'চরপার্বতীর মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা'
মোঃ নুরুল হুদা হুদনের ত্যাগ, নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতার এক জীবন্ত দলিল :
নবজ্যোতি অনলাইন ফিচার ডেস্কঃ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের পল্লীগ্রাম চরপার্বতী এই জনপদের মাটিতে জন্ম নেওয়া এক নিরলস সংগ্রামী রাজনীতিকের নাম মোঃ নুরুল হুদা হুদন।
তাঁর জীবন কেবল ব্যক্তিগত উত্থান-পতনের গল্প নয়, বরং এ জীবন স্থানীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার এক জীবন্ত দলিল, যেখানে আছে আদর্শ, ত্যাগ, সংগ্রাম, সহনশীলতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
১৯৭৬ সালে এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম খুরশিদ আলম ও মাতা রুছিয়া খাতুনের স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা নুরুল হুদা হুদন চার ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। বোন না থাকলেও ভাইদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও পরিবারের প্রতি কর্তব্যবোধ তাঁকে শৈশব থেকেই পরিণত করে তোলে।
চরপার্বতীর গ্রামের সহজ সরল জীবনযাপন, হাট-বাজারের কোলাহল, কৃষকের ঘাম ঝরা শ্রম সব মিলিয়ে এই মাটিই তাঁকে গড়ে তুলেছে।
কৈশোরেই তাঁর চিন্তাজগতে রাজনীতির আলোড়ন শুরু হয়। সময়টা ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিস্তারের সময়।
হাইস্কুল জীবনে থাকতেই শহীদ জিয়া দর্শন ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, সাহস ও দেশপ্রেম তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।রাজনীতি তাঁর কাছে তখন ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, হয়ে ওঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি রাজনীতির পথচলায় প্রথম দৃঢ় পদক্ষেপ আসে বসুরহাট কলেজে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে।১৯৯৩ সালে কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
বক্তৃতা নয়, মিছিলের সামনের সারি, পদ নয়, কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো,এই ছিল তাঁর রাজনীতির ধরন। অল্প সময়েই তিনি কর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। তাঁর নেতৃত্বের ছায়াতলে শত শত ছাত্রকর্মী রাজনীতির দীক্ষা নেয়।
১৯৯৭ সালে তিনি ২নং চরপার্বতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। এটি ছিল তাঁর সাংগঠনিক স্বীকৃতির প্রথম বড় ধাপ।
এরপর ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং তৃণমূলে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ২নং চরপার্বতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।দীর্ঘ ছয় বছর ২০০৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত,তিনি এই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেন।
এই সময়কাল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলন-সংগ্রাম, সংগঠন গড়া, কর্মীদের প্রশিক্ষণ,সব কিছুতেই তিনি ছিলেন সক্রিয় ও দৃঢ়।
ছাত্র রাজনীতির অধ্যায় শেষ হলেও রাজনীতি তাঁর জীবন থেকে বিদায় নেয়নি। যুবসমাজকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নিয়ে তিনি যুবদলে যুক্ত হন।২০০৮ সালে ২নং চরপার্বতী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র
সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান।
এখানেও তাঁর কাজের ধরন ছিল নীরব কিন্তু ফলপ্রসূ। তিনি বিশ্বাস করতেন,নেতৃত্ব মানে সামনে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং পেছন থেকে শক্তি জোগানো।
২০১৬ সালের ১২ মার্চ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সফলতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন।এই সময়টাতে দলীয় সংকট, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেন।
তবে এই পথচলা ছিল কণ্টকমুক্ত নয়।তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় দুটি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা। দিনের পর দিন আতঙ্কে কাটে সময়। রাতে বাড়িতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি, পরিবার ছিল উদ্বিগ্ন। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল,সত্য ও আদর্শের পথ কখনো বৃথা যায় না।
ব্যক্তি জীবনে মোঃ নুরুল হুদা হুদন একজন হাসিখুশি, শান্ত ও বিনয়ী মানুষ। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন মানবিক মানুষ, যিনি মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়াতে জানেন। জনবান্ধব এই নেতার নেতৃত্বগুণ চরপার্বতী ইউনিয়নের মানুষের কাছে সুপরিচিত।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম-এর পক্ষে কাজ করতে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস ঐক্যই বিজয়ের চাবিকাঠি। তিনি চান, চরপার্বতীর ঘরে ঘরে ধানের শীষের বিজয় বার্তা পৌঁছে দিতে।
একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মোঃ নুরুল হুদা হুদনের জীবন আমাদের শেখায়
রাজনীতি কেবল স্লোগান নয়, এটি দায়িত্ব
এটি ত্যাগের নাম, সহনশীলতার নাম। চরপার্বতীর মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে আদর্শ কখনো পরাজিত হয় না।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment