মোঃ আল এমরান
নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট একটি গুরুত্বপূর্ন "ক" শ্রেনীর পৌরসভা। পৌরসভাটির আয়তন প্রায় ৬.৫ বর্গকিলোমিটার, মোট ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বসবাস করেন। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি নোয়াখালী-৫ আসনের (কোম্পানীগঞ্জ) অন্তর্ভুক্ত এবং জেলা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বসুরহাট পৌরসভা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন খালে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, মশার বংশবিস্তার এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। খালগুলো বর্জ্য ও পলিথিনে ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
স্থানীয় পৌর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পৌরসভা "ক শ্রেণির” মর্যাদা থাকলেও নিয়মিত খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জ থানার পূর্ব পাশে উত্তরমুখী খালটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে। সেখানে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা, পথচারীরা ফেলে দিচ্ছে বিভিন্ন অব্যবহৃত বস্তুু ও বাসাবাড়ি হতে ফেলা হচ্ছে ময়লা,
এসব প্লাস্টিক,পলিথিন,বোতল,প্রাকৃতিক ভাবে খালে বেড়ে উঠা কচুরিফেনা সহ নানান বর্জ্যেতে ভরে গেছে খালটি।
বর্জ্য জমে থাকার কারণে খাল পাড়ের বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ায়, আশপাশের এলাকায় মশা-মাছির প্রজনন বেড়ে গেছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। খালের পানি দূষিত হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ও মৎস্যচাষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের নয়, পরিবেশগত ভারসাম্যেরও বড় হুমকি।” খালগুলো পরিষ্কার না থাকলে বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হবে।
অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত প্রভাব পড়বে।
খালের বর্জ্য জমে জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পৌর এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। বাজারের আশেপাশে দুর্গন্ধময় পরিবেশে ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন নানান সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও সংগঠনগুলো দাবি করেছেন,
পৌরসভা থেকে নিয়মিত খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।
বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে।
জনগণকেও সচেতন হতে হবে, যেন খালে বর্জ্য না ফেলা হয়।
একসময় খাল ও নদী ছিল বসুরহাটের প্রাণ, কিন্তু এখন বর্জ্যে ভরাট হয়ে তা বিপর্যয়ের মুখে। তাই সময় এসেছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার—নয়তো পৌরসভার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন তিনই থেমে যাবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের মূলভিত্তি। বসুরহাট পৌরসভার প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগই পারে শহরটিকে দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য রাখতে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment