রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী আব্দুর রহমান শাহেদের সংগ্রামী পথচলা :
নবজ্যোতি ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী আব্দুর রহমান শাহেদ।
তিনি রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা আর্থিক লাভের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। তাঁর বিশ্বাস, রাজনীতি হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার এক মহৎ দায়িত্ব।
২০১৪ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। এরপর ২০১৬ সাল থেকে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিতি, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং দলের প্রতি অটল আনুগত্য তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন সহজ ছিল না।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতায় তিনি গুরুতর আহত হন। নির্বাচনের দিন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকতে হয়।
কিন্তু সেই প্রতিকূলতাও তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও মাইজদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেছেন।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁকে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।
একবার কারাবরণও করতে হয়েছে। তাঁর বাড়িতে দুই দফা ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের পর টানা ১১ মাস ১৩ দিন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।
ওই সময় দুবার বাড়িতে ফিরলেও উভয়বারই হামলার মুখে পড়েন। তবুও তিনি বিশ্বাস হারাননি, বরং আরও দৃঢ়ভাবে নিজের আদর্শে অবিচল থেকেছেন।
বর্তমানে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং চরপার্বতী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
তাঁর প্রত্যাশা, সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলে দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আব্দুর রহমান শাহেদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চান। তাঁর মতে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সততা, ত্যাগ ও মানুষের পাশে থাকা।
তিনি মনে করেন, রাজনীতি কখনো ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জন বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত জনসেবার একটি পবিত্র অঙ্গীকার।
তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সুস্থ রাজনীতি ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন তরুণ প্রজন্মই একটি উন্নত সমাজ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।
তাই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান। আব্দুর রহমান শাহেদের চিন্তা-চেতনায় বারবার উঠে আসে মানবতার সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণের কথা।
তাঁর প্রত্যাশা, দলের একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। আদর্শ, ত্যাগ, সাহস এবং নিষ্ঠার এই পথচলায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জনগণ ও দলের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment