ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বসুরহাট বাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কাব্য। হাজারীহাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেধাবীদের বৃত্তি ও সাবেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় সহায়তা জুলাই আন্দোলনে আমার স্মৃতিময় একদিন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করে জাতীয়করণের দাবি "তবুও ঘোর কাটেনা" মনিরা ইসলাম ডেঙ্গু প্রতিরোধে বসুরহাটে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ কোম্পানীগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ ফারুক ভূঞার ৯ম স্মরণসভা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণের দাবি চরহাজারী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রার্থী "কামরুন নাহার লিপি"

কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কাব্য।

কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কাব্য।

[10/5, 1:07 AM] Ibrahim khalil: দেহ খাবে পোঁকে সম্পদ খাবে লোকে

----------------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​দেহের মোহে কাটাও জীবন, রক্ত জল করা ধনে,

ভাবছ তবে এই অট্টালিকা থাকবে চিরদিনে?

একদিন তো নিভবে আলো, চোখ দুটো হবে বন্ধ,

দেহ খাবে পোঁকে বিজন গহীনে, মিলিয়ে যাবে গন্ধ।

​কত যে ঘাম, কত যে ছলনা, জমিয়েছ যত ধন,

সম্পদ খাবে লোকে বসে বসে, ভুলেও করবে না স্মরণ।

তুমি চলে গেলে হিসাব মিলাবে ভাই আর আত্মীয়,

কে কত পাবে কাড়াকাড়ি করে নেবে তা বানিয়ে প্রিয়।

​মাটির মানুষ মাটিতে মিশবে, থাকবে না কোনো চিহ্ন,

যাদের তরে তিলে তিলে শেষ, তারাই হবে গো ভিন্ন।

শুধু রয়ে যাবে ভালো কাজ যত, আর খাঁটি ভালোবাসা,

দুদিনের এই ভবের হাটে মিছেই বাঁধো বাসা।

দেহ খাবে পোঁকে, মাটি খাবে হাড়ে,

সব রস শুষে নিয়ে ছাই হবে পারে।

একদিন মুছে যাবে চেনা রূপ-রং,

ভাঙবে এ জীবনের মেকি যত ঢং।

​মুহূর্তে ফুরোবে এ অহংকার যত,

স্মৃতিটুকু পে পড়ে রবে কোনো দূর স্মারক মতো।

যা কিছু জমিয়েছ ছায়া আর মায়ায়,

মিলিয়ে সে যাবে এক নীরব আঁধারে, মাটির ছায়ায়।

​তবে কেন এত দ্বেষ, এত মিথ্যে খেলা?

আলোর পথেই হোক বাকিটুকু বেলা।

প্রাণটুকু চলে গেলে দেহ শুধু ভারী,

ভালোবাসা ছাড়া আর সাথে যাবে কারি?

[10/5, 11:52 PM] Ibrahim khalil: ​স্মৃতির নক্ষত্র

--------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​যে নারী মনের গভীর গহীনে

এঁকে যায় ভালোবাসার নীলাঞ্জন,

তার ছবি ভুলি কীভাবে বলো,

সে তো নিঃশ্বাসে বাঁধা এক বন্ধন।

​চোখের পলকে সে তো শুধু চেনা মুখ নয়,

সে যেন হৃদয়ের গোপন সুর,

দিনশেষে আলো নিভে গেলেও

স্মৃতি তার রয়ে যায় সুদূর।

​ভুলে যাওয়া সহজ নয় তো তার নাম,

যে নাম খোদাই করা রক্তে আর শিড়ায়,

শত চেষ্টার পাহাড় ডিঙিয়েও

মন বারেবারে তার কাছেই ফিরে যায়।

​সময় হয়তো বয়ে চলে চেনা পথে,

জগৎ ভুলতে বলে শত অজুহাতে,

তবু যে নারী বসত গড়েছে বুকে,

সে তো রয়ে যায় প্রতিটি নিঝুম রাতে।

[10/5, 11:53 PM] Ibrahim khalil: মায়ার জাল

-----------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​রঙিন এক মায়ার জালে বাঁধা পড়েছে মন,

সুখে-দুখে কাটছে দিন, মিছেই সারাক্ষণ।

ছায়াবাজি এই রূপনগরী, ঝলমলে তার রূপ,

মিথ্যে চাওয়া, মিথ্যে পাওয়া, সবই যে নিশ্চুপ।

​

মরীচিকার পিছু ধাওয়া, শূন্য কেবল হাত,

আঁধার ঘনে আলো মেখে আসে নতুন রাত।

বাঁধনগুলো রেশমি সুতোয়, দেখতে বড় শক্ত,

এই জালেতেই বন্দী হয়ে রইল হৃদয়-রক্ত।

​

হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে একলা চোখের জল,

মায়ার স্রোতে ভেসে চলেছে জীবনের এই তল।

​নাম না জানা অচিন পাখি ডানা মেলে ওড়ে,

তব মনটা আটকে থাকে জীর্ণ মাটির ঘরে।

আশা-নিরাশার খেলায় মোরা নিত্য মাতোয়ারা,

ভোরের বেলা হারিয়ে যায় রাতের সমস্ত তারা।

​মোহ রূপী মিষ্টি বিষে ভুলছি সঠিক পথ,

না চিনেও ছুটছি মোরা অন্ধ স্মৃতির রথ।

ক্ষণিকের এই পান্থশালায় কেন এত টান?

মায়ার জালে বন্দি হয়ে ক্ষয়ে যায় যে প্রাণ।

​ বন্ধ করো আঁখি দুটো, দেখবে সত্য আলো,

ছায়ার মোহে আটকে থেকে মনকে কেন কালো?

মায়ার সুতো ছিঁড়তে পারলেই মুক্ত নীলাকাশ,

উধাও হবে বিষাদ যত, বইবে স্নিগ্ধ বাতাস।

​তবু মানুষ মায়ায় বাঁধে, মায়াতেই মরে,

এই বাঁধনেই জড়িয়ে থাকে জীবন আমরণ ধরে।

[10/5, 11:55 PM] Ibrahim khalil: আপন স্বার্থে অন্ধ

------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

চোখ দুটো যার সব দেখেও

বুকের মধ্যে পাথর রাখে,

আপন স্বার্থের দেয়াল তুলে

সত্য গোপন করে রাখে—

​তার আলোতে কী বা আসে,

তার দৃষ্টিতে কী বা বাসে?

আন্ধার যার ভেতরে পোড়ে,

বাহিরে তার রাত পোহায় সে?

​স্বার্থ নামের চশমা এঁটে

যিনিই কেবল নিজের ভাবেন,

পরের দুঃখের কান্নার সুর

শুনতেও কি তিনি পাবেন?

​চোখ থাকলেও অন্ধ সে জন,

আলোর পানে মন জাগে না,

স্বার্থের এই ঘোর কুয়াশায়

সত্যের রূপ তো চোখেই পড়ে না।

​চোখ তো কেবল মাংসের ঢিবি,

যদি না থাকে করুণার ছোঁয়া,

স্বার্থান্ধ সেই চোখের চেয়ে

অন্ধ হওয়াই পরম পাওয়া।

[10/5, 11:56 PM] Ibrahim khalil: না পাওয়ার নামই ভালোবাসা

----------------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​যে ফুল ফোটে না, তার ঘ্রাণ থেকে যায় বাতাসে,

যে নদী মেলে না মোহনায়, সে তো বহে দীর্ঘশ্বাসে।

পাওয়ার নাম যদি হতো শুধু ভালোবাসা,

তবে কেন অপূর্ণতায় বেঁধে রাখি বুকভরা আশা?

​হয়তো তোমায় পেয়ে গেলে, চুকে যেত সব দেনা,

চেনা চেনা মুখগুলো হয়ে যেত অতি চেনা।

দূরত্বটুকু আছে বলেই আলো ঝরে জোছনায়,

তুমি আছো এক রঙিন রূপকথা হয়ে ভাবনায়।

​হারিয়ে ফেলেছি যা কিছু, সে তো ক্ষণিকের ভুল,

না-পাওয়ার অতলে ফুটে আছে এক নীল পদ্মফুল।

প্রাপ্তির সুখে মলিন হয় যা, তার চেয়ে ভালো এই বিরহ,

যেখানে অমর হয়ে থাকে হৃদয়ের গোপন হাহাকার আর তীব্র দহন।

​তোমাকে না পেয়েই বরং পেয়ে গেলাম এক শাশ্বত সুর,

তুমি হীনা এই আমিটুকুও, দেখো, কত সুন্দর, কত দূর!

[10/5, 11:56 PM] Ibrahim khalil: মায়ার জাল

-----------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​রঙিন এক মায়ার জালে বাঁধা পড়েছে মন,

সুখে-দুখে কাটছে দিন, মিছেই সারাক্ষণ।

ছায়াবাজি এই রূপনগরী, ঝলমলে তার রূপ,

মিথ্যে চাওয়া, মিথ্যে পাওয়া, সবই যে নিশ্চুপ।

​

মরীচিকার পিছু ধাওয়া, শূন্য কেবল হাত,

আঁধার ঘনে আলো মেখে আসে নতুন রাত।

বাঁধনগুলো রেশমি সুতোয়, দেখতে বড় শক্ত,

এই জালেতেই বন্দী হয়ে রইল হৃদয়-রক্ত।

​

হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে একলা চোখের জল,

মায়ার স্রোতে ভেসে চলেছে জীবনের এই তল।

​নাম না জানা অচিন পাখি ডানা মেলে ওড়ে,

তব মনটা আটকে থাকে জীর্ণ মাটির ঘরে।

আশা-নিরাশার খেলায় মোরা নিত্য মাতোয়ারা,

ভোরের বেলা হারিয়ে যায় রাতের সমস্ত তারা।

​মোহ রূপী মিষ্টি বিষে ভুলছি সঠিক পথ,

না চিনেও ছুটছি মোরা অন্ধ স্মৃতির রথ।

ক্ষণিকের এই পান্থশালায় কেন এত টান?

মায়ার জালে বন্দি হয়ে ক্ষয়ে যায় যে প্রাণ।

​ বন্ধ করো আঁখি দুটো, দেখবে সত্য আলো,

ছায়ার মোহে আটকে থেকে মনকে কেন কালো?

মায়ার সুতো ছিঁড়তে পারলেই মুক্ত নীলাকাশ,

উধাও হবে বিষাদ যত, বইবে স্নিগ্ধ বাতাস।

​তবু মানুষ মায়ায় বাঁধে, মায়াতেই মরে,

এই বাঁধনেই জড়িয়ে থাকে জীবন আমরণ ধরে।

[10/5, 11:57 PM] Ibrahim khalil: ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব

---------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

দূর সীমানার নীল আকাশে মেঘ জমা এক ক্ষণে,

হঠাৎ করে আলোর ছোঁয়া বন্ধুত্বের প্রেমে।

একটা হাতে আস্থার গান, অন্য হাতে সুর,

চলতে চলতে পথের ক্লান্তি পালিয়ে যায় বহু দূর।

​বন্ধুত্ব সে তো একলা রাতের ধ্রুবতারার আলো,

নিঃশব্দে যে পাশটিতে রয়, বাসতে জানে ভালো।

কোনো শর্তের বাঁধন ছাড়া সহজ খোলা মন,

হাজার ভীড়েও বুক আগলে রাখার গোপন আয়োজন।

​আর ভালোবাসা? সে তো ঝড়ের পর শান্ত সমীরণ,

দুটো নদীর এক হয়ে আজ সমুদ্রের মিলন।

চোখের ভাষায় মন পড়া আর চুপটি করে থাকা,

একটুখানি অভিমানে জড়িয়ে ধরে রাখা।

​বন্ধু যখন হাতটি বাড়ায় স্নেহের উষ্ণতায়,

ভালোবাসা সুবাস হয়ে মিলায় হাওয়ায় হাওয়ায়।

যেখানেতে বন্ধু থাকে, ভালোবাসা জাগে,

জীবন নদীর প্রতিটি বাঁক রঙিন হয়ে লাগে।

[10/5, 11:58 PM] Ibrahim khalil: কবরের যাত্রী

-------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

জীবনের পথ হেঁটে একদিন

হতে হয় নিঃশব্দ পথিক,

দুনিয়ার সব মায়াজাল ছিঁড়ে

কবরই যে জীবনের শেষ দিক।

​যতোই থাকুক রূপ ও যৌবন,

যতোই থাকুক অর্থ ও মান,

মাটির ঘরের মাটির নিচে

সবাইকে হতে হবে সমান।

​সাড়ে তিন হাত অন্ধ কুঠিরে

সঙ্গী হবে শুধু ভালো কাজ,

মিছে অহংকার মিছে এ লড়াই,

ছেড়ে যেতে হবে পার্থিব সাজ।

​

ওহে কবরের দূরযাত্রী,

কেন ভুলিয়া আছ সময়?

পরকালের তরী সাজাও আলোয়,

মুছে যাক যত পাপের ভয়।

[10/5, 11:58 PM] Ibrahim khalil: ভালো রাখার নাম প্রেম

--------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​কাছে পেয়ে বাঁধার নাম প্রেম নয়,

নয়তো শুধু ছেড়ে দেওয়ার ছল,

প্রেম তো সে এক শান্ত নদী,

গভীরে যার থইথই কেবল জল।

​মুঠোয় পুরে আটকে রাখা

ভালোবাসার ধর্ম তো নয় মোটে,

প্রেম তো ফোটে সেই হাসিতে,

যা তার ঠোঁটের কোণে হঠাৎ ফোটে।

​অভিমানের মেঘগুলো সব

ভালোবাসায় উড়িয়ে দিতে হয়,

তার সুখেতে নিজের সুখের

সুবাস খাঁটি খুঁজে নিতে হয়।

​নিজের চেয়েও তার ভালোটা

চেয়ে যাওয়ার নামই তো অনুরাগ,

তার একলা পথের আলো হয়ে

মুছিয়ে দেওয়া সকল বিষাদ-রাগ।

​দূরে থাকা কিম্বা কাছে পাওয়ার

হিসেব-নিকাশ মিথ্যে হয়ে যায়,

ভালোবেসে ভালো রাখার নামই প্রেম—

যা নিঃস্বার্থভাবে জড়িয়ে রাখতে চায়।

[10/5, 11:59 PM] Ibrahim khalil: কলেজ জীবনের বন্ধু

------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

স্মৃতির খাতায় ধূলো জমে কত,

বদলে গেছে জীবনের চেনা পথ।

তবুও মনেতে থেকে যায় জমা,

কলেজের দিন, অমলিন ক্ষমা।

​ক্যান্টিনের সেই চা-সিঙাড়া,

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা অসংকোচ,

একসাথে হাসি, একসাথে কাঁদা,

অভিমান ভুলে বুকে বুকে মেলা চোখ।

​লাইব্রেরির নীরব কোণে,

নোট নেওয়ার নামে গল্প বোনা,

সেই দিনগুলো আজ বড়ো অনায়াসে

স্বপ্নের ফ্রেমে সোনা দিয়ে মোড়া।

​কে কোথায় আজ আছি ছড়িয়ে,

ব্যস্ততায় কাটে চেনা এ জীবন,

তবু বন্ধু তোদের নামটা শোনলেই

ফিরে পায় প্রাণ পুরানো সে মন।

​বন্ধু মানেই এক চিলতে রোদ,

কলেজের করিডোরে সেই খিলখিল হাসা,

সময় থমকে দাঁড়ায় যেখানে—

সবটুকু জুড়ে নীরব ভালোবাসা।

[10/6, 12:00 AM] Ibrahim khalil: স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখা

-----------------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

ক্লাসের ফাঁকে টিফিন বেলায়,

দেওয়াল টপকে এক নিমেষে,

বইয়ের ব্যাগটা কাঁধে নিয়েই

হাজির হলাম অন্য দেশে।

​স্যারের পড়া, অঙ্কের ভয়—

সব ভুলে আজ মুক্তি মেলা,

হল ঘরের ওই কালো আঁধারে

শুরু হলো এক রঙের খেলা।

​রুপালী পর্দায় স্বপ্ন ওড়ে,

নায়ক মারেন বিশাল লাফ,

বুক টিপটিপ পপকর্ন হাতে,

ধরা পড়লেই সবটা ছাফ!

​গেটকিপারের ঘোর লাল চোখ,

মনে জাগায় চরম ভয়,

তবুও সিনেমার ওই আলোয়

আজ আমাদের জয়ই জয়।

​বাড়ি ফেরার সময় এলে

মুখস্থ করি নানা অজুহাত,

স্কুল ফাঁকির এই মিষ্টি স্মৃতি

মনে থাকবে দিন ও রাত।

[10/6, 4:33 PM] Ibrahim khalil: এই ঘর এই সংসার

---------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​ছোট্ট একটা তরী যেমন ভাসায় নদীর জল,

তেমনি করে বাঁধছি জীবন, এই তো মোদের বল।

একটুখানি মাটির ওপর একলা একটা ঘর,

পরের মানুষ আপন হলো, আপন হলো পর।

​ভোর বিহানে আলো আসে টিনের চালের ফাঁকে,

ঘরের কোণে হাঁড়িকুড়ি কাজের কথায় ডাকে।

দিনের শেষে শ্রান্ত পায়ে যে যার নীড়ে ফেরা,

একটুখানি সুখের ছোঁয়ায় দুঃখগুলো ঘেরা।

​কখনো বা মেঘ নেমে আসে, আবার রোদের হাসি,

সব ভুলে তাই একসূত্রে বাঁধি পাশাপাশি।

ঝড়-তুফানেও আঁকড়ে ধরে থাকবে মোদের আশা,

ইঁটের ইমারত নয় রে এটা, শুধু ভালোবাসা।

​তুচ্ছ যত অভিমান আর মিষ্টি হাজার খেলা,

এই ঘর এই সংসারেই কাটে রঙিন বেলা।

[10/6, 4:35 PM] Ibrahim khalil: আশা ভালোবাসা

-------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

হৃদয় কোণে মেঘ জমেছে, আঁধার কালো রাতে,

তবুও তোমায় ভেবেই বাঁচি স্বপ্ন নিয়ে সাথে।

আশার আলো জ্বেলে রাখি আঁখির নদীর তীরে,

হয়তো কোনোদিন আসবে তুমি এই জীবনের নীড়ে।

​যেদিন থেকে তোমায় আমি প্রথম দেখলাম,

ভালোবাসার গভীর নীল সাগরে ভাসলাম।

একটু ছোঁয়া, একটু হাসি, একটু কথা বলা—

তোমার পথেই তোমায় নিয়ে হাজার বছর চলা।

​দুঃখের ঝড়ে ভাঙবে না তো আমার বুকের বল,

তোমার নামেই মোছাব আজ চোখের নোনা জল।

আশা আমার মিটবে না যে, ভালোবাসা অমর,

তুমি আমার প্রথম জীবন, তুমিই শেষ প্রহর।

[10/6, 4:36 PM] Ibrahim khalil: নদি

------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

নদীর কোনো তাড়া নেই, তবু সে হেঁটে যায় কত পথ,

বুকের ভেতর বয়ে নিয়ে শত স্মৃতি আর নীরব শপথ।

পাহাড়ের কো কোল ছেড়ে কোন অজানা টানে,

ছুটে চলে একটানা সমুদ্রের পানে।

​দুই কূলে তার কত খেলা, কত মানুষের রূপকথা,

কাউকে সে দেয় নব জীবন, কারো ভাঙনে বুকভরা ব্যথা।

জল নয়, যেন বয়ে চলে কালেরই এক অনন্ত সুর,

দুপুরের খাঁ খাঁ রোদে কিংবা মেঘলা গোধূলির দূর।

​সব সয়েও নদী গান গেয়ে যায় অবিরাম,

তার চলন্ত ধারায় লেখা কত না পাওয়া সুখের নাম।

অনন্ত এ যাত্রার শেষে, মোহনায় মিশে গেলে পর,

নদী আর নদী থাকে না, হয়ে যায় অসীম এক ঘর।

[10/6, 4:38 PM] Ibrahim khalil: ভালো রাখার নাম প্রেম

--------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​কাছে পেয়ে বাঁধার নাম প্রেম নয়,

নয়তো শুধু ছেড়ে দেওয়ার ছল,

প্রেম তো সে এক শান্ত নদী,

গভীরে যার থইথই কেবল জল।

​মুঠোয় পুরে আটকে রাখা

ভালোবাসার ধর্ম তো নয় মোটে,

প্রেম তো ফোটে সেই হাসিতে,

যা তার ঠোঁটের কোণে হঠাৎ ফোটে।

​অভিমানের মেঘগুলো সব

ভালোবাসায় উড়িয়ে দিতে হয়,

তার সুখেতে নিজের সুখের

সুবাস খাঁটি খুঁজে নিতে হয়।

​নিজের চেয়েও তার ভালোটা

চেয়ে যাওয়ার নামই তো অনুরাগ,

তার একলা পথের আলো হয়ে

মুছিয়ে দেওয়া সকল বিষাদ-রাগ।

​দূরে থাকা কিম্বা কাছে পাওয়ার

হিসেব-নিকাশ মিথ্যে হয়ে যায়,

ভালোবেসে ভালো রাখার নামই প্রেম—

যা নিঃস্বার্থভাবে জড়িয়ে রাখতে চায়।

[10/6, 4:40 PM] Ibrahim khalil: স্কুল বেলা

-------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​টিফিনের ঘণ্টায় রোদের খেলা,

বারান্দায় বসে চাটনি খাওয়া,

রঙিন ছিল যে স্কুলবেলা—

কোথায় হারিয়ে গেল সে হাওয়া!

​ক্লাসরুম জুড়ে টিফিনের ছল,

পড়াশোনা ফেলে শুধুই হাসি,

চক-ডাস্টারের মিষ্টি গন্ধে

হৃদয় ভাসত অপার খুশি।

​পরীক্ষার ভয়ে কাঁপা কাঁপা বুক,

পড়া না পারলে কানে টান,

স্যারদের শাসন, ম্যাডামের স্নেহ,

সুর হয়ে বাজে স্মৃতিময় গান।

​আজ আর বাজে না ছুটির ঘণ্টা,

খুঁজে পাই না সে ব্লাকবোর্ড,

হৃদয়ের কোনায় আজও জমে আছে

শৈশবমাখা সে মিষ্টি শব্দ।

[10/6, 4:41 PM] Ibrahim khalil: ভালো রাখার নাম প্রেম

--------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​কাছে পেয়ে বাঁধার নাম প্রেম নয়,

নয়তো শুধু ছেড়ে দেওয়ার ছল,

প্রেম তো সে এক শান্ত নদী,

গভীরে যার থইথই কেবল জল।

​মুঠোয় পুরে আটকে রাখা

ভালোবাসার ধর্ম তো নয় মোটে,

প্রেম তো ফোটে সেই হাসিতে,

যা তার ঠোঁটের কোণে হঠাৎ ফোটে।

​অভিমানের মেঘগুলো সব

ভালোবাসায় উড়িয়ে দিতে হয়,

তার সুখেতে নিজের সুখের

সুবাস খাঁটি খুঁজে নিতে হয়।

​নিজের চেয়েও তার ভালোটা

চেয়ে যাওয়ার নামই তো অনুরাগ,

তার একলা পথের আলো হয়ে

মুছিয়ে দেওয়া সকল বিষাদ-রাগ।

​দূরে থাকা কিম্বা কাছে পাওয়ার

হিসেব-নিকাশ মিথ্যে হয়ে যায়,

ভালোবেসে ভালো রাখার নামই প্রেম—

যা নিঃস্বার্থভাবে জড়িয়ে রাখতে চায়।

[10/6, 4:42 PM] Ibrahim khalil: এমন একজন মানুষ হোক

-------------------------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

এমন একজন মানুষ হোক,

যে হাতটা ধরে বলবে— আমি আছি তো, ভয় কীসের?

ঝড় আসুক কিংবা আঁধার নামুক,

পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে বলবে, সবটুকু পথ তোমাকেই চাই।

​যে আমার ভুলগুলো শুধরে দেবে ভালোবেসে,

রাগ ভাঙাবে মিথ্যে কোনো ছলে,

আমার নিস্তব্ধতার পেছনের শব্দগুলো

যে বুঝে নেবে কোনো কথা না বোলেই।

​পৃথিবীর ভিড়ে সবাই যখন ব্যস্ত নিজ গন্তব্যে,

সে তখন আমার শান্তির বন্দর হবে।

যার কাছে নিজেকে লুকানোর কোনো প্রয়োজন পড়বে না,

যে আমাকে আমার মতো করেই ভালোবাসবে।

​এমন একজন মানুষ হোক,

যে ভাগ করে নেবে আমার বিষাদটুকুও,

যে ছেড়ে যাওয়ার হাজারটা অজুহাত থাকলেও

শুধু থেকে যাওয়ার একটা কারণ খুঁজে নে

[10/6, 4:43 PM] Ibrahim khalil: শরতের সকাল

----------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

শিশিরভেজা ঘাসের ডগায়

রোদের মিঠে হাসি,

কাশবনে আজ দোলা লাগে

বাঁজলো বুঝি বাঁশি।

​নীল আকাশে সাদা মেঘের

ভেসে যাওয়ার খেলা,

শিউলি তলায় সুবাস মেখে

জাগলো সকালবেলা।

​দিঘির জলে পদ্ম ফোটে

আলতো হাওয়ার টানে,

শরৎ এল নতুন রূপে

মৃদু পাখির গানে।

​মেঠো পথের ধারে ধারে

রোদের সোনা ছায়া,

শরৎ সকাল জুড়ে যেন

স্বর্গের এক মায়া।

[10/6, 4:44 PM] Ibrahim khalil: ​স্মৃতির নক্ষত্র

--------------------

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​যে নারী মনের গভীর গহীনে

এঁকে যায় ভালোবাসার নীলাঞ্জন,

তার ছবি ভুলি কীভাবে বলো,

সে তো নিঃশ্বাসে বাঁধা এক বন্ধন।

​চোখের পলকে সে তো শুধু চেনা মুখ নয়,

সে যেন হৃদয়ের গোপন সুর,

দিনশেষে আলো নিভে গেলেও

স্মৃতি তার রয়ে যায় সুদূর।

​ভুলে যাওয়া সহজ নয় তো তার নাম,

যে নাম খোদাই করা রক্তে আর শিড়ায়,

শত চেষ্টার পাহাড় ডিঙিয়েও

মন বারেবারে তার কাছেই ফিরে যায়।

​সময় হয়তো বয়ে চলে চেনা পথে,

জগৎ ভুলতে বলে শত অজুহাতে,

তবু যে নারী বসত গড়েছে বুকে,

সে তো রয়ে যায় প্রতিটি নিঝুম রাতে।

[10/8, 1:06 PM] Ibrahim khalil: কলমের অধিকার

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

কলম এখন কেবল কাঠ আর কালি নয়,

এ এক প্রদীপ্ত অস্ত্র, সত্যের জয়।

যে হাত ধরে শেকলভাঙা গান,

যে রক্তে গড়ে হাজার মুক্ত প্রাণ—

সেই কলম কোনো আজ্ঞাবহ ভৃত্য নয়,

তার অধিকারে রচিত হয় নতুন এক সময়।

​আইনের পাতা থেকে খবরের শিরোনাম,

অন্যায়ের মুখে যে লিখে দেয় শেষ দাম,

যেথায় শাসকের রক্তচক্ষু থমকে দাঁড়ায়,

একটি কালির বিন্দুতেই ব্যবধান মুছে যায়।

কলমের অধিকার কোনো দান বা করুণা নয়,

মুক্তচিন্তার আকাশে সে স্বাধীন চিরন্তন।

​মুখ চেপে ধরা হলেও, শৃঙ্খল পরানো হলেও হাত,

কলম থামেনি কোনোদিন—ফুটবে নতুন প্রভাত।

কাগজে কালিতে যখন ফুটে ওঠে অধিকারের স্বর,

ভেঙে পড়ে মিথ্যার সমস্ত বাঁধন আর অহংকারের ঘর।

কলম চলুক অবিরত, না মানুক কোনো ভয়,

কলমের স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই সত্যের চির জয়!

[10/8, 1:08 PM] Ibrahim khalil: ভাগ্যের পরিহাস

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

ভাগ্যের পরিহাসে ছায়া ঘিরে থাকে,

সুখের প্রতিটি মোড় দুঃখে ডেকে রাখে।

আমোদ কুড়াতে গেলে জ্বলে ওঠে চিতা,

নিয়তির চাবুকে কাটে চিরকাল খাতা।

​পায়ের তলায় যার আধার ও ছাই,

আশার কূলকিনারা খুঁজে পেতে নাই।

হাতের মুঠোয় আলো ধরতে যে যায়,

আকাশের তারাগুলো নিভে যায় তায়।

​পিপাসার টানে যদি ছোটে কোনজন,

মরুভূমি হয়ে ওঠে সবুজ কানন।

যেদিকে বাড়ায় হাত তটিনী ও জল,

অভাগা যেদিকে যায় শুকায় সাগর!

​তবুও কি আশার প্রদীপ জ্বলে অন্তরে?

দুঃখের পাহাড় ভেঙে আলো আসবেই ভোরে।

ভাগ্যকে মেনে নিয়ে পথ হেঁটে যাওয়া,

একদিন মিলবেই হয়তো মুক্তির হাওয়া।

[10/8, 1:09 PM] Ibrahim khalil: ​ বই যে শ্রেষ্ঠ

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​অন্ধকারে আলোর রেখা,

একলা থাকার সাথি,

বইয়ের পাতায় জেগে থাকে

এক অপরূপ বাতি।

​নেইকো কোনো অনুযোগ তার,

নেই তো অভিমান,

চুপটি করে বিলিয়ে দেয় সে

অশেষ জ্ঞানবাণ।

​

ঝগড়া কিংবা কটু কথায়

ভাঙে না তার মন,

সব অবস্থায় পাশে থাকে

বই যে শ্রেষ্ঠ জন।

​চোখের ভাষায় কথা বলে,

ভাবায় নীরব রাতে,

সুখ ও দুখের অসীম পথে

থাকে সে হাত বাড়িয়ে হাতে।

​দুনিয়ার সব বাঁধন ছেঁড়ে,

স্বার্থের এই ভবে,

বইয়ের মতন বিশ্বস্ত বন্ধু

বল তো আর কে হবে?

[10/8, 1:10 PM] Ibrahim khalil: আংগো বাড়ি আইয়েন

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

রূপ রূপাসির নোয়াখালী, মেঘনা তীরের বাঁক,

ইতিহাস আর ঐতিহ্যেতে সুবাস মেখে থাক।

নারকেল গাছ আর সুপারির বনে বাতাস খেলে যায়,

ইলিশ মাছের স্বাদে রুপালি রূপসী মেঘনায়।

​নারকেল জিঞ্জিরা আর মাটির সুবাস মেখে,

নারকেলের নাড়ু-মিষ্টির স্বাদ জিহ্বাতে থাকে লেগে।

চাটগাঁর কাছে হলেও মোদের চাটগাঁর চেয়ে আলাদা টান,

'মইচ্ছার ছাল' আর ঝাল খাবারে জোড়ে প্রাণের গান।

​নিঝুম দ্বীপের সবুজ ঘাসে হরিণ খেলে ধেয়ে,

সোনাইমুড়ী, মাইজদী শহর রূপের পসরা নিয়ে।

বজরা শাহী মসজিদ দাঁড়িয়ে চারশো বছর ধরে,

নোয়াখালীর মানুষগুলো আতিথেয়তায় বাঁধে ঘরকে।

​কথার টানে মিষ্টি সুর, "আংগো বাড়ি আইয়েন",

শ্রদ্ধা ভালোবাসার টানে নোয়াখালী যাইয়েন।

মেঘনার কূলে বেঁচে থাক এই ঐতিহ্য আর স্মৃতি,

আমার সোনার নোয়াখালী— মোদের অহংকার ও প্রীতি।

[10/8, 1:11 PM] Ibrahim khalil: কষ্ট ছাড়া সাফল্য নেই

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

কষ্ট বিনা মেলে না সাফল্য এ ধরায়,

ঘামের ক ফোটা দিয়ে ভাগ্যের ফুল ফোটে রে ভাই।

যে নদী সহে পাথর-আঘাত, সে-ই পায় সাগরের কূল,

যে কুঁড়ি সহে ঝড়ের তাণ্ডব, ফুটায় সে-ই তো ফুল।

​সুখের প্রদীপ জ্বালাতে হলে সইতে হয় যে আলো,

রাতের আঁধার পার হয়ে তবে আসে ভোরের আলো।

বসে বসে শুধু স্বপ্ন বুনলে আসবে না কোনো জয়,

পরিশ্রমের শক্তিতেই দূর হয় যত ভয়।

​পাহাড়সম বাধা এসে দাঁড়াক না পথজুড়ে,

ধৈর্য ধরে লড়ে যাও, সাফল্য যাবে না দূরে।

পরিশ্রমের ফসল ফলবে, কাটবে সব বিষাদ—

কষ্টের পরই লুকিয়ে থাকে সাফল্যের আস্বাদ।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.