[10/15, 1:22 PM] Ibrahim khalil: প্রাণের নিমন্ত্রণ
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখে
আছি তোমার পথটি চেয়ে,
হৃদয়মাঝে মিষ্টি সুরের
আকুল করা গানটি গেয়ে।
একটু সময় বের করে আজ
আসবে তুমি আমার ঘরে,
গল্প-হাসির বাঁধন দিয়ে
রাখব ঘিরে যত্ন করে।
তোমার পদচিহ্নে আমার
উঠোন হবে আলোয় ভরা,
আমার গৃহ পূর্ণ হবে,
জুড়িয়ে যাবে হৃদয়-ধরা।
আন্তরিক এই মিষ্টি সুরে
রইল আমার নিমন্ত্রণ,
সাদর আমন্ত্রণে তোমায়
অপেক্ষা করে প্রতিটি ক্ষণ।
[10/15, 1:24 PM] Ibrahim khalil: গ্রামের মেঠো পথ
— মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
সবুজ ঘাসে শিশির হাসে
ভোরের মিষ্টি রোদে,
মন ভেসে যায় গাঁয়ের বাঁকে
হাওয়ার আঁকেবাঁকে।
আঁকাবাঁকা মেঠো পথটি
চলছে দূর থেকে দূরে,
রাখাল ছেলে বাঁশি বাজায়
সুর তোলে কোন নদে!
ধানের খেতে বাতাস নাচে,
সবুজ পাতার মেলা,
নদীর তীরে পাখির কলতান
সারাটা দিনবেলা।
হিজল গাছ আর বটগাছটার
শীতল ছায়ার তলে,
গাঁয়ের মানুষ একটু জিরোয়
ক্লান্তি মুছে ফেলে।
মেঠো পথের ধুলোমাখা
স্মৃতিগুলো মনে জাগে,
মাটির গন্ধে মন হারিয়ে
আজকে বড়ই ভালো লাগে।
[10/15, 1:26 PM] Ibrahim khalil: আমার সবুজ চরকাঁকড়া
— মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
মেঘনা নদীর শীতল হাওয়ায়
নোয়াখালীর কোল,
সবুজ চরে দোলে রে ভাই
রোদের মিঠে দোল।
চরকাঁকড়ার মেঠো পথে
পাখির কলতান,
ধানের ক্ষেতে বাতাস এসে
গাইছে খুশির গান।
নদীর তীরে রূপালী ঢেউ
সূর্য ডোবার ক্ষণে,
এক অপূর্ব রূপের ছোঁয়া
জাগায় আমার মনে।
কোম্পানীগঞ্জের এই বুকেতে
প্রকৃতির মেলবন্ধন,
চরকাঁকড়ার সবুজ ছায়া
হৃদয়ের বাঁধন।
হিজল-বট আর ছায়ায় ঘেরা
শান্ত গাঁয়ের রূপ,
মাটির গন্ধে মুগ্ধ হয়ে
মনটা থাকে চুপ।
জন্মদিনের এমন মায়ায়
আছি জড়িয়ে ভাই,
সোনার প্রিয় নোয়াখালীর
তুলনা যে নাই!
[10/15, 1:27 PM] Ibrahim khalil: মোহনার টানে
— মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
মুছাপুরের ওই রিভার ড্রাইভে
সাঁঝের বাতাস দোলে,
নদী আর সাগরের জল যেখানে
মিশেছে এক কোলে।
ক্লোজারের ঘাটে ঢেউয়ের নাচন,
পাথরের বুকে জল,
আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে
রক্তিম কোলাহল।
একটু দূরেই বাংলাবাজার
ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে,
ছোট ফেনীর শান্ত রূপটা
যায় যে মন হারিয়ে।
ব্রিজ ছুঁয়ে যায় দখিন হাওয়া,
পাখির ডানার মায়ায়,
সোনাগাজীর মেঠো প্রান্তর
অপূর্ব এক ছায়ায়।
নদীর মোহনা, বাঁধের সীমানা,
প্রকৃতির এক সৃষ্টি,
মুছাপুর আর বাংলাবাজারে
জুড়িয়ে যায় দৃষ্টি।
[10/15, 1:29 PM] Ibrahim khalil: মনুষ্যত্ব
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
মানুষের মাঝে মানুষ থাকে,
পার্থক্য শুধু নামে,
বিবেক-বোধের রূপান্তরে
মানুষের আলো জমে।
রক্ত-মাংসের শরীরটা তো
সব মানুষেরই এক,
পরের প্রেমে যে বিলিয়ে দেয়,
সেই তো খাঁটি বিবেক।
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে
হাতটা যে বাড়ায়,
কারো চোখের জল মুছে দিলে
মনুষ্যত্ব জাগায়।
অহংকার আর স্বার্থ ভুলে
যে রচে প্রেমের ঘর,
ভালোবাসার পরশ দিয়ে
কাউকে ভাবে না পর।
পশুর মতন বেঁচে থাকা নয়,
নয় কোনো রূপের ছল,
মনুষ্যত্বের দীপ্তিতেই
মানুষের রূপ উজ্জ্বল।
[10/15, 1:31 PM] Ibrahim khalil: শূন্য মানিব্যাগ, শূন্য হৃদয়
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
টাকা দিয়ে হয়তো কেনা যায় শহরের জাঁকজমক,
কিন্তু বিকেলের ক্লান্তিতে মিলবে না শান্তির চমক।
সোনার চাবি দিয়ে খোলা যায় বিশাল প্রাসাদের দ্বার,
নারী ছাড়া সেই রাজপ্রাসাদ বিষণ্ণ কারাগার।
অর্থ দিয়ে ঘড়ি কেনা যায়, কেনা যায় না সমাদর,
ভালোবাসার নরম স্পর্শেই সাজে আপন ঘর।
পুরুষের যত অর্জন, যত সাফল্য আর মান,
নারীর মমতা না থাকলে তা যে মূল্যহীন পাষাণ।
একলা ঘরে ব্যাংক ব্যালেন্সের শীতল হিসাব শুধু,
নারী ছাড়া পুরুষের জীবন এক তপ্ত মরু ধূ-ধূ।
অর্থে মেশে শুধুই অহংকার, হৃদয়ে ফোটে না ফুল,
নারীকে ছাড়া অর্থ উপার্জন এক মস্ত বড় ভুল।
অঢেল আলোয় ঝলমলিয়েও ঘর থেকে যায় আঁধার,
নারীর একটু হাসিতেই মেটে জীবনের সব ধার।
পুরুষের যত ধনের প্রাচুর্য, যত অলংকার—
নারীর ছোঁয়া না পেলে সে অর্থ শুধুই ছারখার!
[10/15, 1:33 PM] Ibrahim khalil: অপেক্ষা
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
সন্ধ্যা নামার মুখে যখন দখিন হাওয়া বয়,
তোমার নামেই মন-পাহাড়ের বরফ গলে যায়।
ঘড়ির কাঁটা থমকে দাঁড়ায়, সময় থেমে থাকে,
একলা চোখে স্বপ্নগুলো তোমার ছবি আঁকে।
বারান্দাতে দাঁড়িয়ে থাকা, এক কাপ চা হাতে,
তোমার আসার বার্তা খোঁজা ঝিঁঝিঁ পোকার রাতে।
অপেক্ষা তো কষ্ট নয় আর, যদি জানি তুমি আসবে,
আকাশপ্রদীপ হয়ে আমায় ভালোবাসায় ভাসাবে।
একটি চিঠির প্রথম লাইন, কিংবা মোবাইল স্ক্রিন,
তোমার একটা মিষ্টি আলোয় উজ্জ্বল হবে দিন।
একটু দেখা, একটু ছোঁয়া—তারই আকুল টানে,
সবটুকু গান বাজছে আজ তোমার আসার গানে।
দূরত্ব আর কতই বা হোক, হৃদয়ে আছ ধরে,
আমার সব অপেক্ষা যে তোমার প্রেমে পড়ে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment