নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামের এক শান্ত, সবুজে ঘেরা পল্লীভূমিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ চরপার্বতীর জাতীয়তাবাদী দলের একজন নেতা রহমত উল্ল্যাহ রাজু।
পিতা মৃত হাজী আমিন উল্লাহর ঘরে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি শৈশব থেকেই ছিলেন কর্মচঞ্চল, ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়, আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত এক তরুণ।
গ্রামের মেঠোপথে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলার মাঝেও তাঁর চোখে ছিল নেতৃত্বের দীপ্তি, সমাজের জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছে।
রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা ছাত্রজীবনেই। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চরপার্বতী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।
খুব অল্প সময়েই নিজের মেধা, সাহস ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার কারণে হয়ে ওঠেন সহপাঠীদের আস্থার প্রতীক। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন তিনি।
চরপার্বতী মৌলবি বাজার "শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ" এর ১৯৯৫-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক পরবর্তী চরপার্বতী ইউনিয়নের কদমতলা বাজারে
শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদেরও সাধারন সম্পাদক পদে ১৯৯৭ -১৯৯৮ ইং পর্যন্ত সুনামের সহিত অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু পদবী নয়, তিনি ছিলেন এক কর্মপ্রাণ সংগঠক, যিনি মাঠে ময়দানে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজুর রাজনৈতিক যাত্রায় প্রেরনা ছিলেন প্রয়াত নেতা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ নুরুল ইসলাম।
যাঁর স্নেহে ও দিকনির্দেশনায় তিনি বেড়ে ওঠেন একজন আদর্শ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে।
পাশাপাশি নোয়াখালী-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গেও ছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।
মুজিব কলেজে পড়াশোনার সময়েও তিনি ছাএদলের
রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন,ছাত্রদলের রাজনীতিতে
দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত রাখতেন নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধে।
১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আওয়ামী প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
ফলে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। ঢাকায় কিছুদিন কাটানোর পর কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।
কিন্তু দূর প্রবাসের মাটিতেও থেমে থাকেননি তাঁর দেশপ্রেম, থেমে থাকেনি রাজনীতির স্পন্দন।
প্রবাসের মাটিতে গড়ে তোলেন সংগঠন, সংহতি ও সহযোগিতার এক বলয়।
তিনি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং
চরপার্বতী জাতীয়তাবাদী প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সমাজসেবায় গভীরভাবে জড়িত। অসহায়, দুস্থ ও প্রবাসে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নিত্যদিনের কাজ।
সমাজের প্রতি তাঁর এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সাধারণ মানুষের প্রিয় করে তুলেছে। রাজু বিশ্বাস করেন,"দল মানে শুধু রাজনীতি নয়, দল মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
তাঁর ব্যক্তিজীবনে তিনি প্রচারবিমুখ, তবে আদর্শ ও নীতিতে অনড়। দলের ভেতর কেউ অন্যায় করলে তিনি নীরব থাকেন না,সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ করেন।
তাঁর মতে, “দল টিকে থাকে সত্যের উপর, শৃঙ্খলার উপর অন্যায়ের উপর নয়।”
এই বিশ্বাস থেকেই তিনি তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান, শহীদ জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রিয় দলের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চরপার্বতীর সকল মানুষকে।
দলের মনোনীত প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামকে বিজয়ী করতে সকলের ঐক্য ও পরিশ্রমের অনুরোধ করেছেন।
রহমত উল্ল্যাহ রাজু আজ শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি এক প্রেরণা, এক আদর্শ।
প্রবাসে থেকেও দল ও সমাজের জন্য যিনি নিজের হৃদয়ের দরজা খোলা রেখেছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় প্রমাণ করে, রাজনীতি মানে ক্ষমতার লড়াই নয় মানুষ ও দেশকে ভালোবাসার নামই রাজনীতি।
চরপার্বতীর মাটির গন্ধে মিশে থাকা এই জাতীয়তাবাদী সৈনিকের জীবনকথা আজও অনুপ্রেরণা জোগায় তরুণদের।
তিনি যেন সত্যিই চরপার্বতীর সেই নির্ভীক সিপাহসালার, যিনি দূর প্রবাস থেকেও মাতৃভূমির মাটিকে ভালোবাসেন নিঃশেষ আত্মার গভীরতায়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment