হাজারীহাট হাইস্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারের অভিযোগ:
উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই অধ্যক্ষ শেখ সাদী ভূঞার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র:
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারীহাট হাইস্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ সাদী ভূঞাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নামবিহীন অভিযোগপত্র পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং নানা অভিযোগ উত্থাপনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।তাদের দাবি, ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিরোধ, শিক্ষক গ্রুপিং জেরে একটি মহল অধ্যক্ষকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অতীতের বিভিন্ন অনিয়মের দায় বর্তমান প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজারীহাট হাইস্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চারটি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে-এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম), এসএসসি এবং এসএসসি (ভোকেশনাল)।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ সাদী ভূঞা দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তাদের মতে, শিক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ সাদী ভূঞা বলেন, "আমি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষকদের পূর্বের প্রায় ২৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া ছিল। বর্তমানে সেই বকেয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এখন প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ অন্যান্য পাওনাও পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
"তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবুক হালনাগাদ করা হয়েছে। পুকুর ও গাছ বিক্রির অর্থ যথাযথভাবে ক্যাশবুকে জমা হয়েছে। বরং প্রতিষ্ঠান থেকেই আমার কিছু অর্থ পাওনা রয়েছে।
"উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে, শহীদ মিনারে টাইলস সংযোজন করা হয়েছে এবং কলেজে প্রবেশ সড়কে সিসি ঢালাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাজেট অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার নির্মাণকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। কলেজ ভবনের নিচতলা সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের প্রায় তিন লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ও মাঠে মাটি ভরাটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে ফুল ও ফলের বাগান করা হয়েছে, ১৮টি নারিকেল গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং দুটি নতুন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্র্যাকের মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫৫টি বেঞ্চ, ৮টি টেবিল ও ৮টি চেয়ার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এইচএসসি (বিএম) কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেখ সাদী ভূঞা বলেন, "দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, উৎসব বোনাস বৃদ্ধি, খাতা মূল্যায়নের সম্মানী বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার ডিউটি ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আমি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।
"তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক সমিতিকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য এবং অতীতে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগসাজশের কারণেই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের গণস্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। তবে অধ্যক্ষের দাবি, ওই আবেদনে উল্লিখিত অনেক তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অতীতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘদিনের সমস্যার দায় বর্তমান প্রশাসনের ওপর চাপানো হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। উড়ো চিঠি, গুজব কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে একজন শিক্ষাপ্রশাসকের সম্মান ক্ষুণ্ন করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
তাদের ভাষ্য, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ধরে রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তারা।এই প্রতিবেদনের জন্য অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনই এখন সবচেয়ে জরুরি।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment