কোম্পানীগঞ্জে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিল ১,৭০০ শিক্ষার্থী
শাহাদাত হোসেন
নব জ্যোতি ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা চলাকালে বসুরহাট একাডেমি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। এ সময় তিনি পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
কেন্দ্র পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন স্বপন, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন চৌধুরী, বসুরহাট একাডেমির পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ, সহ-সভাপতি প্রফেসর আবুল বাসার এবং সদস্য আফতাব আহমেদ বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
খাজা আবুল খায়ের বৃত্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং বসুরহাট একাডেমির পরিচালনা পরিষদের সহযোগিতায় এ বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মরহুম খাজা আবুল খায়েরের মহৎ আদর্শকে স্মরণীয় করে রাখা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বসুরহাট একাডেমি, টি অ্যান্ড টি রোড এবং বসুরহাট আবদুল হালিম করোনেশন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের নির্ধারিত সিলেবাসের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাস্টার আমীর হোসেন বিএসসি জানান, এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতি শ্রেণিতে ২০ জন করে মোট ১২০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
বৃত্তির অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে আয়োজক সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারীরা প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ স্থান অর্জনকারীরা প্রত্যেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে। অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারীরা ২ হাজার ৫০০ টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীরা ২ হাজার টাকা এবং একাদশ থেকে বিংশ স্থান অর্জনকারীরা ১ হাজার ৫০০ টাকা করে বৃত্তি পাবে।
বৃত্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অরবিন্দ ভৌমিককে সভাপতি, প্রফেসর আবুল বাসারকে সহ-সভাপতি, ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক এবং আমীর হোসেনকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ ও ২৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ।
আয়োজকেরা জানান, এ বৃত্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment