প্রাণের স্পন্দন দাবি
কবি: আবুল হোসেন সিরাজী
আমার গাঁয়ের পাশে বয়ে চলে
ছোট ফেনী নদীর ধারা,
জীবন-জীবিকার নীরব সাথি
স্বপ্ন বোনে প্রতিটি পাড়া।
ফেনী আর নোয়াখালীর বুকে
নদীটির বিস্তৃত টান,
দুই তীর জুড়ে কৃষক-জনতা,
ভরসার একটাই প্রাণ।
বিগত সরকার গড়েছিল এখানে
মুছাপুর ক্লোজার একখানি,
নদীর স্রোত বেঁধে রেখে
রক্ষার ছিল সেই কাহিনি।
কিন্তু হঠাৎ অঝোর বৃষ্টি,
বন্যার ভয়াল ঢেউ,
অসহায় ক্লোজার ভেঙে দিয়ে
সব স্বপ্ন ভাসিয়ে নিল স্রোত বয়ে গেল কেউ।
ক্লোজার ভাঙার সেই ক্ষণে
ভেঙে গেল কত ঘর-বাড়ি,
হাজার হাজার একর জমি
নদীর গর্ভে গেল হারিয়ে সারি।
দুই তীরের মানুষগুলো
আজ খোলা আকাশের নিচে,
নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই,
নেই আশ্রয়ের আলো বাঁচে।
নেই ভাত, নেই বাসস্থানের নিশ্চয়তা,
শুধু দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার,
তাদের কান্নার শব্দে আজ
ভারী আকাশ, ভারী বাতাস চারদিক পার।
এই ধ্বংসের পরিণামে
পথ হারিয়েছে জীবন,
দিশেহারা মানুষের চোখে
নিভে গেছে স্বপ্নের প্রদীপ, থমকে গেছে মন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি
এই অসহায় জনতার পানে,
ফেনী-নোয়াখালীর মানুষের
প্রাণের স্পন্দন জড়ানো আকুতি জানে।
ফেনীর সাংসদ মনোনীত
আব্দুল আউয়াল মিন্টু মহোদয়,
নোয়াখালীর সাংসদ ফখরুল ইসলাম
আপনাদের সদয় দৃষ্টি চাই নির্ভয়।
কাজীরহাট সুইচগেট, মুছাপুর ক্লোজার
আপনাদের সদিচ্ছায় হোক নির্মাণ,
যেন আর না ভোগে মানুষ
এই দুঃখ, এই দুর্ভোগ, এই প্রাণহান।
ছোট ফেনী নদীর বুকে
ছোট্ট একটি ক্লোজার যদি হয়,
তবে এই জনপদের মুখে
ফুটবে আবার বাঁচার হাসি, আশার আলো রয়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment