ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। "সিপাহি-জনতার ঐক্যে পরিবর্তিত হয়েছিল দেশের রাজনীতির গতিধারা"

আজ ঐতিহাসিক  ৭ নভেম্বর  জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।  "সিপাহি-জনতার ঐক্যে পরিবর্তিত হয়েছিল দেশের রাজনীতির গতিধারা"

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।

"সিপাহি-জনতার ঐক্যে পরিবর্তিত হয়েছিল দেশের রাজনীতির গতিধারা"

নব জ্যোতি ডেস্ক :

আজ ৭ নভেম্বর — জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিপথ আমূল পরিবর্তিত হয়েছিল। এই দিনে সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্য ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে রাখেন।

খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।কিন্তু ৬ নভেম্বর রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনে সর্বস্তরের জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লবে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে প্রাণ হারান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। সেদিনের এই ঘটনাপ্রবাহই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম সত্তা হিসেবে শক্ত অবস্থান লাভ করে। গণতন্ত্রের শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে শুরু হয় বহুদলীয় রাজনীতির নতুন যুগ।বিএনপির কর্মসূচি ও পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এ দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি সরকারের আমলে দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। তবে বর্তমান সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে দিবসটি পালনে নানা বাধা থাকলেও এ বছরও দলটি ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।এ দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি,এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবে বিএনপি।

দিবসটি উপলক্ষে বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে, যার আয়োজক ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুষ্ঠিত হবে অনুরূপ র‍্যালি ও আলোচনা সভা।বিএনপি নেতাদের বাণী দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,“৭ নভেম্বরের চেতনায় সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণ করতে হবে। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।”অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেন,

“যে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই চেতনা ধারণ করে আজও আমাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে বিদায় জানিয়ে ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশে এখনো একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার ঐক্য দেশের রাজনীতিকে নতুন মোড় দেয়, যার প্রভাব আজও বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে গভীরভাবে বিদ্যমান।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.