ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতীক আফতাব আহমেদ বাচ্চুকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই সিরাজপুরবাসী:
নব জ্যোতি ফিচার ডেস্কঃ
রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য ক্ষমতার অলংকারে নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস, দীর্ঘ ত্যাগ এবং নিরলস জনসেবায়। সময়ের পরীক্ষায় যারা নিজেদের আদর্শ, সততা ও কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন, তারাই একসময় জন আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা আফতাব আহমেদ বাচ্চুকে ঘিরে আজ এমনই এক জন আস্থার চিত্র ফুটে উঠছে।
সিরাজপুর ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া আফতাব আহমেদ বাচ্চুর রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলা তিন দশকেরও বেশি সময়ের।
তাঁর পিতা মরহুম ওবায়দল হক চৌধুরী ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং চাচা লে. কর্নেল (অব.) এনামুল হক ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য। পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি তিনি নিজের কর্ম, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি আজও সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলা, হামলা, জেল-জুলুম ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েও তিনি দল ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
দীর্ঘ সময় সিরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব এবং প্রায় তিন দশক ধরে ছমদ আলী হাজী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর সামাজিক গ্রহণ যোগ্যতারই প্রতিফলন।
১৯৯৪ সালে দেশের প্রথম শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে স্বর্ণপদক লাভ তাঁর কর্মময় জীবনের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পক্ষে জনমত গঠনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথাও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত।
সাংবাদিকতাতেও রয়েছে তাঁর অবদান। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রথম স্থানীয় পত্রিকা 'মাসিক পদক্ষেপ' ও 'সাপ্তাহিক নোয়াখালী কণ্ঠ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গণমাধ্যমের বিকাশেও ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি এসব পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই আফতাব আহমেদ বাচ্চুর প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
২০১১ সালে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নানা প্রতিকূলতায় বিজয় অর্জন করতে পারেননি। তবে সময়ের পরিবর্তনে আজ অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি সিরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে একজন যোগ্য দাবিদার।
এ বিষয়ে আফতাব আহমেদ বাচ্চু বলেন, "সিরাজপুরের জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে চান এবং মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে আমি নির্বাচন করতে আগ্রহী।"
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে মুখের চেয়ে কাজের মূল্যই বেশি হয়ে ওঠে। সিরাজপুরের জনপদে আফতাব আহমেদ বাচ্চুকে ঘিরে যে প্রত্যাশার আলো জ্বলছে, তা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটা প্রতিফলিত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছেন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment