ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : আমার মেয়ে। কবি আল হেলাল। কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সহজে বিচার পাবেন গ্রামের মানুষ: নোয়াখালীতে সমন্বয় সভা কবি কুতুবউদ্দিনের একগুচ্ছ সনেট কবিতা । একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫২ কোটি টাকা অনুমোদন কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে তিন দশকের পথ চলায় জাহিদুর রহমান রাজন কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা কোম্পানীগঞ্জে টিআর-কাবিখা-ভিজিএফে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ফেসবুকে বিএনপি নেতার ‘সতর্কবার্তা’ চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন ও জনবল নিয়োগের দাবি সেনবাগে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা।

কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা।

[9/24, 9:06 AM] Ibrahim khalil: তুমি আমার স্বপ্নের নায়িকা

--------------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

তুমি আমার ভোরের আলো, তুমিই সাঁঝের তারা,

তোমায় ছাড়া এই জীবনে মন যে দিশাহারা।

তুমি আমার চোখের ভাষা, ঠোঁটের মিষ্টি হাসি,

কতটা যে তোমায় চাই, কতটা ভালোবাসি!

​স্বপ্নের সেই রাজকন্যা তুমি, রূপের ঝরনাধারা,

তোমার ছোঁয়ায় হৃদয় মাঝে জাগে নতুন তারা।

জোছনা রাতের স্নিগ্ধ হাওয়ায় তোমার ছায়াই ভাসে,

হাজার তারার মাঝে যেন তুমিই থাকো পাশে।

​চোখের ভাষায় কাব্য লেখো, সুর তোলো এই মনে,

তোমায় নিয়ে সাজাই তরী ভালোবাসার বনে।

তুমি আমার প্রথম পাওয়া, শেষ চাওয়ারই রূপ,

তুমি হীনা এই পৃথিবী বড্ড নীরব, চুপ।

​তুমি আমার স্বপ্নের নায়িকা, তুমিই আমার প্রাণ,

তোমার নামেই শেষ হবে মোর ভালোবাসার গান।

[9/24, 9:08 AM] Ibrahim khalil: আনন্দ অশ্রু

------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

অঝোর ধারায় ঝরছে আজ

নয়ন ভরা জল,

তবে এ তো নয় কোনো বেদনার ছায়াতল।

​এক ফোটা জল পলকে এসে

মুছিয়ে দিল দুঃখের শেষ,

দু হাত বাড়াল আলোর দুয়ার

ঘুচিয়ে মনের সকল ক্লেশ।

​যে কান্নায় হাসি লুকিয়ে থাকে

যে জলে জাগে নতুন আশা,

সেই তো নদীর মতো বয়ে চলে—

অনন্ত এক ভালোবাসা।

​বুকের ভিতর জমে থাকা

যত ছিল গভীর ক্ষত,

আনন্দের এই নীরব ধারায়

সেসব ধুয়ে গেল মেঘের মতো।

[9/24, 9:09 AM] Ibrahim khalil: সুজন সখি

----------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​আম কুড়ানোর দিনগুলি আজ হারিয়ে গেছে কোন সুদূরে,

সখি তোর নামটি আজও বাজে রে মোর বাঁশীর সুরে।

চলতি পথে হঠাৎ করে থমকে দাঁড়ায় স্মৃতির নদী,

তুই কি আজও অপেক্ষাতে?

ফিরে আসতিস আবার যদি!

​শৈশব আর কৈশোরেরই ধুলোমাখা রঙিন পথ,

একসাথে তো চলত দুজন, থামত না যে প্রেমের রথ।

সুজন হয়ে রাখব ধরে তোর দুখানি ভালোবাসার হাত,

তোর হাসিতেই জীবন আমার, তুই ছাড়া যে কালবোশেখী রাত।

​তুই তো আমার সুজন সখি, তুই যে আমার পরানপাখি,

তোর প্রেমেতেই বাঁধা পড়ুক আমার এ দুই তৃষ্ণার্ত আঁখি।

যুগের পর যুগ কেটে যাক, বদলাবে না এ বন্ধন,

তোর হাসিতেই বাঁচুক সখি, আমার এ দূর পরানের স্পন্দন।

[9/24, 9:10 AM] Ibrahim khalil: বিক্ষোভ

------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

বুকের গহীনে সুপ্ত যে ক্ষোভ, হঠাৎ জ্বালিয়ে আলো,

মিছিলের স্রোতে মিলিয়ে দিয়েছে সমস্ত আঁধার-কালো।

অন্যায়ের সাথে আপস করব না—এই যার অঙ্গীকার,

পায়ের তলায় কাঁপছে শোষকের পাকা দেয়াল ও পার।

​বিক্ষোভ মানে শুধু চিৎকার নয়, বিক্ষোভ মানে আশা,

অধিকার ফিরে পাওয়ার কঠিন শপথ আর ভালোবাসা।

রক্তে আগুন, চোখে দাবানল, বজ্রকণ্ঠের সুর—

অন্যায়ের রাত শেষ হয়ে যাবে, ভোর আর নয় দূর।

​হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলো, মিছিলে মিলিয়ে গলা,

ভয় ভুলে আজ বুক পেতে দেওয়া, সামনে এগিয়ে চলা।

এই রাজপথ সাক্ষী রবে সত্যের জয়ের দিনে,

ঝড়ের শেষে আসবে আলো, মুক্তি আসবে চিনে।

[9/24, 9:10 AM] Ibrahim khalil: স্নেহ

-------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

স্নেহের পরশ মৃদু হাওয়া হয়ে

জুড়ায় পরানখানি,

জগতের যত কোলাহল মাঝে

একটুকু মিঠে বাণী।

​বিনা শর্তে যে ভুলত্রুটি সব

বুকে টেনে নিতে জানে,

স্নেহ সে তো এক বহমান নদী

সদা বয়ে চলে প্রাণে।

​কোনো অভিমান, কোনো দাবি নেই,

শুধু আগলে রাখার টান,

স্নেহের ছায়ায় জুড়িয়ে যায় যে

ক্লান্ত অবশ প্রাণ।

​তুচ্ছ জীবন ধন্য যে হয়

এমন ভালোবাসায়,

স্নেহের দীপটি জ্বলুক হাজার

স্নিগ্ধ প্রদীপ-আশায়।

[9/26, 12:10 AM] Ibrahim khalil: মুছাপুর সি বিচ

---------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

সমুদ্র আর নদীর মোহনায়,

যেথায় মিলেছে নোনা ও স্বাদু জল,

মুছাপুর সি বিচ ডাকে তোমায়,

একান্ত শান্ত, রূপসী এক আঁচল।

​ঝাউবনের ছায়ায় বাতাসের গুঞ্জন,

বয়ে আনে স্নিগ্ধ নদীর হাওয়া,

মেঘনা ও ফেনীর কোলাকুলি তীরে,

খুঁজে পাওয়া যায় এক অদ্ভুত শান্ত ছাওয়া।

​জোয়ারের জলে যখন রূপ নেয় রূপালী,

ভাটার টানে জেগে ওঠে সোনালী চড়া,

বালুচরে মিহি পায়ের ছাপ রেখে,

মনে হয় বিশ্বটা যেন এক পরম সুখে ঘরা।

​গোধূলি আলোয় যখন ডোবে লাল সূর্য,

সোনালী নদীর বুকে জ্বলে ওঠে জ্যোতি,

কোলাহলহীন শান্ত মুছাপুর বলে,

"হে পথিক, আমি প্রকৃতির এক মায়াবী শ্রী।"

[9/26, 12:10 AM] Ibrahim khalil: গাঙচিল

------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঘনা-ঘেঁষা দখিন হাওয়ায় রূপসী এক নাম,

কোম্পানীগঞ্জের বুকে হাসে আমার মুছাপুর গ্রাম।

গাঙচিলের ওই ডানার ছায়ায় নদী জাগায় তান,

ভাটি অঞ্চলের পলিমাটিতে গাঁথা মোদের প্রাণ।

​জোয়ার-ভাটার খেলায় কাটে নদীর তীর ঘেঁষে,

মুছাপুর রেগুলেটর দাঁড়ায় নদীর পাড়ে এসে।

সবুজ বন আর নদীর বাঁকে মেটে মনের ক্ষুধা,

প্রকৃতির এই রূপটি যেন বিধাতারি সুধা।

​সাঁঝের বাতি জ্বললে পড়ে চরের বুকে আলো,

পলিমাটির এই মানুষগুলো মানুষ বড়ই ভালো।

মুছাপুরের চরে বসে গাঙচিলেরা গায়,

এই গাঙচিল আর নদী ঘেরা রূপ কার না মনে ভায়!

[9/26, 8:00 AM] Ibrahim khalil: বসুরহাট শহর

--------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

ছোট ফেনী নদীর তীরে বসুরহাট ধায়,

পুরানো দিনের কথা বাতাসে ভাসায়।

এককালে ছিল ইছাখালী নামে খ্যাত,

গাঙের তোড়ে কত স্মৃতি ধুলোয় মিলিত।

​বসুমিয়া নামে এক জমিদার ছিলেন,

তাঁরই নামাঙ্কিত এই হাট গড়িছেন।

কালের খেয়ায় তাই 'বসুরহাট' নাম,

নোয়াখালীর প্রাণ এই অপরূপ ধাম।

​সৈয়দপুর আর রামপুর গাঁয়ের কোল,

জোয়ারের তোড়ে বাজে ভাঙ্গনের রোল।

তবুও বাঁচে মানচিত্র, মানুষ থাকে জেগে,

দুঃখ ভুলিয়ে তারা সুখে চলে মেগে।

​বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এই রূপ,

ইতিহাসে ঢাকা তার ইতিহাস চুপ।

কোম্পানীগঞ্জের এই বসুরহাট শহর,

বুকে ধরে আছে বহু স্মৃতির প্রহর।

ছোট গাঙের পলিমাটিতে সুর আঁকা এক ঠাঁই,

বসুরহাটের মেঠো পথে মন বারেবার ধায়।

ধানের খেতে হাওয়ার খেলা, সবুজ পাতায় রোদ্দুর,

সন্ধ্যা নদীর বুক ঘেঁষে গান ভেসে যায় কত দূর।

​হাটের দিনে কোলাহল আর চেনা মুখদের ভিড়,

চা-দোকানের খবরের ঝড়ে মেটে বুকের পীর।

নোয়াখালীর স্নেহের ভাষায় ভালোবাসার টান,

বসুরহাটের মাটি জুড়ে স্মৃতির কলতান।

​পদ্মা-মেঘনার হাওয়ায় দোলে ভালোবাসার মেলা,

আজিজ হাটের মোড় পেরিয়ে কাটে অলস বেলা।

অতীত-বর্তমানকে বেঁধে পথ চলে যে গাঁও,

বসুরহাট, তোমার বুকেই শান্তি তুমি দাও।

[9/27, 9:14 AM] Ibrahim khalil: গুচ্ছগ্রামের ভালোবাসা

-------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

সবুজে ঘেরা ছোট্ট সীমানায়,

একটি নতুন ভোরের ইশারা ছড়ায়।

স্বপ্নগুলো বাঁধলো বাসা ছাদটি মেলে উপরে,

নতুন করে বাঁচার আলো গুচ্ছগ্রামের কুঁড়ে।

​হারিয়ে যাওয়া আশাগুলো আবার পেল ঠিকানা,

যেথায় নেই আর নদীভাঙার কোনো বেদনা।

উঠোনজুড়ে হাসির খিলখিল, একান্নবর্তী মন,

ছোট্ট ঘরেই বাঁধে সুখের রঙিন এক ভুবন।

​মাটির মেঠো সুরের টানে কাজ লেগেছে হাতে,

এক সাথে সব মানুষগুলো গল্প বলে রাতে।

এক টুকরো নিজের জমি, মাথা গোঁজার ঠাঁই,

গুচ্ছগ্রামের এই ভালোবাসার কোনো তুলনা নাই।

​একই সুতোয় বাঁধা সবার সুখের যে সংসার,

ভেদাভেদ ভুলে হাসুক জীবন বারবার।

ভেজা মাটি, বাঁশের বেড়া, আর টিনের একখানি চাল,

গুচ্ছগ্রামের ছোট উঠোনে কাটে অভাবের কাল।

একচিলতে আশ্রয়ে বাঁধা কত হাজারো স্বপ্ন-আশা,

অভাবের ঘরেও ফুটে থাকে একটুখানি ভালোবাসা।

​সকাল হতেই নদীর বাতাসে ভেসে আসে দূর গান,

কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে খেটে খাওয়া সব প্রাণ।

কারো হাতে জাল, কারো কাঁধে কোদাল, কারো বা ভ্যান,

কষ্টে মোড়ানো জীবনের মাঝে লুকিয়ে অগাধ মান।

​একই উঠোনে সুখ-দুঃখের গল্প জমায় সবাই,

একজনের বিপদে অন্যজন হাত বাড়িয়ে দেয় ভাই।

হাঁস-মুরগির প্যাঁকপ্যাঁকানি, শিশুদের কলরোল,

বিকালে বটতলায় জমে ওঠে কথা আর আড্ডার দোল।

​ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন টিনের চালে পড়ে টিপটিপ,

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ে জ্বলে আশার মিটিমিটি দীপ।

নিজেদের জমি বলতে কিছু নেই, তবু তো আছে এক ভিটে,

গুচ্ছগ্রামের মানুষগুলো বাঁচে জীবনের চরম অম্ল-মিঠে।

[9/27, 9:15 AM] Ibrahim khalil: কোম্পানীগঞ্জ

--------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঘনা আর সুরমার কলতানে জাগা,

এক নদীমাতৃক প্রাচীন ভূখণ্ড,

পলির বুকে জন্ম নেওয়া কোম্পানীগঞ্জ,

ইতিহাসের পাতায় এক চির উজ্জ্বল খণ্ড।

​ঐতিহাসিক ভোলাগঞ্জের পাথুরে প্রান্তরে,

ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারায় ভেসে আসে গান,

শত শত বছর ধরে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা

পাহাড়, নদী আর মেহনতী মানুষের প্রাণ।

​প্রাচীন কালে খাসিয়া রাজ্য আর জৈন্তিয়ার কোল,

কিংবদন্তির ছায়ায় ঢাকা সবুজ আচল,

বৃটিশ আমলেই গোড়াপত্তন ব্যবসার নতুন পথ,

নৌকা আর বজরায় চলতো বাণিজ্যের রথ।

​কোম্পানীর সেই যুগে চলতো বাণিজ্যের মেলা,

হিজল-করচের বনে সূর্য ডুবতো শেষ বেলা।

নদীপথ ধরে আসতো বণিক আর শ্রমিকের দল,

পাথর আর বাশের হাটে জমতো মানুষের কোলাহল।

​৭১-এর রক্তঝরা মুক্তিযুদ্ধেও,

এই মাটি রেখেছিল সাহসের অনন্য ছাপ,

সীমান্তের বুকে দাঁড়িয়ে লড়েছিল বীর সন্তান,

মুছে দিতে পরাধীনতার গভীর অভিশাপ।

​কালের খেয়ায় বদলেছে রূপ, বেড়েছে নগরের আলো,

তবুও ধলাইর বুকে পাথর তোলার সুর আজো লাগে ভালো।

সুরমা, পিয়াইন আর ধলাইর তীরে আঁকা এই ইতিহাস,

কোম্পানীগঞ্জ রূপসী বাংলার চিরন্তন এক বিশ্বাস।

[9/27, 9:16 AM] Ibrahim khalil: সুবর্নচরের ধুলিকনা

---------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঘনা নদীর হাওয়ায় ঝোলে সোনালী ধানের শিস,

সবুজ চরে ভোরের আলোয় জাগে সুবর্ণচর ডিস।

নদীর বুকে জেগে ওঠা পলিমাটির দেহা,

পরিশ্রমী মানুষের ভালোবাসার নেহা।

​যেথায় রাখাল বাঁশি বাজায় মহিষের বাথানে,

রোদের ঝিলিক আঁকি বুকি তরমুজের ঐ খানে।

জোয়ার-ভাটায় বয়ে চলা জীবনের সংগ্রাম,

সবুজ দ্বীপের বুকে গাঁথা সুবর্ণচর নাম।

​

ধানের ক্ষেতে বাতাস খেলে, মেঘনার কোল ঘেঁষে,

সোনার ফসল হেসে ওঠে এই মাটিরই বেশে।

ঝড়-তুফানের সাথে লড়ে শক্ত যাদের বুক,

সুবর্ণচরের ধূলিকণায় লুকিয়ে তাদের সুখ।

[9/27, 9:16 AM] Ibrahim khalil: চরএলাহির রূপকথা

-----------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​মেঘনার বুকে পলি জমে জমে

গড়ে ওঠে নতুন দেশ,

সবুজের কোলে সোনার ফসল

কখনও হয় না শেষ।

চরএলাহি সে তো সাহসের নাম,

নদীর গানে জাগে ভোর,

ভাঙন আর গড়ার গল্পে

বাঁধা এ মাটির ডোর।

​সকালে ভাসে জালের তরী,

রাত্রে তারার মেলা,

ঝড়-তুফানের সাথে চলে যার

একলা জীবনখেলা।

নোনা বাতাসে স্বপ্নের ঘ্রাণ,

মেহনতি মানুষের গান,

জোয়ারের টানে বুক বেঁধে রাখা

একমুঠো পলি-প্রাণ।

​এক পাশে নদী এক পাশে মাঠ,

সবুজে মেখেছে কায়া,

চরএলাহি চিরদিন রুক

মেঘনার বুকভরা ছায়া।

[9/28, 7:38 AM] Ibrahim khalil: চরপার্বতী

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

নদীভাঙা চরের বুকে জেগে ওঠা আশা,

চরপার্বতী—তোমার নামেই জড়িয়ে ভালোবাসা।

মেঘনা আর ফেনী নদীর হাওয়ার মৃদু দোলে,

বপন করা স্বপ্নগুলো সবুজের বুকে দোলে।

​ভোরবিহানে রাখাল যখন মাঠে নিয়ে যায় গরু,

রোদের আলোয় চকচক করে পলিমাটির মেঠো সরু।

কৃষাণ ভাইয়ের ঘামের ফোঁটায় সোনালী ধান হাসে,

সবুজ ধানের গন্ধ ভেসে বাতাসজুড়ে ভাসে।

​ঝড়তুফানে লড়ে যাওয়া শক্ত মানুষের ঘর,

সংগ্রামেই জীবন যাদের, তারাই আপন পর।

অভাব-অনটন সয়েও মুখে স্নিগ্ধ মৃদু হাসি,

চরপার্বতী, তোমার ধুলো তাই তো ভালোবাসি।

​সন্ধ্যা নামলে নদীর ধারে জোনাক জ্বলে আলো,

বুকের ভেতর জড়িয়ে রাখা স্মৃতিগুলো ভালো।

যুগের পর যুগ টিকে থাক এই পলির আঁচল ধরে,

আমার রূপসী চরপার্বতী চিরকাল রুক প্রানের পরে।

[9/28, 7:38 AM] Ibrahim khalil: চরকাঁকড়া

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

শ্যামল চরে দোলে ধান, নদীর ধারে গান,

চরকাঁকড়া তোমার পানে জুড়ায় মন ও প্রাণ।

একদিকে তার নদী-নালা, অন্যপাশে চর,

সবুজ পাতায় ছাওয়া আঁকা সহজ-সুন্দর ঘর।

​মেঠো পথের বাঁকে বাঁকে বয়ে চলে হাওয়া,

সোনার রোদে ঝলমলিয়ে মেটায় মনের পাওয়া।

কৃষক ভাইয়ের মেহনতে পলিমাটির সুবাস,

চরকাঁকড়ার বুকে জাগে নতুন আলোর আশ।

​মেঘনা-গাঙের কলতানে কাটে নিঝুম রাত,

সকাল হলেই সোনালী রোদ বাড়ায় দুটো হাত।

ভালোবাসার বন্ধনেতে বাঁধা এ রূপ রূপসী,

চরকাঁকড়া, তোমার রুপে চিরকাল আমি বাঁশী

[9/28, 7:38 AM] Ibrahim khalil: বাংলাবাজার ব্রিজ

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঠোপথের শেষ প্রান্তে যেখানে এসে নদী মেশে,

নদী আর ডাঙার ভালোবাসায় বাংলাবাজার ব্রিজ হাসে।

খেয়া পারাপারের সেই দিনগুলো আজ স্মৃতি হয়ে গেছে দূর,

কংক্রিটের গায়ে এখন বাজে নদীর কলতান, নতুন সুর।

​ভাটির টানে জল বয়ে যায়, উপরে ছুটে চাকার খেলা,

সাঁঝের বাতি আলো জ্বালিয়ে দূর করে সব অন্ধভেলা।

এপার-ওপার যুক্ত হলো, ঘুচে গেল যত দূরত্ব,

বাংলাবাজার ব্রিজ যেন এক মেলবন্ধনের জয়ালোক।

​বাতাসে ওড়ে নদীর ঘ্রাণ, ব্রিজের ওপর থমকে দাঁড়ায় মন,

এক পাশে শান্ত জল, অন্য পাশে দূর গ্রামের নীল প্রাঙ্গণ।

পথিক এসে দাঁড়িয়ে বলে, "ওগো নদীর বুনো বাতাস,

তোর ছোঁয়ায় ধুয়ে যাক ক্লান্তি, জুড়িয়ে যাক এ নীল আকাশ।"

​হাজার মানুষের গল্প বয়ে ব্রিজ দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ,

নদীর বুকে এঁকে দিয়ে তার ছায়ার এক রঙিন ছাপ।

মেঘনার কোলে জেগে থাকে শান্ত এক গাঁ,

সবুজে ঘেরা পথে পথে মেঠো ছায়া তা।

তারই মাঝে রূপ মেলে সোনাগাজী ধাম,

ঐতিহ্যে আর প্রেমে গাঁথা তার নামটি অনন্য নাম।

​নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাবাজার ব্রিজ,

দুই তীরেরে বাঁধিয়াছে স্নেহের শক্ত নিজ।

কত পথিকের গল্প শোনে, কত স্মৃতির মেলা,

নদীর স্রোতে ভেসে যায় রূপালী রোদের খেলা।

​

বড় ফেনীর স্নিগ্ধ হাওয়া গায়ে মাখে এসে,

জোয়ার-ভাটায় কত জীবন রঙ মেখে যায় হেসে।

বিকেল হলে সেতুর গায় জমে নতুন আলো,

সন্ধ্যা নামলে শান্ত নদী দেখতে লাগে ভালো।

​দুই পারের এই প্রাণের মিলন, ইতিহাসের সাক্ষী,

দূর দূরান্তের মন কেড়ে নেয় স্নিগ্ধ রূপের পাখি।

সোনাগাজীর বুকে তুমি এক অপরূপ ছবি,

বাংলাবাজার ব্রিজ যেন এক নদীর গাঁথা কবি।

[9/28, 7:39 AM] Ibrahim khalil: চরকচ্ছপিয়া

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

নদীর তীরে জাগছে চর,

মাটির সোঁদা গন্ধ,

চরকচ্ছপিয়া জুড়ে দোলে

হাওয়ার সুর ও ছন্দ।

​সবুজ ঘাসে রোদ মেখেছে,

হাঁসের কলতান,

মেঘনার বুকে সূর্য ডোবে,

পাখির মিষ্টি গান।

​ধানের ক্ষেতে বাতাসের ঢেউ,

মাঝির ভাটিয়ালি,

মেঠো পথে হেঁটে চলে

গাঁয়ের রাঙা বালি।

​শান্ত দিঘি, শাপলা ফুল,

রাতের শান্ত ছায়া,

চরকচ্ছপিয়া মন ভোলায়—

এক অশেষ মায়ার কায়া।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.