ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কাব্যমালা। বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে এমপি ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে চরপার্বতী ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রিক মতবিনিময়;একরামুল হক মিলনসহ ১১ জনের মনোনয়ন প্রত্যাশা নিখোঁজ শিশু নয়, নিরাপদ শৈশব চাই: মোহাম্মদ উল্যা কোম্পানীগঞ্জের সড়ক উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান কোম্পানীগঞ্জে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, উপস্থিত এমপি ফখরুল ইসলাম সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ দেশে পৌঁছাল, কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন বেগমগঞ্জে মুখোশধারীদের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় প্রেরণ কবিরহাটে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলামের মতবিনিময় অসুস্থ প্রধান শিক্ষককে দেখতে বাসভবনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বসুরহাটে খাজা আবুল খায়ের শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ১,৭২০ শিক্ষার্থী

নিখোঁজ শিশু নয়, নিরাপদ শৈশব চাই: মোহাম্মদ উল্যা

নিখোঁজ শিশু নয়, নিরাপদ শৈশব চাই: মোহাম্মদ উল্যা

নিখোঁজ শিশু নয়, নিরাপদ শৈশব চাই

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও জবাবদিহিই হোক শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়া, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকির শিকার হওয়ার আগেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্ব।

শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা একটি পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার কারণ। একই সঙ্গে এটি শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। কেন শিশুটি ঝুঁকিতে পড়ল, বিপদের কোনো পূর্বলক্ষণ ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়; তাই অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিশুর নিরাপত্তার প্রথম ভিত্তি পরিবার। ঘরে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে এবং কোনো সমস্যা বা নির্যাতনের শিকার হলে অভিভাবকের কাছে সাহায্য চাইতে পারে। অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভন, অনিরাপদ চলাচল এবং বিপদের পরিস্থিতিতে কীভাবে সহায়তা চাইতে হয়, সে বিষয়ে বয়সোপযোগী শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে সংবেদনশীলতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই শিশুকে দোষারোপ বা অপমান করা যাবে না।

শিশু সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ, কার্যকর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশু নির্যাতন, হয়রানি কিংবা ভয়ের কথা জানালে তার বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। শিশুর অভিযোগ গোপন রেখে সমস্যা আড়াল করা নয়, বরং তার নিরাপত্তা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াই হতে হবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা অনলাইন জগতেও বড় চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়, প্রলোভন, ব্ল্যাকমেইল এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কারও সঙ্গে ভাগ না করা এবং সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে জানানোর শিক্ষা দিতে হবে।

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে পেতে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যাচাইহীন তথ্য কিংবা শিশুর পরিচয়, ঠিকানা ও অবস্থানসংক্রান্ত সংবেদনশীল বিবরণ প্রকাশ করে তাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। শিশুর ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রচারের আগে তার সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বিবেচনা করা জরুরি। সচেতনতা সৃষ্টির প্রচার যেন শিশুর জন্য নতুন বিপদের কারণ না হয়।

নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং উদ্ধার-পরবর্তী মানসিক ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু শিশুকে উদ্ধার করেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং পুনরায় ঝুঁকিতে পড়া প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ অক্টোবর ২০২৬ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

শিশুর নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার অধিকার। তাই কোনো শিশু নিখোঁজ হলে শুধু ‘শিশুটি কোথায়?’—এ প্রশ্ন নয়, জানতে হবে ‘কেন সে ঝুঁকিতে পড়ল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?’ নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে পাওয়া জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও বড় সাফল্য হলো প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে ভয়মুক্ত, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ শৈশব।

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক কথায় নয়, কার্যকর উদ্যোগে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.