ঢাকা    ,

মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতা সংকলন।

মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতা সংকলন।

[9/27, 9:14 AM] Ibrahim khalil: গুচ্ছগ্রামের ভালোবাসা

-------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

সবুজে ঘেরা ছোট্ট সীমানায়,

একটি নতুন ভোরের ইশারা ছড়ায়।

স্বপ্নগুলো বাঁধলো বাসা ছাদটি মেলে উপরে,

নতুন করে বাঁচার আলো গুচ্ছগ্রামের কুঁড়ে।

​হারিয়ে যাওয়া আশাগুলো আবার পেল ঠিকানা,

যেথায় নেই আর নদীভাঙার কোনো বেদনা।

উঠোনজুড়ে হাসির খিলখিল, একান্নবর্তী মন,

ছোট্ট ঘরেই বাঁধে সুখের রঙিন এক ভুবন।

​মাটির মেঠো সুরের টানে কাজ লেগেছে হাতে,

এক সাথে সব মানুষগুলো গল্প বলে রাতে।

এক টুকরো নিজের জমি, মাথা গোঁজার ঠাঁই,

গুচ্ছগ্রামের এই ভালোবাসার কোনো তুলনা নাই।

​একই সুতোয় বাঁধা সবার সুখের যে সংসার,

ভেদাভেদ ভুলে হাসুক জীবন বারবার।

ভেজা মাটি, বাঁশের বেড়া, আর টিনের একখানি চাল,

গুচ্ছগ্রামের ছোট উঠোনে কাটে অভাবের কাল।

একচিলতে আশ্রয়ে বাঁধা কত হাজারো স্বপ্ন-আশা,

অভাবের ঘরেও ফুটে থাকে একটুখানি ভালোবাসা।

​সকাল হতেই নদীর বাতাসে ভেসে আসে দূর গান,

কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে খেটে খাওয়া সব প্রাণ।

কারো হাতে জাল, কারো কাঁধে কোদাল, কারো বা ভ্যান,

কষ্টে মোড়ানো জীবনের মাঝে লুকিয়ে অগাধ মান।

​একই উঠোনে সুখ-দুঃখের গল্প জমায় সবাই,

একজনের বিপদে অন্যজন হাত বাড়িয়ে দেয় ভাই।

হাঁস-মুরগির প্যাঁকপ্যাঁকানি, শিশুদের কলরোল,

বিকালে বটতলায় জমে ওঠে কথা আর আড্ডার দোল।

​ঝড়-বৃষ্টির রাতে যখন টিনের চালে পড়ে টিপটিপ,

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ে জ্বলে আশার মিটিমিটি দীপ।

নিজেদের জমি বলতে কিছু নেই, তবু তো আছে এক ভিটে,

গুচ্ছগ্রামের মানুষগুলো বাঁচে জীবনের চরম অম্ল-মিঠে।

[9/27, 9:15 AM] Ibrahim khalil: কোম্পানীগঞ্জ

--------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঘনা আর সুরমার কলতানে জাগা,

এক নদীমাতৃক প্রাচীন ভূখণ্ড,

পলির বুকে জন্ম নেওয়া কোম্পানীগঞ্জ,

ইতিহাসের পাতায় এক চির উজ্জ্বল খণ্ড।

​ঐতিহাসিক ভোলাগঞ্জের পাথুরে প্রান্তরে,

ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারায় ভেসে আসে গান,

শত শত বছর ধরে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা

পাহাড়, নদী আর মেহনতী মানুষের প্রাণ।

​প্রাচীন কালে খাসিয়া রাজ্য আর জৈন্তিয়ার কোল,

কিংবদন্তির ছায়ায় ঢাকা সবুজ আচল,

বৃটিশ আমলেই গোড়াপত্তন ব্যবসার নতুন পথ,

নৌকা আর বজরায় চলতো বাণিজ্যের রথ।

​কোম্পানীর সেই যুগে চলতো বাণিজ্যের মেলা,

হিজল-করচের বনে সূর্য ডুবতো শেষ বেলা।

নদীপথ ধরে আসতো বণিক আর শ্রমিকের দল,

পাথর আর বাশের হাটে জমতো মানুষের কোলাহল।

​৭১-এর রক্তঝরা মুক্তিযুদ্ধেও,

এই মাটি রেখেছিল সাহসের অনন্য ছাপ,

সীমান্তের বুকে দাঁড়িয়ে লড়েছিল বীর সন্তান,

মুছে দিতে পরাধীনতার গভীর অভিশাপ।

​কালের খেয়ায় বদলেছে রূপ, বেড়েছে নগরের আলো,

তবুও ধলাইর বুকে পাথর তোলার সুর আজো লাগে ভালো।

সুরমা, পিয়াইন আর ধলাইর তীরে আঁকা এই ইতিহাস,

কোম্পানীগঞ্জ রূপসী বাংলার চিরন্তন এক বিশ্বাস।

[9/27, 9:16 AM] Ibrahim khalil: সুবর্নচরের ধুলিকনা

---------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

মেঘনা নদীর হাওয়ায় ঝোলে সোনালী ধানের শিস,

সবুজ চরে ভোরের আলোয় জাগে সুবর্ণচর ডিস।

নদীর বুকে জেগে ওঠা পলিমাটির দেহা,

পরিশ্রমী মানুষের ভালোবাসার নেহা।

​যেথায় রাখাল বাঁশি বাজায় মহিষের বাথানে,

রোদের ঝিলিক আঁকি বুকি তরমুজের ঐ খানে।

জোয়ার-ভাটায় বয়ে চলা জীবনের সংগ্রাম,

সবুজ দ্বীপের বুকে গাঁথা সুবর্ণচর নাম।

​

ধানের ক্ষেতে বাতাস খেলে, মেঘনার কোল ঘেঁষে,

সোনার ফসল হেসে ওঠে এই মাটিরই বেশে।

ঝড়-তুফানের সাথে লড়ে শক্ত যাদের বুক,

সুবর্ণচরের ধূলিকণায় লুকিয়ে তাদের সুখ।

[9/27, 9:16 AM] Ibrahim khalil: চরএলাহির রূপকথা

-----------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​মেঘনার বুকে পলি জমে জমে

গড়ে ওঠে নতুন দেশ,

সবুজের কোলে সোনার ফসল

কখনও হয় না শেষ।

চরএলাহি সে তো সাহসের নাম,

নদীর গানে জাগে ভোর,

ভাঙন আর গড়ার গল্পে

বাঁধা এ মাটির ডোর।

​সকালে ভাসে জালের তরী,

রাত্রে তারার মেলা,

ঝড়-তুফানের সাথে চলে যার

একলা জীবনখেলা।

নোনা বাতাসে স্বপ্নের ঘ্রাণ,

মেহনতি মানুষের গান,

জোয়ারের টানে বুক বেঁধে রাখা

একমুঠো পলি-প্রাণ।

​এক পাশে নদী এক পাশে মাঠ,

সবুজে মেখেছে কায়া,

চরএলাহি চিরদিন রুক

মেঘনার বুকভরা ছায়া।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.