ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন সুমন সভাপতি, সোহেল সম্পাদক মতাদর্শের মুখোশ ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি। সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বসুরহাটে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু: নব জ্যোতির নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার, থানায় জিডি: ঈমানের আলোয় পথচলা' মানবতা ও আধ্যাত্মিকতার কবি কুতুবউদ্দিনকে ঘিরে সাহিত্য সন্ধ্যা: সমাজ, রাষ্ট্র ও মূল্যবোধের সংকট,আত্মসমালোচনা ও উত্তরণের সন্ধানে: স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি ফখরুল ইসলামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতঃ হারানো স্বপ্নের ফিরে আসা,মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ভাঙনের ছোট ফেনী নদী, ভাঙা জীবনের আর্তনাদ, কোম্পানীগঞ্জের দুই ওয়ার্ডের দীর্ঘ বেদনার কাহিনী:

মতাদর্শের মুখোশ ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি।

মতাদর্শের মুখোশ ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি।

মতাদর্শের মুখোশ ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি।

সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিভিন্ন মতাদর্শ, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় সংগঠন উপস্থিতি একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা।

বহুমতের সহাবস্থানই গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। ভিন্নমত, ভিন্ন চিন্তা ও ভিন্ন দর্শনের মধ্য দিয়েই একটি জাতি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সভ্যতার পথে অগ্রসর হয়।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে আদর্শের চর্চার পরিবর্তে গড়ে ওঠে অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি।

ব্যক্তি স্বাধীন চিন্তার পরিবর্তে দলীয় অবস্থানকে সত্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যায়। মতাদর্শের নামে সৃষ্টি করা হয় এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রশ্ন করা অপরাধ, সমালোচনা বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভিন্নমত শত্রুতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

একটি সুস্থ রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের মূল শক্তি হওয়া উচিত জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ। কিন্তু যখন কোনো গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থানকে সর্বোচ্চ সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন সেখানে আদর্শের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ব্যক্তি-পূজা, নেতৃত্বের অন্ধ অনুসরণ এবং ক্ষমতার প্রতি মোহ।

ফলে তৈরি হয় এমন এক প্রজন্ম, যারা যুক্তির চেয়ে আবেগে পরিচালিত হয় এবং বিবেকের চেয়ে আনুগত্যকে বড় মনে করে।স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে ও সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা এখনও অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

একে অপরকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া, ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখা এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে আদর্শিক সংঘাতে রূপ দেওয়ার প্রবণতা দেশ ও সমাজকে আরও বিভক্ত করেছে। এর ফলে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি দুর্বল হয়েছে।

প্রতিটি শাসনামলেই কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকে। তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক শক্তির ছায়াতলে অবস্থান করে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রভাব ও ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা করে। রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা জনগণের কল্যাণ তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং ক্ষমতার বলয়কে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করাই তাদের লক্ষ্য।

এ ধরনের চক্র কখনও রাজনৈতিক পরিচয়ে, কখনও সামাজিক প্রভাবের আড়ালে, আবার কখনও সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় আবরণে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।এসব গোষ্ঠীর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো,তাদের কর্মকাণ্ড থেকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজ,দেশের কোনো অংশই পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না।

তারা বিভাজন সৃষ্টি করে, সন্দেহ ছড়ায়, চরিত্রহনন করে এবং মতভেদের সুযোগ নিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।একটি সভ্য সমাজের জন্য প্রয়োজন মুক্ত চিন্তার বিকাশ, যুক্তিবাদী চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান। কোনো ব্যক্তি, দল বা সংগঠনই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

অন্ধ অনুসরণের পরিবর্তে প্রয়োজন সচেতন মূল্যায়ন,ব্যক্তি-পূজার পরিবর্তে প্রয়োজন নীতির প্রতি শ্রদ্ধা,বিভাজনের পরিবর্তে প্রয়োজন সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান।ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে না, সে সমাজ অগ্রগতির পথ হারায়।

আর যে জাতি ব্যক্তিকে আদর্শের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, সে জাতি একসময় সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হয়। তাই সময়ের দাবি হলো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সংকীর্ণ বলয় থেকে বের হয়ে মানবকল্যাণ, ন্যায়বিচার এবং সত্যের পক্ষে একটি দায়িত্বশীল সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি নয়,মানুষের কল্যাণই হওয়া উচিত সকল আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

মোঃ আল এমরান

সম্পাদক ও প্রকাশক,

মাসিক নব জ্যোতি পএিকা।

নোয়াখালী।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.