মিম্বার থেকে জনপথে
-------মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ------
ইসলাম কেবল মসজিদের মিনারে উচ্চারিত কিছু শব্দের নাম নয়;
ইসলাম মানুষের ক্ষুধার পাশে রুটির নিশ্চয়তা,
অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দৃঢ় ঘোষণা,
দুর্নীতির অন্ধকারে সততার দীপশিখা,
আর অসহায়ের কাঁধে ভরসার হাত রাখার মহান শিক্ষা।
রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন শুধু স্লোগানে নয়,
রাষ্ট্র গড়ে দূরদর্শী পরিকল্পনায়;
শুধু আবেগে নয়, দক্ষতায়;
শুধু বক্তৃতায় নয়, সেবায়;
শুধু সমালোচনায় নয়, সমাধানে।
আজ মানুষ জানতে চায়—
দ্রব্যমূল্য কীভাবে কমবে,
কৃষকের ঘরে ন্যায্য মূল্য কীভাবে পৌঁছাবে,
বেকারের হাতে কাজ কীভাবে আসবে,
শিক্ষা হবে কীভাবে যুগোপযোগী,
স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাবে কীভাবে প্রতিটি দরজায়,
প্রযুক্তির নতুন যুগে তরুণদের ভবিষ্যৎ কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে
যদি আমরা শুধু পারস্পরিক মতভেদ,
অভিযোগ-প্রতিযোগিতা আর অন্তহীন বিতর্কে ব্যস্ত থাকি,
তবে জনগণের হৃদয়ে নেতৃত্বের আসন তৈরি হবে না।
মানুষ আজ ফতোয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নকশাও চায়,
বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব কর্মসূচিও চায়,
আদর্শের পাশাপাশি দক্ষ প্রশাসনের নিশ্চয়তাও চায়।
মনে রাখতে হবে—
জনগণ করতালিতে নয়, কল্যাণে আস্থা রাখে;
স্লোগানে নয়, সেবায় বিশ্বাস খুঁজে পায়;
আবেগে নয়, বাস্তব পরিবর্তনে নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করে।
যে রাজনীতি মানুষের কান্না শোনে না,
সে রাজনীতি মানুষের ভোটও পায় না।
যে নেতৃত্ব মানুষের জীবনযুদ্ধ বোঝে না,
সে নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রান্তে হারিয়ে যায়।
আজ প্রয়োজন এমন এক ইসলামী রাজনীতি—
যেখানে ঈমান থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে প্রজ্ঞা;
আদর্শ থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে কর্মপরিকল্পনা;
দাওয়াহ থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে জনকল্যাণ;
ইবাদত থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে সুশাসনের অঙ্গীকার।
মনে রাখতে হবে,
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে একবেলা আহারও একটি দাওয়াহ,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোও একটি দাওয়াহ,
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানও একটি দাওয়াহ,
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনও একটি দাওয়াহ।
যে আন্দোলন মানুষের ভাষা বোঝে,
মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করে,
সমস্যার কার্যকর সমাধান দেয়,
ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করে—
ইতিহাস একদিন সেই আন্দোলনকেই আপন করে নেয়।
আসুন, আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নয়,
অজ্ঞতা, দুর্নীতি, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়ি।
দলীয় গণ্ডি নয়, জাতির কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিই।
বিতর্কের প্রাচীর নয়, সেবার সেতু নির্মাণ করি।
কারণ আল্লাহ তাআলা সেই জাতিকেই মর্যাদা দান করেন,
যারা আমানতের হক আদায় করে,
জ্ঞানকে কর্মে রূপ দেয়,
আর মানুষের কল্যাণকে ইবাদতের অংশে পরিণত করে।
ইসলামের পতাকা কেবল উচ্চকণ্ঠে নয়,
উচ্চ চরিত্রে, দক্ষ নেতৃত্বে, ন্যায়ভিত্তিক শাসনে এবং মানুষের কল্যাণে সমুন্নত হয়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment