ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি: সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি মোঃ নুর আলম মামুন: শিক্ষার নবজাগরণের প্রত্যয়ে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভা: সমাজ, রাষ্ট্র ও মূল্যবোধের সংকট,আত্মসমালোচনা ও উত্তরণের সন্ধানে: স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি ফখরুল ইসলামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতঃ হারানো স্বপ্নের ফিরে আসা,মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ভাঙনের ছোট ফেনী নদী, ভাঙা জীবনের আর্তনাদ, কোম্পানীগঞ্জের দুই ওয়ার্ডের দীর্ঘ বেদনার কাহিনী: তরমুজ ক্ষতি শেষে গরু চুরি-চরপার্বতীতে উদ্যোক্তা বাবুর হতাশা,নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: বেগমগঞ্জে তিন ইটভাটাকে অর্থদণ্ড: বেগমগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন:

বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি:

বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি:

বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি:

নব জ্যোতি স্বাস্থ্য বার্তা:

বর্ষা প্রকৃতির এক অপূর্ব ঋতু। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের পর আকাশজুড়ে কালো মেঘ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মানুষের মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে তোলে।

বর্ষার এই মনোরম পরিবেশ যেমন স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, জলাবদ্ধতা, দূষিত পানি এবং জীবাণুর বিস্তারের কারণে এ সময় নানা ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়।

তাই বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সুস্থ থাকার জন্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ফলে কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে এসব রোগ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এ সময় সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত।খাবার গ্রহণের আগে এবং বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

হাত, মুখ ও পা পরিষ্কার রাখা এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রাস্তার খোলা বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে বাড়িতে প্রস্তুত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া নিরাপদ।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে অনেক সংক্রামক রোগ থেকে সহজেই নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।বর্ষাকালে মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টির পানি জমে থাকা স্থানগুলো মশার বংশবিস্তার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাই বাড়ির আশপাশ, ছাদ, উঠান এবং বাগান পরিষ্কার রাখা জরুরি।

কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে কীটনাশক বা মশা নিয়ন্ত্রণের উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে মসকিউটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে।

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বর্ষাকালে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে কম পানি পান করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত পানি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

পাশাপাশি শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।বর্ষার সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যাভ্যাসের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, পেয়ারা, লেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ, ব্রোকলি ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

এসব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো মৌসুমি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এছাড়া আদা, মধু, পুদিনা, তুলসী ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি ভেষজ চা শরীরকে উষ্ণ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামেরও বিকল্প নেই। বৃষ্টির কারণে বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরেই ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম, স্কোয়াট, পুশ-আপ কিংবা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।বর্ষাকালে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

এর পরিবর্তে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা ভালো। প্রতিদিন টক দই খাওয়ার অভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরতে হবে এবং গরম স্যুপ বা চা পান করলে শরীর উষ্ণ থাকে।পরিশেষে বলা যায়, বর্ষাকাল আনন্দ ও সৌন্দর্যের ঋতু হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মশা নিয়ন্ত্রণের মতো সাধারণ কিছু অভ্যাস মেনে চললেই বর্ষার নানা রোগব্যাধি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই হতে পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও উপভোগ্য বর্ষাকালের প্রধান ভিত্তি।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.