বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান সহকারী প্রধান নিয়োগে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব:
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর অধীনে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন পদ্ধতি লিখিত মৌখিকের সমন্বয়ে গঠিত হবে চূড়ান্ত কাঠামো :
নব জ্যোতি অনলাইন ডেস্ক:
তারিখ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে প্রথমবারের মতো ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত নিয়োগ কমিটি।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করবে এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বেসরকারি স্কুল কলেজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগে এ পদে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু এতে প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।
তাই এবার লিখিত বা এমসিকিউসহ ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা চালুর সুপারিশ করেছে কমিটি। পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে হবে এটি চূড়ান্ত করবে এনটিআরসিএর বোর্ড।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক–২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
আমরা রিপোর্ট নিয়ে কাজ করছি। সচিবের দপ্তরে যাওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে অতীতে পরীক্ষার প্রচলন ছিল।
তাই এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হলেও আগের সেই মূল্যায়ন সংস্কৃতি বজায় রাখতে চায় কমিটি।
১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত, মৌখিক সাক্ষাৎকার এবং দক্ষতা যাচাই সব মিলিয়ে সমন্বিত মূল্যায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হতো।
তবে এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল ব্যাপক। স্থানীয় প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী নিয়োগের ঘটনাও ছিল নিয়মিত।
এসব অনিয়ম বন্ধে সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে।
গত ৬ অক্টোবর জারি হওয়া মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ সকল পদে নিয়োগ হবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে।
এর লক্ষ্য মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান বাড়ানো। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারও বলেন,
প্রতিষ্ঠান প্রধানই পুরো প্রতিষ্ঠানের নীতি ও মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা যায় না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর প্রস্তাবিত ১০০ নম্বরের কাঠামোয় তিনটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে,লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষা,মৌখিক পরীক্ষা
সাক্ষাৎকার প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এনটিআরসিএর বোর্ড।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মেধাভিত্তিক পদ্ধতি চালু হলে বেসরকারি স্কুলকলেজে নেতৃত্বের মান বাড়বে। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব নয় যোগ্যতা, সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই হবে নিয়োগের মূল মানদণ্ড।
ফলে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক শিক্ষা মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment