[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: জল আর মাটির সেতুবন্ধন
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
ফেনী নদীর মোহনা ঘেঁষে, যেখানে জোয়ার জাগে,
ছোট ফেনীর বুকে জাগে আশা, মিঠে রোদের আগে।
মুছাপুরের বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে এক বিশালাকার রেগুলেটর,
নোনা জলের বুক চিরে আনে মিষ্টি পানির বর।
একদিন যেখানে ভেঙেছে তটকুল, ভেসেছে নোনা জলে,
আজ সেখানে সবুজ ফসল হাসে কৃষকেরই কোলে।
রেগুলেটরের কপাট খোলে, জলধারা বয়ে যায়,
উপকূলের প্রাণগুলো যেন নতুন এক আশ্বাসের গান গায়।
আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে মাটির বাঁধের সারি,
ঝাউবনের ঐ স্নিগ্ধ বাতাসে মন করে উড়াল-পাড়ি।
নদীর রূপ আর শান্ত রূপালী জলচ্ছবির সাথে,
মুছাপুর জেগে থাকে আলো আর জলতরঙ্গের রাতে।
নোনা জলের সাথে মানুষের চিরন্তন সেই যুদ্ধ,
রেগুলেটরে এসে থেমে যায়, জীবন হয় সমৃদ্ধ।
ক্ষুদ্র ফেনীর বুক জুড়ে তুমি এক নির্ভরতার নাম,
মুছাপুর, তোমাকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ সালাম।
[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: কাশফুলের হাসি
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
শরতের মেঘ ভেসে যায় দূরে,
আকাশের নীল ছোঁয়া আঙিনায়,
বাতাসের টানে মেতে ওঠে দোলে
কাশফুল নদীরই মোহনায়।
তুলোর মতো ধবধবে শ্বেত রূপ,
নরম ছোঁয়ায় ঝরে পড়ে আলো,
শরৎ এসে ফিসফিস করে বলে—
"পৃথিবী, তোমায় লেগেছে খুব ভালো।"
নদীর ধারে রূপালী এক মেলা,
হাওয়া এলে মেতে ওঠে নাচে,
মন যেন এক নিমিষেই হারিয়ে যায়
ওই কাশবনের মিষ্টি ছায়ার কাছে।
মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলে রোদ,
কাশের চুলে শিশির ছড়ায় হাসি,
শরতের এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে
তোমায় আমি বড্ড ভালোবাসি।
[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়া
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
রূপের আলো মিলায় ধীরে সময়ের টানে,
আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মনের গহীনে।
বাহ্যিক এই চকমকিতে চোখ ধাঁধায় শুধু,
তোমার ব্যক্তিত্বের প্রেমে জাগে হৃদয় ব্যাকুল।
কথার মাঝে মার্জিত সুর, চিন্তায় গভীরতা,
প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট এক দারুণ শুভ্রতা।
চেহারার ওই মোহের চেয়েও অচেনা এক টান—
তোমার আত্মমর্যাদায় সঁপেছি আজ প্রাণ।
শালীনতার শান্ত ছায়ায় অমলিন তোমার হাসি,
তোমার বিচার-বোধটাকেই সবচেয়ে ভালোবাসি।
চোখের আলো ঝাপসা হবে, চামড়া হবে কুঁচকানো,
কিন্তু ব্যক্তিত্বের স্নিগ্ধতা থাকবে আজীবন সাজানো।
রূপের প্রেমে বিচ্ছেদ থাকে, বদলায় তার রঙ,
ব্যক্তিত্বের প্রেমে জড়িয়ে থাকে অদ্ভুত এক সঙ্গ।
বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে যে প্রেমের শুরু,
সেই অনুরাগেই আজ আমার হৃদয় দুরুদুরু।
[10/1, 9:34 AM] Ibrahim khalil: ব্যক্তিত্বের অনুরাগে
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
রূপের আলো মিলায় ধীরে, সময়েরি টানে,
আসল রূপ তো লুকিয়ে থাকে আত্মোপলব্ধির গানে।
বাহ্য রূপের চকমকিতে মুগ্ধ হবার দিন শেষ,
তোমার ব্যক্তিত্বের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় মেটে সব রেশ।
কথার মাঝে গভীরতা, চিন্তায় অসীম আলো,
তোমার এমন ব্যক্তিত্বই বাসতে শেখায় ভালো।
তোমার যে রূপ চোখের পলকে মোহিত করে না শুধু,
মনকে আমার ভরিয়ে দেয়, মেটায় তৃষ্ণা ধুধু।
শালীনতা আর আত্মমর্যাদার দৃঢ় যে এক প্রাচীর,
তারি মাঝে খুঁজে পাই এক আশ্রয় অচীর।
তোমার চলন, তোমার বলন, তোমার বিচার-বোধ,
প্রতিটি পদে শোধ করে দেয় মনের জমে থাকা ক্ষোভ।
রূপের রঙ তো বদলে যায়, ফিকে হয় রঙ তার,
কিন্তু তোমার ব্যক্তিত্ব যে অমলিন উপহার।
বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে যার গভীরে হারায় মন—
এমন ব্যক্তিত্বের প্রেমেই বেঁচে থাকে সারাজীবন।
[10/1, 9:34 AM] Ibrahim khalil: এক সুতোর বাঁধন
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
হাতে হাত রেখে হাঁটার পথে,
দুটি প্রাণ মেশে একটি রথে।
সুখ-দুঃখের মেঘ-রোদ্দুর মেখে,
সংসার সাজে ভালোবাসার সুখে।
ঝড় আসলে থমকে দাঁড়ায় মেঘের ছায়া,
তবু আঁকড়ে ধরে অদৃশ্য এক স্নেহের মায়ায়।
সামান্য ভুলেই অভিমানের সুর,
একটু হাসিতেই আঁধার হয় দূর।
স্বার্থের উর্ধ্বে যেখানে প্রাণের টান,
একজনের কষ্টে অন্যজনের কাঁদে পরান।
বয়স বাড়ুক, চুলে আসুক শুভ্র রঙ,
অটুট থাকুক মনের রঙিন ঢং।
স্বামী-স্ত্রীর এই নির্ভরতার মেলা,
জীবনস্রোতে এক সাথে পার করে বেলা।
শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের শেষ সীমানায়,
দুটি নদী যেন এক সাগরে মেশায়।
[10/1, 9:37 AM] Ibrahim khalil: মুছাপুর ক্লোজার
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
পলি-পড়া পলিমাটির বাঁকে,
মেঘনার উত্তাল ঢেউ যেখানে এসে থামে,
সেথায় জেগে রয় এক মহাকাব্য,
মুছাপুর ক্লোজারের প্রদীপ্ত নামে।
একপাশে রৌদ্রকরোজ্জ্বল ঝাউবনের ছায়া,
অন্যপাশে বিশাল জলধির নীলমায়াজাল,
নদীর গর্জনে বুক পেতে দেওয়া এই বাঁধ,
যা আগলে রাখে জনপদ ও ফসলী সীমানার রূপালী আড়াল।
জোয়ারের নোনাজল যখন ছুটে আসে ধেয়ে,
ক্লোজারের কপাটগুলো রূখে দাঁড়ায় তা,
সবুজ ধানের খেত, রাখালের গান,
আর মেঠো পথের বুকে ফিরিয়ে আনে সমতা।
আকাশের কোণে সূর্য যখন ডুব সাঁতার কাটে,
ঝাউবীথির ফাঁকে নেমে আসে সোনালী আলো,
দর্শনার্থীদের গুঞ্জনে, নদীর সজীব বাতাসে,
মুছাপুর ক্লোজার এঁকে দেয় স্মৃতির অলকানন্দা ভালো।
নদীর সাথে মানুষের সংগ্রামের স্মৃতি হয়ে,
তুমি দাঁড়িয়ে আছো শান্ত, দৃপ্ত ও অবিচল,
মুছাপুর, তুমি শুধু পলি আর পাথরের বাঁধ নও—
তুমি উপকূলের মানুষের আশা ও জীবনধারার সম্বল।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment