নুরে হিদায়তের আলোয় 'রহমানিয়া মাদরাসা'
চরপার্বতী ধর্মীয় জাগরনের দীপ্তাঙ্গন:
এক প্রান্তিক জনপদের বুক চিরে জন্ম নেয় এক আলোর ঘর,রাহমানিয়া নুরানী ও হেফজ মাদরাসা।
সাধারণ এক টিনে ঘর, কয়েকজন শিশুর কোরআন শিক্ষার চেষ্টা, আর এক মানুষের ঈমানি স্বপ্ন,সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল যাত্রা। তারপর ধীরে ধীরে মাদরাসাটি হয়ে ওঠে এই অঞ্চলের সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্র। একটি প্রতিষ্ঠান বড় হয় কেবল দেয়ালে নয়,স্বপ্নে, ত্যাগে, সৃষ্টিতে এবং একজন মানুষের অভ্যন্তরের আলোতে। রাহমানিয়ার জন্মও ঠিক তেমনই।
মানব সভ্যতা 'জ্ঞানের আলোতে'ই প্রথম জেগে
উঠেছিল।এই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে কোরআনের প্রথম নির্দেশই ছিল,পড়, আর তোমার প্রভু মহামহিময়।
যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।
(সুরা আলাক, আয়াত ৩–৪)
জ্ঞান, শিক্ষা, আলোকপ্রাপ্তি,এই তিনটি শব্দের ওপর দাঁড়িয়েই সমগ্র ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।নবী মুহাম্মদ (সা.) এর হাদিসেও শিক্ষা ও আলোর
গুরুত্বকে মহানুভবে তুলে ধরা হয়েছে,তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।(সহিহ বুখারি)
এই আয়াত হাদিসই যেন ছিল রাহমানিয়ার স্থপতি মানুষের হৃদয়ের প্রদীপ।তিনি জানতেন একদিন কলমই বদলে দেবে তার অঞ্চলের অন্ধকার।
যে জনপদে নদীর পানি কখনো সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়,শিক্ষার আলো সেখানে হাজারো শিশু ভবিষ্যতকে রক্ষা করবে।
রাহমানিয়ার প্রথম ভবন বলতে ছিল টিনের চালা, বাঁশের বেড়া, খড়ের তক্তা আর পরিষ্কার মাটির মেঝে কিন্তু সেই ঘরের ভেতর ছিল,মানুষের ভালোবাসা,
শিশুর হাসি, আর আকাশকে ছুঁয়ে ফেলার মতো স্বপ্ন।
দীর্ঘ ২১ বছর মানে,কোনো শিশুর জন্ম থেকে যুবক হয়ে ওঠা।রাহমানিয়ার পথও ঠিক তেমন।
শিক্ষা কখনো একক প্রতিষ্ঠানকে নয়,পরিবর্তিত করে একটি পুরো সমাজকে।রাহমানিয়া তার বাস্তব প্রমাণ।
একটি সমাজের নৈতিক স্থিতি কতটা দৃঢ় হবে, তা নির্ভর করে সেই সমাজে শিক্ষার আলো কতটা বিস্তার লাভ করেছে তার ওপর।
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে এমনই এক আলোকভরা বীজ বপন হয়েছিল ২০০৪ সালে।সেই বীজের নাম,রাহমানিয়া নুরানী ও হেফজ মাদরাসা।
যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছিল একটি সাধারণ টিনের ঘরে, মাত্র ২/৩ জন ছাত্রছাত্রীর পাঠদান দিয়ে।
যে প্রতিষ্ঠান আজ ২০২৩ সালে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সেরা নুরানী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।
কোনো নগরায়িত শহর নয়, কোনো বিপুল পৃষ্ঠপোষকতাও নয়,একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বপ্ন, তাঁর ঈমানী দায়বদ্ধতা ও দানশীল জীবনের উপহার এই মাদরাসা।
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের এক আলোকিত মানুষ মরহুম আলহাজ্ব মাস্টার আসলাম সাহেব।পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান,মাতা মরহুমা জোহরা বেগম।
পরিবারে দুই ভাই,দুইবোন, পিতা মাতার এই ছোট ছেলেটি বড় হয়ে যিনি পিতার নামের শেষ অংশ রহমান শব্দ দিয়ে রহমানিয়া মাদরাসা নামকরন করেন।
যাহা পিতার প্রতি পুএের, অকৃএিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যা প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক নির্দশন হয়ে থাকবে।
মরহুম মাস্টার আসলাম সাহেব, যিনি নিজের জীবনের উপার্জন, অবসরের গ্র্যাচুইটি, চিকিৎসার টাকা, জমি বিক্রির অর্থ,সবকিছু একত্র করে একটি ধর্মীয়
শিক্ষাঙ্গনের ভিত রচনা করেছিলেন।
এসব কেবল দান নয়, এগুলো ছিল আত্মার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা,ছিল পরকালীন সফলতার বিনিময়-মূল্য।
আসলাম সাহেব ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, পরহেজগার, ধর্মপ্রাণ এবং মানবিক মননের মানুষ।বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিত হয়েও তিনি ইসলামের প্রতি অগাধ প্রেম ধারণ করেছিলেন।
১৯৯৬ সালে চৌধুরী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর মনে একটাই চিন্তা যদি আল্লাহর ঘর ও দ্বীনের পথে কিছু রেখে যেতে পারি,
এই চিন্তা শুধু স্বপ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি।তিনি ১২ শতাংশ জমি দান করেন, তাঁর বড় ভাই হাফেজ মোহাম্মদ হানিফ দান করেন ৪ শতাংশ,আর তাঁর দুই ছেলে, বড়
ছেলে রফিকুল ইসলাম ২ শতাংশ ও ছোট ছেলে মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন দান করেন ২ শতাংশ জমি।
মরহুমের দানের প্রথম জমিতেই দাঁড়িয়ে যায় রাহমানিয়া মাদরাসার প্রথম কক্ষ।টিনের ছাউনি, মাটির মেঝে, আর কয়েকজন নিরলস সাধনার শিক্ষক,তবুও তিল তিল করে এগোতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
তার পুএ মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন আজ চরপার্বতী মেহেরুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।তিনি এ প্রতিবেদকে জানান,আমার বাবা
জীবনের সবটুকু দ্বীনের জন্য দান করেছেন। তাঁর পথ আমরা শুধু অনুসরণই করবো না,মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাদরাসার সেবা করে যাবো,এটাই আমাদের
অঙ্গীকার।আমাদের প্রজন্ম তার এ খেদমত
ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
২০০৪ সালে সূচনালগ্নে মাত্র কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও,আজ মোট শিক্ষার্থী ৫৫০ জন,
যার মধ্যে আবাসিকে ২০০ জন, অনাবাসিক ৩৫০ জন।নুরানী ও ইবতেদায়ী বিভাগে অধ্যয়নরত ৪২০ জন,হিফজ বিভাগে পড়ছে ১৩০ জন।
এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়,এগুলো প্রমাণ একটি ছোট গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও জাতীয় মানে পৌঁছাতে পারে,যদি নীতিনিষ্ঠা,নিয়মানুবর্তিতা, মানসম্মত পাঠদান এবং সঠিক পরিচালনা থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিচালনায় আছে নুরানী বিভাগ : যাহা বাংলাদেশ নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত,আছে হেফজ বিভাগ : বাংলাদেশ
হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত,
নুরানীতে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত, আছে ইবতেদায়ী শাখায় ৪র্থ–৫ম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান হয়।
এখানে আছে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষক নুরানীতে ক্লাস নেয় ১৩ জন শিক্ষক। হিফজ বিভাগে ক্লাস নেয় ৬ জন শিক্ষক। এ ছাড়াও আবাসিক ছাএদের দেখাশোনা,
বোডিং, ডাইনিং খাবার তদারকি সহ মোট ২১ জন স্টাফ কর্মরত আছেন। এই মানবসম্পদ একটি গ্রামের ছোট্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
মাদরাসায় আছে সুন্দর নিজস্ব ভবন,ও প্রাকৃতিক মনো রম সুন্দর পরিবেশ, একটি ৪ তলার একাডেমিক ভবন। আছে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবন।
একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য নেয়া হয়েছে আলাদা ভাড়াঘর, ক্লাসরুম গুলিতে আছে পর্যাপ্ত আসবাবপত্র।
সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারি ব্যবস্থা।
ছাএছাএীদের আছে নিদিষ্ট ড্রেসকোড, ইউনিফর্ম,
পরিচয়পত্র। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা,সব মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ।
এই সব মিলেই মাদরাসাটি ২০২৩ সালে বৃহত্তর নোয়াখালীর শ্রেষ্ঠ নুরানী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়।বাংলাদেশে হেফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত ২–৩ বছর সময় লাগে।
কিন্তু এখানকার এক ছাত্র জাহেদ মাত্র ৭ মাসে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে নজির স্থাপন করেছে।
এটি শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়,এটি প্রতিষ্ঠানটির
ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ,নিয়মিত কঠোর শৃঙ্খলা এবং উৎকৃষ্ট শিক্ষকতার বহিঃপ্রকাশ।
হিফজের ক্ষেত্রে এমন দ্রুততা কখনোই তাড়াহুড়া নয়,
এটি হয় তখনই,যখন পরিবেশ, নিয়মানুবর্তিতা ও মানসম্পন্ন তত্ত্বাবধান পরস্পরকে সমর্থন করে।
দীর্ঘ ২১ বছরে এ প্রতিষ্ঠান হতে প্রায় ৫০০ জন হাফেজ তাদের কুরআন হেফজ শেষ করেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন,এই ৫০০ জন হাফেজ আজ আলোক বাহক হয়ে সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রায় দুই হাজার নুরানী বিভাগের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানে, শিশু ছাএটি স্বচ্ছ উচ্চারণে,আদব-আখলাকসহ কোরআন শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি পেয়েছে।
এই সংখ্যার মাধ্যমে বোঝা যায় রাহমানিয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়,এটি নীরবে একটি প্রজন্ম গড়ে তুলছে।
মাদরাসার মোহতামিম ও পরিচালক আল হাজ্ব হাফেজ ইয়াসিন সাহেব এক প্রশ্নের উওরে
বলেন, বর্তমানে চরপার্বতীর এলাকায় দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।
অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই সঠিক নিয়মনীতি,নেই
একাডেমিক কাঠামো, নেই পর্যাপ্ত ভবন, নেই যোগ্য শিক্ষক।ফলে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়,পিতামাতারা নানা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে।
মাদরাসার প্রধান আরোও বলেন,শিক্ষার মানের জায়গায় কখনো আপস করিনি।নিয়ম, শৃঙ্খলা, পাঠদানে সততা এগুলোই আমাদের সাফল্যের মূলে।
এ কথা সত্য।মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যতই বাড়ুক,
মানসম্পন্ন শিক্ষা সবসময়ই টিকে থাকে,এটি দেশের শিক্ষানীতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অসংখ্যবার প্রমাণিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসাটিতে ছাএছাএীদের জন্য ড্রেস কোড,পরিচয়পত্র,উপস্থিতি, মনিটরিং,অভিভাবক যোগাযোগের সুন্দর ব্যবস্থাপনা।
বার্ষিক পুরস্কার ব্যবস্থা,কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা,আবাসিক শিক্ষার্থীদের কঠোর তত্ত্বাবধান,সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার
নজরদারি এসব মিলে শিক্ষার্থীরা এমন এক পরিবেশে বেড়ে ওঠে, যেখানে শৃঙ্খলা তাদের মজ্জাগত হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক বলেন,এখানে ভর্তি করানোর পর আমার সন্তানের আচরণ, পড়াশোনা,সবকিছুতে পরিবর্তন এসেছে। এখানে নিয়মিত পাঠদান হয়, শাসন হয়,আছে স্নেহ। এটাই যে একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের লক্ষণ।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা, এটি একটি গ্রামের প্রতিষ্ঠানের জন্য শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো।যেখানে কোনো বিলাসিতা নেই, অপচয় নেই,
রাহমানিয়ার ব্যয় হয় শিক্ষকদের বেতন, শিক্ষাসামগ্রী, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রকল্যাণ, আবাসিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে।সুস্পষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা
একটি প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি এখানে সেই ভিত্তিটি দৃঢ়।
মাদরাসায় কার্যকরী কমিটিতে আছে ১৩ জন সদস্য,সভাপতি হলেন ,২ নং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হানিফ আনসারী।
একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পরিচালনা কমিটি শুধু কাগুজে পদ নয়,এরা নীতি, দিকনির্দেশনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবকিছুর অভিভাবক।
প্রতিষ্ঠানের মোহতামিম আল হাজ্ব হাফেজ ইয়াসিন সাহেব নব জ্যোতি প্রতিনিধিকে বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষা নয়,আমাদের উদ্দেশ্য দ্বীনের খেদমত ও সমাজ গঠন।
আজ যেসব শিক্ষার্থী হাফেজ হয়ে বের হচ্ছে,তারা শুধু মসজিদের ইমাম নয়,অন্য পেশাতেও যোগ দিচ্ছে
শিক্ষক, কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী,কিন্তু গড়ে উঠছে দ্বীনের
আলো নিয়ে।এই আলোই সমাজকে দিক নির্দেশনা দেয়।প্রতিষ্ঠানটি এখন উন্নত একাডেমিক ভবন,
আধুনিক কারিকুলাম,ই-লার্নিং ভিত্তিক নূরানী ক্লাস,
বড় পরিসরে ইবতেদায়ী শাখা হিফজ বিভাগে আন্তর্জাতিক মান কোরআন রিসার্চ সেন্টার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ সব পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে।যে বীজ ২০০৪ সালে রোপণ হয়েছিল,তা এখন বিশাল বৃক্ষ।
ইতিহাস সাক্ষী যেখানে কোরআনের আলো পৌঁছায়,
সেখানে অন্ধকার স্থায়ী হয় না।রাহমানিয়া মাদরাসা আজ ২১ বছরেএকটি গ্রামের শিক্ষাবিপ্লব,একটি পরিবারের ইবাদতের ফল,একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের কারিগর।
হাদিসে রাসূল বলেছেন,যে কোনো পথে জ্ঞান অর্জনের জন্য চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।রাহমানিয়া মাদরাসা এ পথেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ প্রতিষ্ঠানের উত্থান, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাফল্য
সব মিলিয়ে এটি আজ বৃহত্তর নোয়াখালীর একটি আইকনিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এ যেন গ্রামের
বুকের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক আলোর মিনার যার আলো ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে হাজারো শিশুকে।
পরিশেষে বলতে হয়,আজ ২১ বছরের মাথায় দাঁড়িয়ে
মাদরাসাটি যেন বলছে,আমি ছিলাম একটি ছোট আলো।আজ আমি এক আলোকমালা।আর আমার
আলো একদিন ছড়িয়ে পড়বে পুরো প্রজন্মজুড়ে।
কোরআনের সেই প্রথম নির্দেশ,"পড় আর জেনে নাও”
আজ রাহমানিয়ার প্রতিটি দেয়ালে লেখা।
এটাই রাহমানিয়া নুরানী ও হেফজ মাদরাসার গল্প,
আলোকিত মানুষ তৈরির কারখানা।যাহা সংগ্রামের, আশার, এবং আল্লাহর জমিনে তার ওহী বানী তৌহিদের নিশানা ধারনকারীদের গল্প।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment