি- ছুঁয়ে গেছে এই দুখে ।
মেঘেরা যখন- জড়ো হয়, অনশন তোলে রোজ
জলফোঁটা গুলো ছেড়ে দাও- সব অভিমান ভুলে
যে জল দিয়েছি- রাত জানে, ব্যাথার আকাশ খুলে
জলগুলো যার- দাও তুলে, কেউ রাখে তার খোঁজ ?।
তিলে তিলে গড়া ভরাজল আজ খরার মরুকা
জীবন যেখানে অনলস দিয়ে যায় উপেক্ষা
কার আশ্রমে এত ব্যথা- জমা করে যায় রাখা ?
বলে দাও তুমি, আছে কোথা- সেই ময়ূখ তারকা ।
এক মহাকাল হেঁটে হেঁটে, যখন এলাম নীড়ে
ক্লান্ত হৃদয় তোমাতেই- পেয়েছে জীবন ফিরে ।
১৫-০৯-২০২৬ ইং
১১: ৫৯ এ এম
নিশিথে তোমার ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
নিশিথে তোমার জলগুলো গলে পড়ে
অচেনা আলোক, খরবায়ু দোল খায়
মেঘের আড়ালে অলস চাঁদ লুকায়
জলের জমিন নদীর প্রবাহ গড়ে ।
তুমি নেমে পড়- নির্জনে আলাপনে
থোকায় থোকায় তুলে নাও অনুগামী
নক্ষত্র সে- চেনে অন্তর্যামী
ক্ষত্রিয় জন ভুলে থাকে মোহমনে।
কামুক ঘুমেরা ডিভাইস রোষানলে
তন্দ্রার চোখ দেখেনি রাতের ঘুম
ঘুম যেন আজ, ঢোল-তবলার ধুম
কেউ কেউ জাগে কষ্ট লুকায় জলে।
যদি পায় আলো রাতের অমানিশায়
সুনিপুণ ধ্যানে থাকে সুখের নেশায়।
১২.০৯.২০২৬ ইং
০৩:০৭ এ এম
শোষকের ঠোঁট ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
শবাধার কাঁধে- স্বজন করে বিলাপ
নিরুপায় চোখে মৃত্যুর দিকে ছোটে
তপ্ত মরুতে জ্বলন্ত খোসা ফোটে
লোভের নেশায় তোলে না কেউ আলাপ ।
প্রতিদিন ঝরে, গোলাপ জুঁই মালতী
রক্তজবারা, খসে পড়ে নিরবধি
সহাস্যে ছোড়ে মারণাস্ত্র অবধি
ভয়ডরে তারা করে ব্যর্থ আকুতি ।
ক্ষুধার আকাল—এখানে ছাইভস্ম,
কারো কারো চোখে, বেঁচে থাকার মিনতি
বিপন্ন যারা, ভোগে করুণ নিয়তি
সভ্যতার বুকে, তুলে দেয় সর্বস্ব ।
শোষকের ঠোঁটে, জাগে না মায়ার প্রীতি
চোখ তুলে দেখে- আরশের অধিপতি ।
২৫.০৮.২০২৬ ইং
০৪:২০ এ এম
পুণ্যের পাতা ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
গাধার খাটুনি শেষে সাঁঝালোকে ফিরি
দরজায় ঠুক করে, ঢুকি নিরিবিলি
পাতিহাঁস ফ্যাক ফ্যাক- করে কিলিবিলি
বেদনার জল ফোঁটা, ঝরে ঝিরিঝিরি ।
এদিকে ওদিকে চায়- দু-চোখ পলকে
রাত যত গভীর হয়, ভান ধরি ঘুমের
কামনার চোখে নেই - সহসা চুমের
জিকিরের ঢেউ তুলি - ক্ষমার সড়কে।
মহাকাল চষে তুমি, খোঁজ দিবালোকে
এখানে নেই সুখেরা- শুধু দুঃখ নদী
বেদনার রশি টেনে পার হও যদি
মহাকাল নিয়ে যাবে, সুখ স্বপ্নালোকে।
পরিশেষে আছে যত- হিসেবের খাতা
জমা করি তাঁর হাতে, পুণ্যের পাতায়।
১৭-০৮-২০২৬ ইং
০৩:৩৯ এ এম ।
জুলাইয়ের খোঁজে ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
জুলাই আমি খুঁজছি আজও “আবু সাঈদের” রক্তে
দিশ হারিয়ে জুলাই খুঁজি- রাষ্ট্রযন্ত্রের তখতে
জুলাই আমি খুঁজছি এখন পানি-পানি “মুগ্ধে”
জুলাই আমি দেখছি আবার, আধিপত্যের যুদ্ধে ।
জুলাই যখন প্রাচীর গড়ে, লক্ষ প্রাণের ডাকে
লাশের সারি পড়েছিল- রাজপথের ওই বাঁকে
তোমরা যখন জেল-হাজতে মরছ ধুঁকে ধুঁকে
কিশোর-যুবা লড়েছিল সাহস রেখে বুকে ।
জুলাই এখন দেখায় শুধু অলস রোদের গন্ধ
জুলাই যেন চিড় ধরেছে খামচে ধরা মন্ধ ।
জীবন দিয়ে জুলাই এনে- দিলো যারা মুক্তি
তাদের চোখে ভয় দেখিয়ে- করিস কেমন চুক্তি ?।
রক্তে কেনা জুলাই এখন খুঁজে কোথা পাই না
কেমন করে বলিস তোরা, জুলাই-সনদ চাই না ? ।
০১:১৫ এ এম
০৬.০৮.২৯২৬ ইং
শোকের ফুল ।
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ।
মনের ভেতর দুঃখ নদী চোখের ভেতর জল
রাতের বুকে আকাশ কাঁদে, বৃষ্টি টলোমল
শূন্যালোকে নিয়ন বাতি ডাগর চোখে চায়
আরণ্যকে হিমেল হাওয়া দুঃখ খুঁজে পায় ।
ছিন্নমূলের রিক্ত থালে ক্ষুধার লোনাজল
মানুষ বাঁচার স্বপ্নটুকু, আজও অবিচল।
নদীর বুকে অশ্রুস্রোতে ভাসে শোকের ফুল
দুঃখগুলো ঢেউয়ের ছলে ভাঙ্গে মনের কূল ।
জলের ভেতর আলোর ছটা, পালে সিনার ভাঁজ
কূলের খোঁজে দিশেহারা স্বপ্ন ভাঙার লাজ
পদ্মফুলের খোপার ভাঁজে শিশির খুঁজে ওম
খুঁজছি যারে ডুবসাঁতারে সেইতো দিলো ঘুম ।
তারার হাটে জোনাক-প্রদীপ ফিরে ফিরে চায়
ভোরের ডাকে একলা ঘুরে, দুঃখ কি লুকায়? ।
৩০-০৭-২০২৬ ইং
০১:০৯ এ এম
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment