ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : জনসেবা ও উন্নয়নের প্রত্যয় নিয়ে চরহাজারী ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী ইমাম হোসেন সোহেল মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার সংকলন মুছাপুর ক্লোজার অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ উপকুলীয় অবকাঠামো ক্লোজার ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা ঘুষ-দুর্নীতি, মাদক-মব ও চাঁদাবাজি : বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও জাতির উন্নতি ছোটগল্প: নিহা ও একটি অদৃশ্য উপাখ্যান। একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ সন্তানের সঠিক পথচলায় অভিভাবকদের সচেতনতা অপরিহার্য: সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ আমার মেয়ে। কবি আল হেলাল। কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা।

মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার সংকলন

মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার সংকলন

[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: ​জল আর মাটির সেতুবন্ধন

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​ফেনী নদীর মোহনা ঘেঁষে, যেখানে জোয়ার জাগে,

ছোট ফেনীর বুকে জাগে আশা, মিঠে রোদের আগে।

মুছাপুরের বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে এক বিশালাকার রেগুলেটর,

নোনা জলের বুক চিরে আনে মিষ্টি পানির বর।

​একদিন যেখানে ভেঙেছে তটকুল, ভেসেছে নোনা জলে,

আজ সেখানে সবুজ ফসল হাসে কৃষকেরই কোলে।

রেগুলেটরের কপাট খোলে, জলধারা বয়ে যায়,

উপকূলের প্রাণগুলো যেন নতুন এক আশ্বাসের গান গায়।

​আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে মাটির বাঁধের সারি,

ঝাউবনের ঐ স্নিগ্ধ বাতাসে মন করে উড়াল-পাড়ি।

নদীর রূপ আর শান্ত রূপালী জলচ্ছবির সাথে,

মুছাপুর জেগে থাকে আলো আর জলতরঙ্গের রাতে।

​নোনা জলের সাথে মানুষের চিরন্তন সেই যুদ্ধ,

রেগুলেটরে এসে থেমে যায়, জীবন হয় সমৃদ্ধ।

ক্ষুদ্র ফেনীর বুক জুড়ে তুমি এক নির্ভরতার নাম,

মুছাপুর, তোমাকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ সালাম।

[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: কাশফুলের হাসি

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​শরতের মেঘ ভেসে যায় দূরে,

আকাশের নীল ছোঁয়া আঙিনায়,

বাতাসের টানে মেতে ওঠে দোলে

কাশফুল নদীরই মোহনায়।

​তুলোর মতো ধবধবে শ্বেত রূপ,

নরম ছোঁয়ায় ঝরে পড়ে আলো,

শরৎ এসে ফিসফিস করে বলে—

"পৃথিবী, তোমায় লেগেছে খুব ভালো।"

​নদীর ধারে রূপালী এক মেলা,

হাওয়া এলে মেতে ওঠে নাচে,

মন যেন এক নিমিষেই হারিয়ে যায়

ওই কাশবনের মিষ্টি ছায়ার কাছে।

​মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলে রোদ,

কাশের চুলে শিশির ছড়ায় হাসি,

শরতের এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে

তোমায় আমি বড্ড ভালোবাসি।

[10/1, 9:33 AM] Ibrahim khalil: ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়া

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​রূপের আলো মিলায় ধীরে সময়ের টানে,

আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে মনের গহীনে।

বাহ্যিক এই চকমকিতে চোখ ধাঁধায় শুধু,

তোমার ব্যক্তিত্বের প্রেমে জাগে হৃদয় ব্যাকুল।

​কথার মাঝে মার্জিত সুর, চিন্তায় গভীরতা,

প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট এক দারুণ শুভ্রতা।

চেহারার ওই মোহের চেয়েও অচেনা এক টান—

তোমার আত্মমর্যাদায় সঁপেছি আজ প্রাণ।

​শালীনতার শান্ত ছায়ায় অমলিন তোমার হাসি,

তোমার বিচার-বোধটাকেই সবচেয়ে ভালোবাসি।

চোখের আলো ঝাপসা হবে, চামড়া হবে কুঁচকানো,

কিন্তু ব্যক্তিত্বের স্নিগ্ধতা থাকবে আজীবন সাজানো।

​রূপের প্রেমে বিচ্ছেদ থাকে, বদলায় তার রঙ,

ব্যক্তিত্বের প্রেমে জড়িয়ে থাকে অদ্ভুত এক সঙ্গ।

বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে যে প্রেমের শুরু,

সেই অনুরাগেই আজ আমার হৃদয় দুরুদুরু।

[10/1, 9:34 AM] Ibrahim khalil: ব্যক্তিত্বের অনুরাগে

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​রূপের আলো মিলায় ধীরে, সময়েরি টানে,

আসল রূপ তো লুকিয়ে থাকে আত্মোপলব্ধির গানে।

বাহ্য রূপের চকমকিতে মুগ্ধ হবার দিন শেষ,

তোমার ব্যক্তিত্বের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় মেটে সব রেশ।

​কথার মাঝে গভীরতা, চিন্তায় অসীম আলো,

তোমার এমন ব্যক্তিত্বই বাসতে শেখায় ভালো।

তোমার যে রূপ চোখের পলকে মোহিত করে না শুধু,

মনকে আমার ভরিয়ে দেয়, মেটায় তৃষ্ণা ধুধু।

​শালীনতা আর আত্মমর্যাদার দৃঢ় যে এক প্রাচীর,

তারি মাঝে খুঁজে পাই এক আশ্রয় অচীর।

তোমার চলন, তোমার বলন, তোমার বিচার-বোধ,

প্রতিটি পদে শোধ করে দেয় মনের জমে থাকা ক্ষোভ।

​রূপের রঙ তো বদলে যায়, ফিকে হয় রঙ তার,

কিন্তু তোমার ব্যক্তিত্ব যে অমলিন উপহার।

বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে যার গভীরে হারায় মন—

এমন ব্যক্তিত্বের প্রেমেই বেঁচে থাকে সারাজীবন।

[10/1, 9:34 AM] Ibrahim khalil: এক সুতোর বাঁধন

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​হাতে হাত রেখে হাঁটার পথে,

দুটি প্রাণ মেশে একটি রথে।

সুখ-দুঃখের মেঘ-রোদ্দুর মেখে,

সংসার সাজে ভালোবাসার সুখে।

​ঝড় আসলে থমকে দাঁড়ায় মেঘের ছায়া,

তবু আঁকড়ে ধরে অদৃশ্য এক স্নেহের মায়ায়।

সামান্য ভুলেই অভিমানের সুর,

একটু হাসিতেই আঁধার হয় দূর।

​স্বার্থের উর্ধ্বে যেখানে প্রাণের টান,

একজনের কষ্টে অন্যজনের কাঁদে পরান।

বয়স বাড়ুক, চুলে আসুক শুভ্র রঙ,

অটুট থাকুক মনের রঙিন ঢং।

​স্বামী-স্ত্রীর এই নির্ভরতার মেলা,

জীবনস্রোতে এক সাথে পার করে বেলা।

শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের শেষ সীমানায়,

দুটি নদী যেন এক সাগরে মেশায়।

[10/1, 9:37 AM] Ibrahim khalil: মুছাপুর ক্লোজার

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​পলি-পড়া পলিমাটির বাঁকে,

মেঘনার উত্তাল ঢেউ যেখানে এসে থামে,

সেথায় জেগে রয় এক মহাকাব্য,

মুছাপুর ক্লোজারের প্রদীপ্ত নামে।

​একপাশে রৌদ্রকরোজ্জ্বল ঝাউবনের ছায়া,

অন্যপাশে বিশাল জলধির নীলমায়াজাল,

নদীর গর্জনে বুক পেতে দেওয়া এই বাঁধ,

যা আগলে রাখে জনপদ ও ফসলী সীমানার রূপালী আড়াল।

​জোয়ারের নোনাজল যখন ছুটে আসে ধেয়ে,

ক্লোজারের কপাটগুলো রূখে দাঁড়ায় তা,

সবুজ ধানের খেত, রাখালের গান,

আর মেঠো পথের বুকে ফিরিয়ে আনে সমতা।

​আকাশের কোণে সূর্য যখন ডুব সাঁতার কাটে,

ঝাউবীথির ফাঁকে নেমে আসে সোনালী আলো,

দর্শনার্থীদের গুঞ্জনে, নদীর সজীব বাতাসে,

মুছাপুর ক্লোজার এঁকে দেয় স্মৃতির অলকানন্দা ভালো।

​নদীর সাথে মানুষের সংগ্রামের স্মৃতি হয়ে,

তুমি দাঁড়িয়ে আছো শান্ত, দৃপ্ত ও অবিচল,

মুছাপুর, তুমি শুধু পলি আর পাথরের বাঁধ নও—

তুমি উপকূলের মানুষের আশা ও জীবনধারার সম্বল।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.