ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন হয়েছে,কিন্তু ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনে কতটা অগ্রগতি? ছোট ফেনী নদীর তীব্র স্রোতে চরপার্বতীতে ভাঙন আতঙ্ক, দ্রুত মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের দাবি: ।।ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব, বাস্তব জীবনের ঝুঁকি: সম্পর্ক রক্ষায় সচেতন হই।। ---------মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ -------- "যোগ্যতার প্রকৃত পরিচয়" মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ, শিক্ষক, প্রাবন্ধিক। শরীফ ওসমান হাদী ​— ইদ্রিস হাসান মন্ত্রীর ছেলে পড়বে বিদেশ ​— ইদ্রিস হাসান কোম্পানীগঞ্জে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস অনুষ্ঠীত: হাজারীহাট হাইস্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারের অভিযোগ: উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই অধ্যক্ষ শেখ সাদী ভূঞার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রতীক আফতাব আহমেদ বাচ্চুকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই সিরাজপুরবাসী: কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ক্লোজার রক্ষায় মানববন্ধন, স্লুইসগেট নির্মাণের জোর দাবি:

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন হয়েছে,কিন্তু ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনে কতটা অগ্রগতি?

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন হয়েছে,কিন্তু ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনে কতটা অগ্রগতি?

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন হয়েছে,কিন্তু ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনে কতটা অগ্রগতি?

লেখক: মুহাম্মদ ইদ্রিস হাসান

গণমাধ্যমকর্মী।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল সেবা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।

কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও আজ অনেকের মনে ঘুরপাক খায়-নৈতিকতা, সুশাসন, ইসলামী শিক্ষা এবং মূল্যবোধের বিকাশে আমরা কতটা এগিয়েছি?

বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। ফলে এ দেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ চায় রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধের যথাযথ প্রতিফলন ঘটুক।

কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ইসলামের পক্ষে অবস্থানের কথা বললেও এ বিষয়ে অনেক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।এমন ধারণা সমাজের একটি অংশের মধ্যে রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এবং সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১,১৮,৬০৭টি।অন্যদিকে দেশে ৯,২৯৫টি সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং ৭,৫২৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নেই।শিক্ষাব্যবস্থার এই বাস্তবতা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন-মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কি যথেষ্ট ছিল?

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আলোচনা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিধি বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতামত উঠে আসছে।

অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় একটি সুষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।শুধু শিক্ষা নয়, সামাজিক বাস্তবতাও উদ্বেগজনক।

মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি, সহিংসতা, পারিবারিক অবক্ষয় এবং সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়,প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ।

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক নিরাপত্তা, যাকাত ব্যবস্থার সুশৃঙ্খল প্রয়োগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে রাষ্ট্র আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে-এমন প্রত্যাশা অনেকের।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি, বাংলাদেশ একটি সাংবিধানিক ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্রীয় নীতিতে এমন ভারসাম্য প্রয়োজন, যাতে একদিকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা গুরুত্ব পায়, অন্যদিকে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতাও নিশ্চিত থাকে।

আজ প্রয়োজন দলীয় অন্ধ সমর্থনের পরিবর্তে আত্মসমালোচনা। কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

জনগণের উচিত উন্নয়ন, শিক্ষা, নৈতিকতা, সুশাসন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ-সব দিক বিবেচনায় রাষ্ট্র পরিচালনাকে মূল্যায়ন করা।স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়,একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন রাষ্ট্র গড়ে তোলাও স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য।

সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, রাজনৈতিক দল, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ জনগণ

সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.