মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাবাজার সেতুর নিচে ডুবোবাঁধের প্রস্তাব:
নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের দাবি চেয়ারম্যান কাজী মোঃ হানিফ আনসারীর:
নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী, চরহাজারী ও মুছাপুর এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ, চর মসলিশপুর ও দাগনভূঞা এলাকার নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ২ নং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোঃ হানিফ আনসারী।
নদীভাঙনে জনপদ, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও সম্পদ হুমকির মুখে রয়েছে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে নদীভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।চেয়ারম্যান কাজী মোঃ হানিফ আনসারী বলেন, মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু চলতি বছর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন না পাওয়ায় এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে, তা নিয়ে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।এ অবস্থায় স্থায়ী সমাধান হিসেবে মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের পাশাপাশি আপাতত নদীভাঙন ঠেকাতে একটি বিকল্প ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাবাজার সেতুর নিচে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু করে একটি ডুবোবাঁধ নির্মাণ করা যেতে পারে।
অতিরিক্ত পানি যাতে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়ে নেমে যেতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বাঁধটি নির্মাণের প্রস্তাব করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের মতে, এ ধরনের একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জোয়ার-ভাটার পানির তীব্র স্রোত সরাসরি নদীতীরবর্তী জনপদে আঘাত হানতে পারবে না।
এতে চরপার্বতী, চরহাজারী, মুছাপুর, চরদরবেশ, চর মসলিশপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের জায়গা-জমি, বসতবাড়ি ও ঘরবাড়ি আপাতত নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা,স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভারতের ডম্বুর বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার পর সৃষ্ট তীব্র স্রোত ও জোয়ারের পানির তোড়ে মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্লোজারটি পুনর্নির্মাণ বা স্থায়ীভাবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মুছাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কোম্পানীগঞ্জে মানববন্ধন ও নানা কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দুজন মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্লোজার এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ কাটছে না।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে চরপার্বতী ও চরহাজারী ইউনিয়নের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় জিও ব্যাগের সংখ্যা কম হওয়া এবং সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকির অভাবে তা নদীভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি।
ফলে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জের নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। কখন বসতভিটা, ফসলি জমি কিংবা ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়,এমন শঙ্কায় অনেক পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে।
সরকারের প্রতি বিষয়টি দ্রুত ও গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান কাজী মোঃ হানিফ আনসারী বলেন, “আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে, আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি ও বসতভিটা রক্ষায় আপাতত কার্যকর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাবাজার সেতুর নিচে ডুবোবাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে।”তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন থেকে মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রস্তাবিত ডুবোবাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা, বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় চেয়ারম্যানের উত্থাপিত এ দাবি ও প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment