'চরপার্বতীতে নির্বাচনী আমেজের উৎসব'
মেহেরুননেছা–মেইলঘর–জনতা বাজার–মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী-৫ আসনে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারনা :
নবজ্যোতি অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনজুড়ে শুরু হয়েছে উত্তাপ, উচ্ছ্বাস ও প্রতিযোগিতার নতুন দিগন্ত।
নির্বাচনী মাঠে প্রতিদিনই বাড়ছে জনসমাগম, উন্মাদনা ও কর্মীদের সরব উপস্থিতি। তারই অংশ হিসেবে ২৪শে নভেম্বর সোমবার বিকেলে,
চরপার্বতী ইউনিয়নের মেহেরুননেছা, মেইলঘর, জনতা বাজার ও মৌলভীবাজার এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের গণসংযোগে দেখা যায় অভূতপূর্ব জনসাড়া।
বিকেল ৩টা বাজতেই মেহেরুননেছা বাজারমুখী জনতার ঢল চোখে পড়ে। রাস্তা, দোকানপাট, চায়ের দোকান,টং দোকানে সবখানে জমে ওঠে প্রার্থীকে একনজর দেখার ভিড়।
সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে নতুন আলোড়ন তোলে।
গণসংযোগের শুরুতেই অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন পৌঁছেন মেহেরুননেছা বাজারে। বাজারে ঢুকতেই দোকানদার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ভিড় তাকে ঘিরে ধরে।
প্রতিটি দোকানে গিয়ে তিনি কুশল বিনিময় করেন, ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন এবং দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় সমর্থন চান।
হাঁটতে হাঁটতে তিনি যখন বাজারের উত্তরপ্রান্তে পৌঁছান, তখন দেখা যায় রাস্তার দু’ধারে মানুষের সারি। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউ আবার সামনে এসে হাত মেলাতে চাইছেন।
এক প্রবীণ ভোটার বলেন বেলায়েত ভাইয়ের নম্রতা, তার আচরণ আমাদের খুব টানে। অনেক প্রার্থীই আসে, কিন্তু তার মতো করে সবাই কথা বলে না।
মেহেরুননেছা ছাড়িয়ে বেলায়েত হোসেনের গাড়িবহর যখন মেইলঘরে প্রবেশ করে, তখন পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে স্লোগানের ঢেউ। দাঁড়ি পাল্লা, দাঁড়ি পাল্লা মার্কা। বেলায়েত ভাই এর আগমন,শুভেচ্ছা স্বাগতম
শ্লোগানে মুখরিত গ্রামের মেঠোপথ।
যুবকদের গলা মিলিয়ে নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রায় পুরো এলাকা গুঞ্জরিত হয়। কর্মীদের উৎসাহ এবং এমন সরব অংশগ্রহণ প্রার্থীকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
স্থানীয়দের ভাষায়,এই বার এলাকার উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির জন্য দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিতে চাই।
মেইলঘরের দোকানগুলোতেও ছিল ব্যস্ততা। দোকানিরা একপাশে দাঁড়িয়ে আলোচনায় ব্যস্ত,কে কী বললো, কোন প্রতিশ্রুতি দিলেন, এলাকা নিয়ে তার পরিকল্পনা কী এসব নিয়েই চলছিল প্রাণবন্ত আলাপচারিতা।
গণসংযোগের বহর যখন জনতা বাজারে পৌঁছায়, তখন বাজারের চিত্র যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী পতাকা হাতে প্রার্থীকে স্বাগত জানান।
বাজারের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়েই তিনি ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন,দুই হাত বাড়িয়ে দাঁড়াচ্ছি আপনাদের সামনে। ন্যায়, উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই।
তার এই কথার পর পুরো বাজারজুড়ে করতালির ঝড় ওঠে। বাজারের এক দোকানি বলেন,আমরা উন্নয়ন চাই কিন্তু তার সাথে মানবিক আচরণও চাই। বেলায়েত ভাই সেই বিশ্বাসটা দিতে পেরেছেন।
জনতা বাজারে গণসংযোগ চলাকালে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা রাস্তার সংস্কার, বাজারের ড্রেনেজ, স্কুল মাদরাসার সুযোগ বৃদ্ধি, এসব বিষয়ে সচেতন লোকজন সরাসরি প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন ও আশ্বাস দেন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার।
সন্ধ্যায় মাগরিবের শেষ প্রার্থী পৌঁছেন মৌলভীবাজারে
বাজারের প্রবেশমুখে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নেতা-কর্মীরা। নারায়ে তাকবীর! আল্লাহু আকবার!
মার্কা কি? দাঁড়ি পাল্লা! বেলায়েত ভাই এর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।
স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মৌলভীবাজার জামায়াতে ইসলামী পাঠাগারের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।
তিনি বাজারের প্রতিটি ব্যবসায়ী ও পথচারীর সাথে করমর্দন করেন। জিজ্ঞেস করেন, আপনাদের সমস্যা কী? কী করলে ভালো হবে?
গণসংযোগ শেষে তিনি মৌলভীবাজার ওবায়দিয়া ইসলামীয়া মাদরাসার আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন।
সেখানে ছাত্ররা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম জানালে তিনি স্নেহভরে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বলেন।
মাদরাসার কক্ষে বসে তিনি শিক্ষক ও কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ছাত্রদের আবাসন, পাঠদানব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,মাদরাসার কোষাধ্যক্ষ ও মাসিক নব জ্যোতি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল এমরান,প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল্লাহ,
সহকারী কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কাজেম উদ্দিন,প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন,
শিক্ষক মাওলানা মনির হোসেন ও মুফতি শাহাদাত হোসেন,এছাড়া এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।মাদরাসা পরিদর্শনে প্রার্থীর বিনয়ী আচরণ স্থানীয়দের কাছে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করে।
গণসংযোগে ও প্রচারনাতে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ জামায়াতে ইসলামী ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শামসুল আরেফীন,চরপার্বতী ইউনিয়ন বায়তুল মাল সম্পাদক শারাফাত হোসেন,
চরহাজারী জামায়াতের নেতা নুর উদ্দিন নুর্মিন,
চরপার্বতী ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম,৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চরপার্বতীর ৯নংওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী কোরবান আলী সোহাগ, প্রবাসী সাইফুল ইসলাম, আবুল খায়ের, জামায়াত কর্মী গোলাম হোসেন সহ বহু নেতাকর্মীর উপস্থিতি গণসংযোগকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উল্লেখ্য, চরপার্বতী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হানিফ আনসারী বর্তমানে উমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে,দিনব্যাপী গণসংযোগে চরপার্বতীর বিভিন্ন বাজারে যে জনসম্পৃক্ততা দেখা গেছে, তা আগামী নির্বাচনী ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।
এক পর্যবেক্ষক বলেন, প্রার্থী জনগণের মাঝে সরাসরি গিয়ে কথা বলছেন, সমস্যা শুনছেন এটাই ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় আস্থা তৈরি করে।
চরপার্বতীতে আজ যে দৃশ্য দেখা গেল, তা প্রচারণার গতি আরও বাড়িয়ে দেবে।চরপার্বতী ইউনিয়নের মেহেরুননেছা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজার পর্যন্ত অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের গণসংযোগে
যে জনসাড়া দেখা গেল তা নির্বাচনী মাঠে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, সমস্যা শুনে
সমাধানের আশ্বাস এবং কর্মীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
আগামী দিনে এ প্রচারণা আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment