"চরপার্বতীর বুকে মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রীড়া, করুণা ও স্বপ্নযাত্রার মহাকাব্য"
নদীবিধৌত জনপদের তরুণদের জাগরণ, সংগ্রাম, প্রতিজ্ঞা ও আলোর উত্থান :
নব জ্যোতি অনলাইন ফিচার:
নদীর বুক থেকে উঠে আসা এক আলোর মশাল
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী,
যে জনপদের জন্ম নদীর বুকে, লোনা বাতাসে, দুঃশাসিত ভাঙনের ভিতরেও আছে জীবন গড়ার অদম্য শক্তি।
নদীর মতোই এ জনপদের মানুষের স্বভাব,
কখনো ফেনিয়ে ওঠা,কখনো নিস্তব্ধ,আবার কখনো যোদ্ধার মতো সব প্রতিকূলতা ভেঙে পথ তৈরি করা।
এই জনপদের তরুণেরা বিশ্বাস করত,যেখানে নদীর জল আছে, সেখানে জীবন আছে,আর যেখানে তরুণ আছে, সেখানে আশা।
এ আশা থেকেই জন্ম নেয়, মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাব,একটি নাম, যা ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে
একটি জনপদের চেতনা, সেবার আলোকস্তম্ভ,
আর মানবতার নির্মল বাতিঘর।
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি।নতুন বছরের প্রথম দিনের প্রথম আলো যখন চরপার্বতীর মাটিতে পড়ে সেই আলোর সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নেয় একটি সংগঠন, একটি স্বপ্ন, একটি যাত্রা।
যে ক্লাবের নামকরনের পেছনে ছিলেন,সৌদি আরব প্রবাসী আলা উদ্দিন মুন্নাএবং আব্দুর রহিম হৃদয়।
তাদের বিশ্বাস ছিল, একটি তরুণ দল যদি সৎ থেকে কাজ করে,তবে পুরো জনপদের ভাগ্য বদলে যেতে পারে।
ক্লাবটি শুরু হয় খুব ছোটভাবে দুই বা একজন তরুণ নিয়ে।কিন্তু স্বপ্ন ছিল বিশাল।
তারা বুঝেছিল মানুষকে সাহায্য করা, সমাজকে সচেতন করা,ক্রীড়ার মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা।
এটাই হবে তাদের প্রথম দায়িত্ব।এভাবেই শুরু হয় মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাবের মানবিক মহাকাব্য।
চরপার্বতী এমন এক প্রাকৃতিক জনপদ যেখানে নদী যেমন জীবন দেয়,ঠিক তেমনি নিয়ে যায় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।তবুও মানুষের মনে আছে অসীম স্থিতিস্থাপকতা।
সেই মানুষগুলোর জন্য কিছু করার তাড়নায়
তরুণেরা হাত বাড়িয়ে দিল।কারণ তারা বিশ্বাস করত
যেখানে মানুষ আছে, সেখানে আলো পৌঁছাতেই হবে।
তাদের স্বপ্ন শুধু একটি ক্লাব গড়া নয়,বরং একটি জনপদকে নতুন করে সাজানো,এবং তার প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের স্রোতে যুক্ত করা।
মসজিদে সেবার আলো নীরব দানশীলতার সোনালি রেখা, সামাজিক সেবার প্রথম পদক্ষেপ আসে
মৌলভীবাজার জামে মসজিদ থেকে।
ক্লাবটি বুঝেছিল মসজিদ একটি সমাজের কেন্দ্রবিন্দু।
এখানে মানুষের মন এক হয়,হৃদয় পরিচ্ছন্ন হয়,
আর এখান থেকেই শুরু হয়, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা।
তাই ক্লাবটি করল,ফিল্টার পানি কুলার স্থাপন,
জুতার র্যাক, খুতবার বক্তব্য মঞ্চ, দোয়ার ব্যানার
প্রতি শুক্রবার নিয়মিত মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
এই ছোট ছোট কাজগুলো শুধু কাজ নয় এগুলো মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে।কারণ ক্লাবটি দেখিয়েছে
সত্যিকারের সেবা কখনো প্রচার চায় না।
নীরবে করা সেবাই সবচেয়ে বড় সেবা।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভারতের ডেম্বু বাঁধ খুলে দিলে দু’পাড়ের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে।
চরপার্বতী, সোনাগাজীর চরসাহাভিকারী অসংখ্য পরিবার ঘরছাড়া, হতাশ, ক্ষুধার্ত, ভাসমান।
এই সময়ে ক্লাবটি দাঁড়িয়ে গেল মানুষের পাশে।
তারা শুকনো খাবার দিল,বস্ত্র দিল,ওষুধ দিল,
সাহায্য দিল নিজের সন্তানের মতো।কেউ না বললেও তারা জানত এটাই তাদের দায়িত্ব।এটাই মানবতার কাজ।
মানুষ বাঁচাতে পারাই মানবতার সর্বোচ্চ ধর্ম।এই বন্যায় ক্লাবটির ভূমিকা চরপার্বতীর মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধার আসন গড়ে দিয়েছে।
কন্যাদায় গ্রস্তদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সামাজিক মানবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনায় চরপার্বতীর ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বহু দরিদ্র পরিবার আছে,যারা কন্যার বিয়ে দিতে গিয়ে অর্থের অভাবে অসহায় হয়ে পড়ে।
মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাব তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে
একটি পরিবারের মতো।ক্লাব সদস্যরা বলেন,
মানুষের মুখে হাসি ফুটলে,তাতেই আমাদের সার্থকতা।
এছাড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য অর্থদান,জরুরি সহায়তা,মাদরাসার দরিদ্র ছাত্রদের অনুদান সব মিলিয়ে ক্লাবটি একটি মানবিক সুরক্ষা বর্ম।
ক্রীড়ার মাঠে সংগ্রাম ও সাফল্য প্রজন্মের শক্তিকে জাগানো ক্লাবটির মূলমন্ত্র 'ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল'
'স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল'এ শুধু স্লোগান নয়।এটি এক জীবন দর্শন।
ক্রীড়া শুধু শরীর গঠন করে না,তরুণদের নৈতিক শক্তি, দলগত সংহতি,শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস দেয়।
ক্লাবের মাঠে বারবার প্রমাণ মিলেছে,মাঝির টেকে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি,
বটতলা টুর্নামেন্টে সাফল্য,মিয়াজি পাড়া ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন,ক্লাবের প্রতিটি জয় যেন
চরপার্বতীর বুকের মাঠে,নতুন ফসলের সবুজের মতো উৎসারিত।
নেতৃত্ব ও সংগঠনে একতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধের পাঠ
মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাব আজ যে অবস্থানে
তার মূল কারণ শক্তিশালী নেতৃত্ব।
ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন,সভাপতি, রহমত উল্লাহ রাজু,
সিনিয়র সহ-সভাপতি, আব্দুল মোতালেব,
সাধারণ সম্পাদক, আলমগীর শিমুল এবং ১৫ সদস্যের দক্ষ কমিটি ব্যক্তির নাম পদবী যারা আছেন,
১.সভাপতি: রহমত উল্লাহ রাজু (সৌদি প্রবাসী)
২.সিনিয়র সহ-সভাপতি: আব্দুল মোতালেব(বিশিষ্ট ব্যবসায়ী)
৩.সহ-সভাপতি: সাইফুল ইসলাম(যুব উন্নয় সমাজ সেবক)
৪.সাধারণ সম্পাদক: আলমগীর শিমুল (আমেরিকান প্রবাসী)
৫.যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সারোয়ার সুৃমন(যুব উন্নয়ন সমাজসেবক)
৬.সাংগঠনিক সম্পাদক: ফিরোজ আলম(যুব উন্নয়ন সমাজসেবক)
৭.যুগ্ন সাংগঠনিক সম্পাদক: আবুল হাসনাত রাজু (তরুণ ছাত্র)
৮.কোষাধ্যক্ষ: মাহমুদুল হক সুমন(সমাজসেবক)
৯.সহ কোষাধ্যক্ষ: ওলিউল্ল্যাহ (শাহিন)
১০.দপ্তর সম্পাদক: হাফিজুল্ল্যাহ (হাফেজ)
১১.সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: আরিফুল রহমান (সাবেক সৌদি প্রবাসী)
১২.ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক: ইউসুফ হৃদয় (CTG)
১৩.সহ ক্রীড়া সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম (শুভ)
১৪.প্রচার সম্পাদক: আব্দুর রহিম(হৃদয়)(সাবেক ওমান প্রবাসী)
১৫.সহ-প্রচার সম্পাদক:ওলীউল্ল্যাহ শাহীন(তরুণ ক্রীড়ািবিদ)
প্রতিটি সদস্যের দায়িত্বে আছে উপদেশের বার্তা ব্যক্তিরা,যেমন একটি পরিবারে যেমন থাকে
অভিভাবক, তেমনই উপদেষ্টা মন্ডলী ১৭ জন,দেশ বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের হৃদয় বাঁধা এই ক্লাব ও মাটির সাথে।
উপদেষ্টা মন্ডলী দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি পরিচিতি:
১.প্রধান উপদেষ্টা :কবি আবুল হোসেন সিরাজী
২.উপদেষ্টা: সফি উল্লাহ(সরকারি চাকুরিজীবি)
৩.উপদেষ্টা: জামাল হক (বিশিষ্ট সমাজসেবক)
৪.উপদেষ্টা: কাজিম উদ্দিন(বিশিষ্ট সমাজ সেবক)
৫. উপদেষ্টা:আব্দুল কাইয়ুম(কাতার প্রবাসী)
৬.উপদেষ্টা: হৃদয় মজুমদার( রোমানিয়া প্রবাসী)
৭.উপদেষ্টা:জাহিদুল ইসলাম বিজয়(সৌদি প্রবাসী)
৮.উপদেষ্টা: আবু সাঈদ(আমেরিকান প্রবাসী)
৯.উপদেষ্টা: আবু সুফিয়ান (আমেরিকান প্রবাসী)
১০.উপদেষ্টা:নুর আলম(কুয়েত প্রবাসী)
১১.উপদেষ্টা:আবু সাঈদ(পোল্যান্ড প্রবাসী)
১২.উপদেষ্টা: হুমায়ুন কবির(ওমান প্রবাসী)
১৩. উপদেষ্টা: রিয়াজ আহমেদ রিয়াজ( ইতালি প্রবাসী)
১৪.উপদেষ্টা: সুমন (সৌদি প্রবাসী)
১৫.উপদেষ্টা: মোঃ মামুন (সৌদি প্রবাসী)
১৬.উপদেষ্টা: আরিফুল ইসলাম (শাওন)( তরুন ছাত্র ও ক্রীড়া প্রেমিক)
১৭.উপদেষ্টা:মেহেদী হাসান মিলন (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী
বিশেষ অর্থদাতা,৯ জন এরা হলো নীরব সমর্থক,
আলোর জোগান দাতা,সমাজ পরিবর্তনের কর্মী।
বিশেষ অর্থদাতাদের ব্যক্তির পরিচয়:
১.আবু সায়েদ( আমেরিকান প্রবাসী)
২.জাহিদুল ইসলাম বিজয় (সৌদি আরব প্রবাসী)
৩.আলমগীর শিমুল (আমেরিকান প্রবাসী)
৪.হৃদয় মজুমদার (রোমানিয়া প্রবাসী)
৫.আবু সাঈদ (পোল্যান্ড প্রবাসী)
৬.মাহফুজুর রহমান মাহফুজ (কুয়েত প্রবাসী)
৭.সাইফুল ইসলাম (কাতার প্রবাসী)
৮.মোঃ অন্তর (ডুবাই প্রবাসী)
৯.ইউনুস নবী (সবুজ)(সৌদি আরব প্রবাসী
মোট সদস্য ৮৮ জনের একটি বিশাল বহর ও পরিবারের একটি মানবিক সেনাবাহিনী।
নীতিমালাতে সৎ পথে চলার অটল শপথ, ক্লাবের নীতি কঠোর,কেউ মাদক গ্রহণ করলে, কেউ অসামাজিক কাজে জড়ালে, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হলে।
তার সদস্যপদ বাতিল।কারণ ক্লাবের প্রথম শর্ত
সত্য, সততা, নীতি ও মানবিকতা।
একজন মানুষকে সৎ রাখাই সমাজকে সঠিক পথে নেওয়ার প্রথম শিক্ষা।প্রতিকূলতার ঢেউ হাসাহাসি, কটূক্তি পেরিয়ে দৃঢ়তার জয়ের গল্প,
শুরুতে তাদের নিয়ে হাসাহাসি হয়েছিল।
অনেকে বলেছিল এগুলো টিকবে না।কাজ করে কি হবে?কিন্তু তারা জানত মানুষের কল্যাণের কাজ কখনো সহজ হয় না।
তবুও তারা টিকে থাকল। স্থির রইল।কারণ তাদের হৃদয়ে ছিল কারো জন্য কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
ভবিষ্যতে অসীম যাত্রার স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও প্রতিজ্ঞা
ক্লাবের স্বপ্ন দীর্ঘ, কোম্পানীগঞ্জের ১ নম্বর সামাজিক ক্রীড়া সংগঠন হওয়া। সরকারি নিবন্ধনের চেষ্টায় অব্যহত রাখা।
এ ছাড়াও রক্তদান কর্মসূচিতে সদস্যদের রক্ত দান, অসহায়দের জন্য স্থায়ী তহবিল গঠন,ক্রীড়া একাডেমি, মানবিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, পলিসি গ্রহন, তাদের এই আশা,বিশ্বাস,স্বপ্ন যত বড়, পথ তত বড়।
মানবতার পথে এগিয়ে চলা মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাব আজ শুধু একটি ক্লাব নয়,এটি একটি আলোর পথযাত্রা।একটি স্বপ্নের বহনকারী দল।একটি জনপদের আশা।
তারা বলে,আমাদের গন্তব্য বহুদূর।আমরা মানবতার পদযাত্রী,ন্যায়ের পক্ষে অটল।এ যাত্রা থামার নয়।
এ যাত্রা চিরন্তন।এ যাত্রা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
নদীবিধৌত চরপার্বতীর বুকে উঠেছে আলো নতুন,
তরুণরা জ্বেলে দিয়েছে আশা, করেছে মানবতার সংগঠন।
কবির ভাষায়,
মাঠে শিশির, খেলায় স্বপ্ন
সেই স্বপ্নে জীবন গড়ে,
সেবা যখন হৃদয়ে থাকে,
সমাজ তখন বদলায় পড়ে।
তাদের হাতেই ফুটে ওঠে
গ্রামের নতুন সকাল,
যেখানে সেবার আলো জ্বলে
সেখানে মানবতার জয়ধ্বনি কাল।
একটু দুঃখ, একটু আশা
এই নিয়েই জীবন গান,
স্পোর্টিং ক্লাব লিখছে আজ
সেবার সোনালি সন্ধান।
বন্যার জলে ডুবেছিলো গ্রাম
তবু ভাসেনি তাদের মন,
কারণ তারা জানে
মানুষ বাঁচানোই মানবতার প্রথম আইন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment