ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : দুই হাত নেই, পা-ই তার ভরসা—অদম্য রাব্বির এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ সেনবাগে এইচএসসিতে কলেজগুলোর পাসের হার ৪৮.১৪ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৫০.৫৫ শতাংশ কোম্পানীগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণের চেক ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কোম্পানীগঞ্জের আলমগীরের, দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় স্বজনরা কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ফলে তলানিতে নোয়াখালী, পাসের হার মাত্র ৩৮.৯০ শতাংশ কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%, মাদ্রাসা ৬৫.২৫% কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রবাসের স্বপ্ন থেমে গেল ইতালির সড়কে বাস-স্কুটার সংঘর্ষে প্রাণ গেল ছাগলনাইয়ার জিয়াউর রহমান টিটুর শিষ্টাচার,সার্টিফিকেট নয়, মানুষের আসল পরিচয় কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কবিতা।

তরমুজ ক্ষতি শেষে গরু চুরি-চরপার্বতীতে উদ্যোক্তা বাবুর হতাশা,নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

তরমুজ ক্ষতি শেষে গরু চুরি-চরপার্বতীতে উদ্যোক্তা বাবুর হতাশা,নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

তরমুজ ক্ষতি শেষে গরু চুরি-চরপার্বতীতে উদ্যোক্তা বাবুর হতাশা,নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:

নোয়াখালীর চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবু-একজন পরিশ্রমী কৃষক ও গরু খামারি। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত এই উদ্যোক্তা বর্তমানে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তার তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করা এবং এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু চুরির ঘটনায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি মৌলভীবাজার সংলগ্ন এলাকায়। তার পিতা মরহুম আবদুল শহীদ ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবী।

পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বাবু সবচেয়ে ছোট। ছোটবেলা থেকেই তিনি কৃষিকাজ ও গরু-ছাগল লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

যখন তার সমবয়সীরা খেলাধুলায় মেতে থাকত, তখনই তিনি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একজন উদ্যোক্তার মতো কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন দক্ষ খামারি হিসেবে।

গত ৭/৮ বছর ধরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে গরুর ব্যবসায় বিনিয়োগ করে আসছেন। বিশেষ করে রমজান শেষে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু কিনে এনে বিক্রি করেন।

এই ব্যবসার মাধ্যমে তিনি ঋণ পরিশোধ করে নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয় গরুর হাটেও তার রয়েছে সুনাম, দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে গরু কিনতে আসেন।

মৌলভীবাজার গরুর হাটে গরু ক্রয়-বিক্রিতে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন সৎ ও পরিশ্রমী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু সম্প্রতি তার জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভাগ্যের ছায়া।

চলতি মৌসুমে তিনি তরমুজ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন, কিন্তু অজ্ঞাত এক কুচক্রী মহল রাতের অন্ধকারে তার ক্ষেতের তরমুজ নষ্ট করে দেয়। এতে তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।

এই ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ভোরে তার চরাঞ্চলের খামার থেকে একটি গরু চুরি হয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।

এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবু বলেন, আমি এলাকায় বিনিয়োগ করি, সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলি। আমি কি সমাজের জন্য খারাপ মানুষ? তাহলে কেন আমার এত ক্ষতি করা হচ্ছে?

তিনি আরও বলেন, আমি কখনো কারও ক্ষতি চাইনি। যতদিন বুঝ হয়েছে, কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি। তারপরও কেন আমাকে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।

বাবু তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, অতীতে কঠিন সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও তিনি নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। বর্তমান সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন।

তার প্রশ্ন,আমি যদি সবার সঙ্গে ভালোভাবে চলি, তাহলে কি এখন আমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হবে?

এই ঘটনার পর তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তার ভাষায়,আমার আজ যে ক্ষতি হলো, তা আমি কীভাবে পুষিয়ে নেব? আমি তো এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে আমি কীভাবে ব্যবসা চালাব?

শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে ধৈর্য ধারণের শক্তি প্রার্থনা করেন এবং বলেন, তার কথায় যদি কারও মনে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা একজন উদ্যোক্তার মনোবল ভেঙে দেয় এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

চরপার্বতীর এই ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতির গল্প নয়,এটি গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নও তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে,এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.