ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : আলেম-লেখক কাজী সিকান্দারের ইন্তেকাল: ফখরুল ইসলাম এমপির পিআরও হিসেবে ইকবাল হোসেন মঞ্জুর নিয়োগ জনকল্যাণে নতুন প্রত্যাশা: কবি কুতুবউদ্দিনের আমন্ত্রণে জমজমাট সাহিত্য আড্ডা: 'সাংবাদিকতার আলোকযাত্রী এ.এইচ.এম.মান্নান মুন্না' কোম্পানীগঞ্জে ঈদ জামাত শেষে মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময়ে এমপি ফখরুল ইসলাম: দেশবাসী, প্রবাসী ও মাসিক নব জ্যোতি পরিবারের সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা: 'কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীতে গ্রামীনটেকের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ' মাজহাবের উদারতা বনাম রাজনীতির সুবিধাবাদ, একটি তুলনামূলক ব্যবচ্ছেদ: 'কবিরহাটে আব্দুল হালিম মানিক ট্রাস্টের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ' 'দলের সরকার নয়, দরকার দশের সরকার'

কবি কুতুবউদ্দিনের আমন্ত্রণে জমজমাট সাহিত্য আড্ডা:

কবি কুতুবউদ্দিনের আমন্ত্রণে জমজমাট সাহিত্য আড্ডা:

কবি কুতুবউদ্দিনের আমন্ত্রণে জমজমাট সাহিত্য আড্ডা:

ঈদোত্তর সন্ধ্যায় প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডা, বইমেলা ও কর্মশালার স্বপ্নে উজ্জীবিত এক অনন্য আয়োজন:

মোঃ আল এমরান:

ঈদের আনন্দ যখন ধীরে ধীরে স্থিরতায় মিশে যায়, ঠিক তখনই ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় সৃষ্টি হয় ভিন্নমাত্রার এক সাংস্কৃতিক আবহ। গত ২৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, কবি কুতুবউদ্দিনের আমন্ত্রণে আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ উদযাপন ও সাহিত্য আড্ডা।

পবিত্র আল-কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা পুরো আয়োজনকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে আবৃত করে। এটি ছিল কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে সাহিত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কবি কুতুবউদ্দিন নিজেই। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও লেখক জনাব রিন্টু আনোয়ার। তাঁর উপস্থিতি আয়োজনটিকে এনে দেয় বিশেষ মর্যাদা ও গভীরতা।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কবিরা শব্দ দিয়ে কবিতা সৃষ্টি করেন, যা সমাজ ও দেশের মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ থাকলেও অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু কবি-সাহিত্যিকরা সাধারণত নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক। সমাজ বিনির্মাণে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক নূর শাহ আজাদ, যিনি তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তোলেন।

ঈদের পরবর্তী সন্ধ্যায় উপজেলা শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততার মাঝেও এই সাহিত্যিক আয়োজন যেন এক প্রশান্তির দ্বীপ হয়ে ওঠে। নবীন ও প্রবীণ কবি, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদদের মিলনমেলায় ভরে ওঠে আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মমতায়।

উপস্থিত ছিলেন কবি ও গবেষক শাবিহ মাহমুদ, কবি শামীম পাটোয়ারি, কবি জাহাঙ্গীর সৈয়দ, কবি মোজাম্মেল, কবি রেজাউল হক হেলাল, কবি শাহাদাত হোসেন, কবি মাহবুব ই এলাহী এবং কবি ও সংগঠক মুফতি সিকান্দারসহ আরও অনেক গুণীজন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এমাম হোসেন, সাংবাদিক আলমগীর ননি, সাংবাদিক ও “নিরাপদ সড়ক চাই”-এর সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, মাসিক নব জ্যোতি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল এমরান, সাংবাদিক হাসনাত তুহিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক কামালউদ্দিন, জনপ্রিয় ইসলামিক কণ্ঠশিল্পী জুবায়ের হোসেন এবং সংগঠক মিজানুর রহমান হীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবি কুতুবউদ্দিন তাঁর সূচনা বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি দাগনভূঞায় একটি স্থায়ী বইমেলা ও সাহিত্য কর্মশালার আয়োজন করার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মননে সাহিত্যচর্চার বীজ বপন করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম। এই লক্ষ্যেই তিনি এলাকার কবি, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদদের একত্রিত করেছেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্যালাপ। কবিরা তাঁদের হৃদয়ের গভীর অনুভূতি শব্দে প্রকাশ করেন, যা উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। কেউ মানবতার কথা বলেন, কেউ তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র, আবার কেউ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখান। এই পর্বে সাহিত্যের বহুমাত্রিক দিকগুলো একসাথে ফুটে ওঠে।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সাহিত্যের গুরুত্ব ও সমাজ গঠনে কবি-লেখকদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে কবি ও লেখকদের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া

এসবই সাহিত্যিকদের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানটি প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চললেও কোথাও বিরক্তির ছাপ দেখা যায়নি। বরং প্রতিটি মুহূর্ত ছিল প্রাণবন্ত ও অর্থবহ। আলোচনার পাশাপাশি ছিল পারস্পরিক পরিচিতি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা।

উপস্থিত সকলে একমত হন,এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত এবং আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা প্রয়োজন।

সাহিত্য আড্ডাটি অনুষ্ঠিত হয় “কবিতা সকল বৈষম্যের সমাধি রচনা করে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। এই বার্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণকারীরা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সমাজ, দেশ ও বিশ্ব থেকে সকল বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতার বই এবং নিজেদের সম্পাদিত পত্রিকার সৌজন্য কপি আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে প্রদান করা হয়, যা উপস্থিতিদের মধ্যে বিশেষ আনন্দের সঞ্চার করে।

এই আয়োজনের পেছনে ছিল বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা। অনুষ্ঠানটি নিবেদন করে “নিরাপদ সড়ক চাই”, ফয়সাল ইলেকট্রনিক, সওদাগর ফার্মেসি এবং স্টারলাইন সুইটস। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দৈনিক আমার ফেনী ও সাপ্তাহিক হকার্স।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল টেক সাপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং, যারা আয়োজনটির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠান শেষে কবি কুতুবউদ্দিনের সৌজন্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায় অতিথিদের জন্য মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়। সবশেষে, সভাপতি কবি কুতুবউদ্দিন সমাপনী ঘোষণা প্রদান করেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, দাগনভূঞার এই সাহিত্য আড্ডা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়,এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক জাগরণ। এখানে মিলিত হয়েছে প্রজন্ম, বিনিময় হয়েছে ভাবনা, জন্ম নিয়েছে নতুন স্বপ্ন।

যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং পরিকল্পিত বইমেলা ও কর্মশালাগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে দাগনভূঞা একদিন সাহিত্যের এক উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে,এমন প্রত্যাশাই সকলের।

নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের সাহিত্যচর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, একটি জাতির মনন গঠনে সাহিত্যের বিকল্প নেই। আর এই মননই পারে একটি সুন্দর, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে।

দাগনভূঞার এই আয়োজন তাই শুধু একটি স্মৃতি নয়,এটি একটি প্রতিশ্রুতি, একটি সম্ভাবনা, একটি আলোর পথচলা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.