'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা'
গ্রামের মাটির সন্তান থেকে মানবতার মশালবাহী স্পাইন সার্জন পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি অকৃত্রিম দায়িত্ববোধের গল্প:
নব জ্যোতি ফিচার ডেস্কঃ
একটি প্রত্যন্ত গ্রাম, লেবুতলা, যশোর। এক ছোট ছেলের চোখে তখন স্বপ্ন, অন্তরে ছিল জেদ। বাবা মরহুম মোঃ আরশাদ আলী মোল্লা ছিলেন একজন কৃষক। মাটি, ফসল আর গ্রামের বাতাসে বেড়ে ওঠা সেই শিশুটি একদিন দেশের খ্যাতিমান স্পাইন সার্জন হয়ে উঠবেন—সে সময় তা কে জানত?
মা জহুরা বেগম ছিলেন পরিবারের এক অনড় স্তম্ভ। অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানকে শিক্ষিত করার জন্য তিনি জীবনের সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।
শৈশব কেটেছে সংগ্রাম আর কষ্টের ছায়ায়।ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ক্ষেতের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে
কৃষিকাজের গল্প শোনা ছিল ফরিদুলের নিত্যসঙ্গী।
কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়া এই শিশুর চোখে তখন স্বপ্ন, কিন্তু বাস্তবতা ছিল কঠিন। লেবুতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাশ করেন।
এরপর শহীদ সিরাজউদ্দীন হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি।অর্থের ঘাটতি, বইয়ের অভাব, কখনো ফ্রেমে না আসা সুযোগ সব কিছু মোকাবিলা করতে হয়েছিল।
কলেজ জীবনে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও ভোটানির বই কেনার সামর্থ্য ছিল না। শিক্ষকরাই ছেলেটিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।ফরিদুল আজও মনে করেন,“যে মানুষ তার জীবনের শিক্ষকদের ভুলে যায়, সে কখনোই প্রকৃত শিক্ষিত হতে পারে না।” শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান দিয়েছেন তা নয়, মানবিক দায়িত্ববোধও শিখিয়েছেন।
এই সময় থেকেই জন্ম নেয় এক অনড় চেতনা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ও কষ্ট বোঝার ক্ষমতা। শিক্ষার পাশাপাশি ছোটবেলার স্মৃতি,পরিবারের প্রভাব, গ্রামের মানুষদের সহানুভূতি সব মিলিয়ে গড়ে তোলে এক মানবিক চরিত্র।
বাবা মরহুম আরশাদ আলী মোল্লা জীবনের সরল পথে চলতেন,কিন্তু স্বপ্ন ছিল বিশাল ছেলেকে সমাজে সম্মানিত অবস্থায় দেখতে চেয়েছিলেন। মা জহুরা বেগম সংসারের আর্থিক সংকট সত্ত্বেও কখনো ছেলের পড়াশোনার পথে ঘাটতি হতে দেননি।
এই পরিবারিক সহায়তাই ফরিদুলকে কঠিন শিক্ষা পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ভর্তি হন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল। মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার দিনগুলো সহজ ছিল না।
ইন্টার্নশিপ চলাকালীন ফরিদুল লক্ষ্য করলেন, স্পাইনজনিত রোগীদের অসহায়ত্ব কষ্টের চূড়ান্ত সীমা স্পর্শ করছে। অনেক রোগী এমনও বলেন, "আমার আর বাঁচার ইচ্ছে নেই।"সেই মুহূর্তেই তাঁর জীবনে এক অদম্য সিদ্ধান্ত আসে,তিনি হবেন স্পাইন সার্জন।
এটি কেবল একটি চিকিৎসক হওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নয়,এটি মানুষের ব্যথা বোঝার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল হওয়ার প্রতিজ্ঞা।এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন,ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা। AO Spine & Trauma Fellowship, সুইজারল্যান্ড এবং APSS Fellowship, বাংলাদেশ সবকিছুই তাকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও দক্ষতার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ শিখিয়েছে।
ডাঃ মোঃ ফরিদুল ইসলাম শুধুমাত্র একজন ডাক্তার নন, তিনি একজন মানবিক চেতনার প্রতিনিধি। নোয়াখালীতে এসে তিনি দেখলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা অপ্রতুল এবং অসঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন,একটি উপজেলায় জনসংখ্যা ৭ থেকে ১০ লাখ, বেডের সংখ্যা মাত্র ৩০ থেকে ৫০।এ কারণে একজন রোগীও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো পাচ্ছেন না। এটি ছিল তার চোখে এক বাস্তবতা, যা তিনি পরিবর্তনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন।
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন,“যদি আমাদের ডাক্তাররা চাপের মধ্যে থাকেন, তাহলে রোগী সঠিক চিকিৎসা পাবেন না।একজন ডাক্তারকে পরিবেশ, সময় এবং সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।” তিনি দেখেছেন, অনেক ডাক্তার কাজের চাপ ও অসম্মানজনিত কারণে পেশা ছেড়ে প্রশাসন বা অন্য ক্ষেত্রের দিকে চলে যাচ্ছে। এটি দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি।
চিকিৎসা পেশার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেন।বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য তিনি কোনো রকম আর্থিক চাপে থাকেন না। অর্থের অভাবে কেউ যদি তার চেম্বারে আসে, সে বিনা চিকিৎসাই সেবা পান। এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের এক অমলিন দিক।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রমোশন ধীরগতিতে হওয়া। নিজের ২০ বছরের চাকুরি জীবনে তিনি প্রায়ই দেখেছেন, মেধাবী ডাক্তাররা প্রমোশন না পেয়ে হতাশ হয়ে যান। তিনি নিজেও প্রায় দেড় মাস আগে প্রমোশন পেয়েছেন,
সহকারী অধ্যাপক পদে আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজ চাকুরীরত আছেন।
কিন্তু অনেক বন্ধু একই দিনে অন্য সেক্টরে চাকুরীতে যোগ দিয়ে একাধিক প্রমোশন পেয়েছেন। এই ধরনের বৈষম্য চিকিৎসা পেশার জন্য একটি নৈতিক ও প্রেরণাগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা মানে শুধু রোগ সারানো নয়, রোগীর প্রতি মানবিক সহানুভূতি দেখানো। তিনি মনে করেন, “একজন মানুষের ক্ষতি না করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই আমার ছাত্ররাও এমন নৈতিক দিকটি শিখুক।”
তার শিক্ষাগত ও মানবিক মূল্যবোধের কারণে, তিনি সব সময় ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। কেউ যদি আর্থিক অসচ্ছলতা বা শিক্ষা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, ডাঃ ফরিদুল তাকে সাহায্য করতে পিছপা হন না।
নোয়াখালী আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজ ও প্রাইম হাসপাতাল, মাইজদীতে তার চেম্বার, এই দুটো স্থানই তার মানবিক চেতনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত চৌমুহনী চেম্বার এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাইজদী চেম্বারে তিনি রোগীদের দেখেন। এখানে শুধু মেরুদন্ড ও জয়েন্টের সমস্যা নয়, প্রতিটি রোগীর মানসিক সমর্থনও তিনি দেন।
চিকিৎসা কার্যক্রমে তিনি দেখেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অনিয়ম ও অদক্ষতার কারণে কত মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি বলেন, “সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার অবদান রাখছে।
কিন্তু সেখানে বাস্তবে দৃশ্যমান দেখা যায় শিক্ষাগতভাবে
অদক্ষ লোকদের দিয়ে প্রেসক্রিপশন করানো হয়।যেখানে একজন এম.বি.বি.এস ডাক্তার প্রয়োজন। তিনি রাষ্টীয় সুযোগ সুবিদা পেলে জনসাধারনের স্বাস্থ্য সেবায় সুনাম অর্জন করবেন, যদি ডাক্তার যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পান, রোগীর সেবা ব্যাহত হয়।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনের গল্পের প্রতিটি অধ্যায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মানবিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা তার মূল দিক। তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ও সহকর্মীদের সচেতন করেন যে, প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর্থিক সুবিধা বা সামাজিক চাপ কখনোই চিকিৎসার পথে বাঁধা হতে পারে না।
চেম্বারে রোগী দেখার সময় তিনি সর্বদা শান্ত মনোভাব রাখেন। রোগী যদি কষ্টে থাকে, তিনি শুধু চিকিৎসা দেন না, মানসিক সমর্থনও দেন। তিনি বলেন, “মানুষকে প্রথমে বোঝা দরকার। তাদের কষ্ট বুঝতে পারলে চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।”
এটি তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের কর্মজীবনে অসংখ্য উদাহরণ আছে যেখানে রোগী শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে হেরে গিয়েছিলেন। এই রোগীদের তিনি শুধু চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেননি, তাদের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছেন।এটি তার মানবিক এবং চিকিৎসা জ্ঞান সমন্বিত দক্ষতার প্রমাণ।
তাঁর পরিবারও তার পেশাগত জীবনকে সমর্থন করেছে। তার সহধর্মনী ডাক্তার শায়লা ইসলাম, নিজের ক্যারিয়ারের অনেক সুযোগ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের ভারবহন করেছেন। সন্তানরা অনেক সময় বাবার কাছে আসতে চায়,কিন্তু দীর্ঘ কর্ম ব্যস্ততা এবং চেম্বারের কারণে তিনি সব সময় তাদের পাশে থাকতে পারেন না। তবুও তিনি প্রতিদিন তার কাজের মাধ্যমে তাদের জন্য গর্ব বয়ে আনেন।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের মতে, চিকিৎসা শুধু রোগ সারানো নয়। এটি একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, “চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নৈতিকতা যদি না থাকে, তবে দক্ষতা কোনো কাজে আসে না। রোগী ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অমর্যাদা অনেক দেখেছেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় প্রমোশন না পাওয়া, সম্মান না থাকা, মিডিয়ার ভুল প্রচার সবই ডাক্তারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে অনেক মেধাবী ডাক্তার পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন,“আমার জীবনের লক্ষ্য একটাই মানুষের সেবা করা। আমি চাই আমার রোগীরা শুধুই সুস্থ হোক, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার কারণে কেউ বঞ্চিত না হোক। এটাই আমার মানবিক নীতি।”
তিনি বিদেশের সেরা মেডিকেল কলেজ থেকে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে এসেছেন। বিদেশে অনেক ডাক্তার সম্মানের সঙ্গে থাকলেও দেশে সঠিক সম্মান ও সুযোগের অভাব রয়েছে। তিনি চান দেশে এমন পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে মেধাবী ডাক্তাররা দেশের জনগণের সেবায় উৎসর্গিত হবে।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনে অনেক স্মৃতিকথা আছে যা তার মানবিকতার প্রমাণ। ছোট বেলায় ভাই অসুস্থ হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, ছাত্রজীবনে অর্থের অভাব এসবই তাকে দৃঢ় করেছে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, কোনো মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়।
তিনি রোগীদের শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সাপোর্টও দেন। তিনি প্রতিটি রোগীর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তার চেম্বার ও হাসপাতাল হল সেই স্থান যেখানে রোগীর আশা ও বিশ্বাস কখনো ব্যর্থ হয় না।
ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, রোগীর জন্য প্রার্থনা করি, এবং নিজের দক্ষতা প্রয়োগ করি। এতে রোগী সুস্থ হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে আল্লাহর রহমত থাকলে প্রতিটি রোগী সুস্থ হয়ে যায়।”
তিনি বিশ্বাস করেন, চিকিৎসা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং দক্ষতা সমন্বয় করা উচিত। তার এই জীবনদর্শন শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের কাজের ধরন ও মানবিকতা এমন যে, রোগীরা তাকে শুধুই ডাক্তার হিসেবে নয়, মানবতার প্রতীক হিসেবে দেখে। তিনি ২২ বছর ধরে নোয়াখালীতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।তার লক্ষ্য একটাই মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।
ডাঃ মোঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন শুধু চিকিৎসা ও পেশাগত দক্ষতার গল্প নয় এটি মানবিকতা, নৈতিকতা ও পরিবারের প্রতি অগাধ দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি মনে করেন, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার শিক্ষা, কর্মদক্ষতা ও মানবিক চেতনায় নিহিত। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় এই বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।
ফরিদুল ইসলামের পরিবার তাঁর জীবনের মূল শক্তি। বাবা মরহুম মোঃ আরশাদ আলী মোল্লা ছিলেন এক সাধারণ কৃষক। জীবনের সাধারণ সরলতার মাঝেও তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল প্রশস্ত ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে সমাজের সম্মানিত মানুষ হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ক্ষেতের ধারে হাঁটতে হাঁটতে শোনা কৃষিকাজের গল্পগুলি ফরিদুলের জীবনে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
বাবা হয়তো জানতেন না মেডিকেলের কঠিন পথচলা কেমন, তবে এক মুহূর্তও তিনি ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হতে চাননি। মা জহুরা বেগম ছিলেন সংসারের অবিচল স্তম্ভ। অর্থের অভাবে সংসারের প্রতিটি দিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, ছেলের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি যেন না হয়, এটাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য।
তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ ফরিদুলের শিক্ষা ও মানবিকতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। প্রতিটি বই, খাতা, কলম এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে মায়ের অমোঘ ভালোবাসা।শিক্ষকদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা অতুলনীয়। কলেজে থাকাকালীন সময়ে বই কেনার সামর্থ্য ছিল না। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ভোটানি প্রতিটি বই শিক্ষকের পক্ষ থেকে পাওয়া। এই ছোট ছোট সহায়তা ফরিদুলকে একদিন দেশের অন্যতম খ্যাতিমান স্পাইন সার্জনে পরিণত করেছিল।
তিনি বলেন,“একজন মানুষ যদি তার জীবনের শিক্ষকদের ভুলে যায়, তবে সে কখনো প্রকৃত শিক্ষিত হতে পারে না।”ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনে পরিবার ও শিক্ষক ছাড়া সমাজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা একজন ডাক্তারকে শুধু রোগ সারানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখে না।
তাঁকে নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বে পূর্ণাঙ্গ করে তোলে। নোয়াখালীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, স্বাস্থ্য সেবা মানে কেবল রোগী দেখানো নয়, রোগীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করাও প্রয়োজন।
তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, কোনো মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। এমনকি আর্থিক অসচ্ছল রোগীদের জন্য তিনি ফ্রি চিকিৎসা দেন। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট বুঝতে পারলে তার চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।” এটি তার জীবনের মূল নীতি মানবিকতা ও নৈতিকতার সঙ্গে চিকিৎসা।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের পরিবারের ভূমিকা চিকিৎসা জীবনে অনন্য প্রভাব রেখেছে। স্ত্রী ডাক্তার শায়লা ইসলাম, নিজের ক্যারিয়ারের অনেক সুযোগ বিসর্জন দিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সন্তানরা মাঝে মাঝে বাবার কাছে আসতে চায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় কর্ম ব্যস্ততা বিশেষ করে অপারেশন, রোগীর দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা এবং চেম্বারের কারণে তিনি সবসময় তাদের কাছে থাকতে পারেন না। তারপরও, তাঁর পরিবার তাঁর জীবন ও কর্মের উৎসাহে সর্বদা পাশে থাকে। সন্তানরা তাঁর মানুষের জন্য ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রেরণা।
তাঁর পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য শুক্রবার চেম্বার বন্ধ রাখেন। তিনি বলেন, “পরিবার ও নিজেকে মাঝে মাঝে সময় দেওয়া উচিত। পরিবারকে সময় দিলে মানসিক শান্তি মেলে, যা রোগীর চিকিৎসায় কার্যকর।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন দর্শন “শিক্ষার কোনো সীমা নেই। তা শিখতে হয় মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।” এটি তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়। ছাত্রদের জন্য তাঁর নৈতিক শিক্ষা হল সঠিক পথে চলতে হলে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং নৈতিক দায়িত্ব অপরিহার্য।
চিকিৎসা জীবনে অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। রোগীর সংখ্যা, হাসপাতালের অপ্রতুল সুবিধা, প্রশাসনিক চাপ সবই তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এই চাপ কখনো তার নৈতিকতা ও মানবিকতা ক্ষুণ্ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, “চাপ যতই বাড়ুক, রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়াই প্রথম অগ্রাধিকার।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের নৈতিকতার প্রতিটি দিক রোগীদের প্রভাবিত করে। তিনি রোগীদের শুধুই শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও দেন। এই কারণে তার চেম্বার মানে শুধু চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, এটি মানবিক সহানুভূতি ও আশা জাগানোর স্থান।
তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সচেতন। বলেছেন, “প্রমোশন ধীরগতিতে হওয়া, সম্মান ও মুল্যায়ন না থাকা এবং মিডিয়ার ভুল প্রচার সবই ডাক্তারদের উপর চাপ তৈরি করে। এতে মেধাবী ডাক্তাররা পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের মানবিক চেতনা প্রতিফলিত হয় তাঁর রোগী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে। তিনি কখনোই রোগীকে আর্থিক পরিস্থিতির কারণে বঞ্চিত করেন না। রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় তিনি সর্বদা শান্ত মনোভাব বজায় রাখেন। রোগীর কষ্ট বুঝতে পারলে চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।
তাঁর জীবন দর্শন এবং পেশাগত নীতি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি ন্যায়পরায়ণ, কঠোর পরিশ্রমী এবং মানবিক মূল্যবোধে দৃঢ়। তার মতে, “চিকিৎসা জীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং দক্ষতা সমন্বয় করা উচিত। এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা কখনো উপেক্ষা করা যায় না।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের চেম্বার ও হাসপাতালগুলোতে রোগী শুধুই শারীরিক সুস্থতা পান না, তারা মানসিক শান্তিও পান। এই মানসিক সমর্থন রোগীকে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় আস্থা দেয়। তিনি রোগীদের সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করেন, যা চিকিৎসার কার্যকারিতা বহুগুণে বাড়ায়।
তিনি রোগীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করেন। তিনি বলেন,“শুধু রোগী নয়, তাদের পরিবার ও জীবনের আশা-ভরসাও চিকিৎসার অংশ।”এটি তার মানবিক চেতনার প্রমাণ।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সততা। তিনি বলেন,“চিকিৎসা জীবনে কখনো কোনো অবৈধ কাজ করতে হবে না।
রোগীর জন্য সবসময় সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।”
এই নীতি তার প্রতিটি রোগীর সঙ্গে সম্পর্ককে
শক্তিশালী করেছে।তিনি বিশ্বাস করেন,চিকিৎসা শুধু রোগ সারানো নয়, এটি নৈতিকতা, সততা এবং মানবিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার এই জীবনদর্শন শিক্ষার্থীদের জন্য পথ প্রদর্শক।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্ট। তার নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ রোগীদের জীবনে পরিবর্তন আনে।
ডাঃ মোঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন কেবল একজন চিকিৎসকের নয়, বরং একজন মানবিক নেতার, সমাজসেবীর ও নৈতিক চেতনার প্রতীক।তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আমাদের শেখায়, কিভাবে দক্ষতা, ধৈর্য, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে একজন মানুষ সমাজের জন্য অনন্য অবদান রাখতে পারে।
আজকের নোয়াখালীর মানুষ তাঁকে জানে কেবল একজন খ্যাতিমান স্পাইন সার্জন হিসেবে নয়, বরং একজন মানবতার প্রদীপ, যিনি রোগীর ব্যথা দেখলেই সেই ব্যথা অনুভব করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, চিকিৎসা জীবনের মূল লক্ষ্য রোগীকে সুস্থ করা, কিন্তু সুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মানসিক ও সামাজিক দিকের উন্নতিও অপরিহার্য। এই কারণে তার চেম্বার মানে শুধু চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, এটি মানুষের আশা ও স্বপ্নের কেন্দ্র।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন দর্শন এবং নৈতিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যান্য চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন,“শিক্ষার কোনো সীমা নেই। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষা চলতেই থাকে।” এটি শুধু পেশাগত শিক্ষা নয়, এটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা, ধৈর্য এবং মানবিকতার শিক্ষা।
তাঁর পরিবার তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্ত্রী ডাঃ শায়লা ইসলাম এবং সন্তানরা তাকে প্রতিদিনের জীবন ও কর্মের উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, “পরিবারের সহায়তা ছাড়া কোনো মানুষ তার পূর্ণ ক্ষমতা অনুযায়ী সমাজের জন্য কিছু করতে পারে না। পরিবারের ভালোবাসা, সমর্থন ও প্রেরণা ছাড়া একজন মানুষ তার দায়িত্ব পালন করতে পারেনা।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের সমাজসেবার কর্মক্ষেত্র সীমিত নয়। তিনি নোয়াখালীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য সবসময় পাশে থাকেন। মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং মানবিক চেতনা তাকে প্রান্তিক রোগীদের জন্য বিনা চিকিৎসা দেওয়ার অনন্য নীতি অনুসরণ করতে বাধ্য করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, “মানুষের কষ্ট বোঝার মাধ্যমে চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।
যদি একজন রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যায়, তবে সেটি আমাদের পেশার ব্যর্থতা।”তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সমস্যার দিকে সতর্ক। বলেছিলেন, “প্রমোশন ধীরগতিতে হওয়া, সম্মান না পাওয়া এবং মিডিয়ার ভুল প্রচার সবই ডাক্তারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে মেধাবী ডাক্তাররা পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
তাঁর কথাগুলো আমাদের শিক্ষা দেয়, একজন দক্ষ চিকিৎসক ও মানবিক ব্যক্তিকে যদি সম্মান ও সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের মান ক্ষুণ্ণ হয়। ডাঃ ফরিদুল ইসলামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট মানবিক চিকিৎসা ও সমাজসেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ডাক্তারদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠা।
তিনি চায়, তাঁর ছাত্ররা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবে না,তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা স্থাপন করবে। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষিত ডাক্তার শুধুই রোগী সারাতে জানলেই হবে না, তাকে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সহানুভূতি দেখাতে হবে।”
তাঁর পরিকল্পনা শুধু হাসপাতাল বা চেম্বার সীমিত নয়।
তিনি আশা রাখেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি পৌঁছে, মানুষ সহজে এবং সময়মতো চিকিৎসা পাবেন। তিনি বলেন, “যেখানে একজন এম.বি.বি.এস ডাক্তার থাকা উচিত, সেখানে সে যেন যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পায়। যাতে সে পুরো মন দিয়ে রোগীকে সেবা দিতে পারে।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন দর্শন এবং কাজের প্রভাব সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর সুদূরপ্রসারী। তিনি সমাজকে দেখিয়েছেন যে, সত্যিকারের চিকিৎসা মানে শুধুই রোগ সারানো নয়, মানুষের আশা, বিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদা রক্ষা করাও। তাঁর রোগীরা শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক শান্তি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অনুপ্রেরণাও পান।
তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সেবা করার জন্য কেবল ডাক্তারি পেশা নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং ধৈর্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “যদি একজন মানুষ রোগীর কষ্ট বুঝে না, তবে সে ভালো চিকিৎসা দিতে পারবে না। কষ্ট বোঝা মানেই চিকিৎসার প্রক্রিয়াকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করা।”
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনগাথা শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টান্ত। তার জীবনে দেখা যায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, সততা ও মানবিক চেতনার সংমিশ্রণ একজন মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে। তিনি শুধু একজন সফল চিকিৎসক নন, একজন মানবিক শিক্ষক, নেতা এবং সমাজসেবকও।
তাঁর পেশাগত জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, একজন ডাক্তার কতটা আত্মত্যাগী হতে পারে। রাতের অপারেশন, রোগীর মানসিক সমর্থন, চিকিৎসা সেবা
সবই তার জন্য নিত্যদিনের কাজ।
তিনি বলেন, “রোগীর সুস্থতা মানে শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।” ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন থেকে আমরা বুঝতে পারি, প্রকৃত সফলতা আসে মানুষের সেবার মাধ্যমে। তিনি কখনো ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা করেননি।
তাঁর জীবন দর্শন এবং কাজের নীতি এই বার্তা দেয় যে, সত্যিকারের চিকিৎসা মানে মানবিকতা, সততা, দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সংমিশ্রণ।তাঁর জীবনের এই দিকগুলো প্রমাণ করে যে, একজন সত্যিকারের মানবিক চিকিৎসক কেবল রোগ সারানোর জন্য নয়, সমাজে মানবিক মূল্যবোধ স্থাপনের জন্যও কাজ করে।
নোয়াখালীতে তাঁর কাজ এবং সামাজিক প্রভাব স্থানীয় জনগণের কাছে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি চাই নতুন প্রজন্মের ডাক্তাররা রোগীকে কেবল রোগী হিসেবে নয়, একজন মানুষের মতো দেখবে। তাদের চিকিৎসা মানবিক ও নৈতিক হবে। আমার জীবন দর্শনের মূলমন্ত্র হলো সততা, নৈতিকতা এবং মানবিকতার সাথে চিকিৎসা করা।”
তাঁর এই দর্শন এবং কর্মপ্রেরণা প্রমাণ করে, চিকিৎসা শুধুই পেশা নয়' এটি মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সমাজসেবার এক অনন্য সংমিশ্রণ। তিনি নোয়াখালীর মানুষদের দেখিয়েছেন, একজন ডাক্তার কিভাবে সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করতে পারে।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন আমাদের শেখায়, মানুষের সেবা কখনো ছোট বা বড় নয়। প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রোগী সবাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “চিকিৎসা জীবনে বড় বা ছোট রোগী নেই, শুধু মানুষের কষ্ট বোঝা আছে।”
তাঁর জীবনগাঁথা নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং সমাজসেবীদের জন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, সৎ পথে ধৈর্য ও সততার সঙ্গে কাজ করলে একজন মানুষ তার জীবন ও সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারে। ডাঃ ফরিদুল ইসলামের সমাজে প্রভাব কেবল চিকিৎসা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মানবিক মূল্যবোধ, সততা এবং দায়বদ্ধতা সমাজে অন্যান্য পেশাজীবীদেরও অনুপ্রাণিত করছে।
মানুষ তাঁর জীবনকাহিনী থেকে শেখে, সততা ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করলে কিভাবে সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়ানো যায়। ডাঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মানবিকতা এবং সততার ভিত্তিতে সমাজ ও পেশা পরিচালনা করতে পারলে আমরা সত্যিকারের উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারব।” এই চিন্তাধারা তাঁকে শুধু চিকিৎসক নয়, সমাজের একজন দৃষ্টান্তমূলক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তাঁর জীবনগাথা আমাদের শেখায়, সফলতা কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে নয়, সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে হয়। তার প্রতিটি পদক্ষেপে সততা, নৈতিকতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবনের গল্প আমাদের শেখায়, একজন মানুষের আসল মূল্য তার দক্ষতা নয়, তার মানবিকতা, সততা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় নিহিত।
তাঁর এই জীবনগাথা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সেবা করা মানে কেবল চিকিৎসা প্রদান নয়, মানুষের জীবনমান,আশা এবং স্বপ্নকেও সুরক্ষা দেওয়া। নোয়াখালীর মানুষের জীবনচর্চা এবং চিকিৎসার মান তার জীবনের মূল লক্ষ্য।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের চেম্বার মানে শুধুই হাসপাতাল নয়, এটি মানুষের আশা, মানবিকতা এবং শিক্ষার এক কেন্দ্র। রোগীরা এখানে সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক শান্তিও পান। এটি তার মানবিক চেতনার প্রমাণ।
তার জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের চিকিৎসা মানে রোগীর ব্যথা বোঝা, মানবিক সহানুভূতি প্রদর্শন এবং নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করা।
ডাঃ ফরিদুল ইসলামের জীবন দর্শন, পরিবার, শিক্ষা, এবং সমাজে দায়বদ্ধতা আমাদের শেখায়, কিভাবে একজন মানুষের কর্ম সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা হতে পারে।
চেম্বার ও যোগাযোগ:
চেম্বার-০১: প্রাইম হসপিটালস লিঃ, চৌমুহনী চৌরাস্তা, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
সাক্ষাত: প্রতিদিন দুপুর ২:৩০ মিঃ- বিকাল ৩:৩০ পর্যন্ত
চেম্বার-০২: প্রাইম হসপিটালস লিঃ, হাসাপাতাল রোড, মাইজদী, নোয়াখালী।
সাক্ষাত: বিকেল ৪.০০ থেকে রাত ৯.০০ পর্যন্ত
ইমেইল: example@gmail.com
ফোন: 01712157397
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment