ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : ছোট ফেনী কবি: সাইফুর রহমান (উজ্জ্বল) দুর্যোগ, দুর্ভোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি,আমরা কতটা প্রস্তুত? ক্ষমতার লঙ্কা আর রাবণের গল্প,আমাদের ভাঙা-গড়ার রাজনীতি​: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ চার গুণী ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান: Anwar Hossain Faisal A Bangladeshi Expat Dedicated to Serving Humanity: চৌধুরীহাটে পূর্ণাঙ্গ ডাকঘরের দাবিতে এলাকাবাসী পোস্ট কোড জটিলতায় চরম ভোগান্তি: সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলিতে ৩ ডাকাত গুলিবিদ্ধ বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি: সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি মোঃ নুর আলম মামুন: শিক্ষার নবজাগরণের প্রত্যয়ে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভা:

দুর্যোগ, দুর্ভোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি,আমরা কতটা প্রস্তুত?

দুর্যোগ, দুর্ভোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি,আমরা কতটা প্রস্তুত?

দুর্যোগ, দুর্ভোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি,আমরা কতটা প্রস্তুত?

মুহাম্মদ ইদ্রিছ হাছান:

বিশ্ব আজ এক অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত এসব রাষ্ট্র দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত বিমান, রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে।

আমরা দেখি, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসে।এই বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়-বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি কতটা শক্তিশালী?

দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সক্ষমতা কতটুকু? যদি কোনো বৈরী শক্তি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা কতটা কার্যকরভাবে তা মোকাবিলা করতে পারব?

ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী, আর পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বিশ্ব বাস্তবতা দেখিয়েছে, একটি রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিন দিক ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত, পূর্বে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ অবস্থান যেমন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।শুধু যুদ্ধ নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও আমাদের দুর্বলতা রয়েছে।

২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা আমাদের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী ঢাকাও ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা, বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।প্রতি বছর দেশে অসংখ্য অগ্নিকাণ্ড ঘটে। শিল্পকারখানা, মার্কেট ও আবাসিক এলাকায় আগুনে বহু মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।

একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনাও জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।স্বাস্থ্য খাতেও আমাদের আরও অনেক দূর এগোতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের অনেকগুলোতেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বহু মানুষ বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে, চিকিৎসা নিতে যান। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বাইরে চলে যায়।এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-কেন দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যাচ্ছে না?

এটি কি পরিকল্পনার ঘাটতি, নাকি প্রশাসনিক দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর নীতিনির্ধারকদেরই দিতে হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা, তারা যেন নিজ দেশেই উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান।বিশ্বের অনেক ছোট ও সীমিত সম্পদের দেশও সুশাসন, দক্ষ প্রশাসন এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।বাংলাদেশেরও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, সুশাসন, দক্ষ নেতৃত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা।

দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, শিক্ষার ঘাটতি, নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাজনীতির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

একটি নিরাপদ, দুর্যোগ-সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, সরকার এবং জনগণ-সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতন নাগরিক, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং যোগ্য নেতৃত্বই পারে দেশের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে তুলতে।

মুহাম্মদ ইদ্রিছ হাছান

গ্রাম: পূর্ব সোনাদিয়া।ইউনিয়ন: ৪ নং ঘোষবাগ

ডাকঘর: কোম্পানিরহাট পোস্ট কোড: ৩৮০৭

উপজেলা: কবিরহাট। নোয়াখালী।

মোবাইল: ০১৮৬০৭৯১৭৫৩

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.