ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

দেশপ্রেম মানবতা ও প্রবাস জীবনের সমন্বিত প্রতিচ্ছবি: মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান

দেশপ্রেম মানবতা ও প্রবাস জীবনের সমন্বিত প্রতিচ্ছবি:  মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান

দেশপ্রেম মানবতা ও প্রবাস জীবনের সমন্বিত প্রতিচ্ছবি: মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান

নব জ্যোতি অনলাইন ফিচার প্রতিবেদন:

জীবনের প্রকৃত মানে কেবল নিজের স্বপ্ন পূরণ নয়,

অন্যের জীবনে আলো জ্বালানোই সত্যিকার সার্থকতা।

আর সেই আলো ছড়িয়ে চলেছেন এক প্রবাসী আলোকিত মানুষ, "মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান"।

যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেও অন্তরে ধারণ করে রেখেছেন জন্মভূমির মাটি, মানুষের প্রতি মমতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩নং চরহাজারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান।

পিতা মরহুম নূর ইসলাম ও মাতা মাজিয়া খাতুনের স্নেহময় আশ্রয়ে তাঁর শৈশব কেটেছে এক ভালোবাসাময় পরিবেশে।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দায়িত্ববান ও স্নেহপরায়ণ সন্তান।

শিক্ষাজীবনে ছিলেন মেধাবী ও উদ্যমী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বি.এস.এস (অনার্স) ও এম.এস.এস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি অর্জন করেন গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনা।

ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্ব তাঁর সহজাত গুণ।

স্কুলে পড়াকালীনই ছাত্রদলের স্কুল শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি,যা ছিল তাঁর নেতৃত্বগুণ ও সমাজ সচেতনতার প্রথম প্রকাশ।

২০০৭ সালে জীবিকার তাগিদে বিদেশযাত্রা,জীবনের এক নতুন অধ্যায়।

প্রথমদিকে কঠোর পরিশ্রম, সীমাহীন অধ্যবসায় ও অবিচল সততার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন।

পেশাগত জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ২০১১ সালে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন।

কিন্তু দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও তাঁর হৃদয়ে বেজে চলে চরহাজারীর মাটি ও মানুষের স্পন্দন।

তিনি বুঝতে পারেন, প্রবাস মানেই শুধু পরিশ্রমের গল্প নয়,এটি হতে পারে সমাজ, দেশ ও মানবতার সেবায় নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালেই তিনি গড়ে তোলেন মানবকল্যাণের এক শক্তিশালী ভিত্তি।

বর্তমানে তিনি কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইনক. এর সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং

চরহাজারী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (U.S.A)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই দুটি সংগঠনের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।

তিনি বিশ্বাস করেন,সমষ্টি শক্তিই পরিবর্তনের মূল চালিকা।নিজের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে তিনি সংগঠনের প্রতিটি কার্যক্রমে রাখছেন নিরলস ভূমিকা।

প্রয়াত পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত “মরহুম নূরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন” তাঁর মানবিক চিন্তার এক জীবন্ত প্রতীক।

এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিঃস্বার্থভাবে।

চরহাজারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শতাধিক পরিবার নিয়মিত আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছে এই সংগঠনের মাধ্যমে।

অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মসজিদ-মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুদান,সবখানেই তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

তিনি বিশ্বাস করেন,মানুষের জীবনের আসল সৌন্দর্য তার কর্মে, তার দানে, তার উপকারে।

মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার আরেক উজ্জ্বল উদাহরণ হলো “আবু মাঝির হাট ব্লাড ব্যাংক”

এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মিজান নিজেই।

তাঁর উদ্যোগে এলাকার তরুণদের সম্পৃক্ত করে গড়ে ওঠে এক স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা দল, যারা প্রতিনিয়ত জীবন বাঁচানোর মিশনে নিয়োজিত।

প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এই ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে বিনামূল্যে রক্ত পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পায়।

আজ এটি শুধু একটি সেবা প্রতিষ্ঠান নয়, চরহাজারীর মানবিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনীতি তাঁর কাছে কোনো পেশা নয়,এটি আদর্শের, বিশ্বাসের ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।

ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত তিনি আজও বিএনপি-ঘরানার রাজনীতির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ।

বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ-এর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি প্রবাস থেকেও সক্রিয়।

অনলাইন-অফলাইন উভয় মাধ্যমে তিনি অংশ নিয়েছেন “হাসিনা হটাও, ভোটাধিকার ফেরাও” আন্দোলনে।তাঁর ভাষায় গণতন্ত্র কেবল দেশের রাজনীতিকদের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি প্রবাসীর আত্মার দায়।

চরহাজারী ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় “মিজান ভাই” নামটি এখন মানবতার আরেক নাম।তিনি নিয়মিত এলাকার স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদে অনুদান প্রদান করেন।

গরিব মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা খরচ, গৃহহীনদের পাশে দাঁড়ানো এসব তাঁর জীবনের দৈনন্দিন মানবিক কাজের অংশ।

তাঁর উদ্যোগে “চরহাজারী যুব ঐক্য ফোরাম”-এর মাধ্যমে এলাকায় তরুণদের মাদকবিরোধী সচেতনতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

তাঁর বিশ্বাস মাদককে না বলুন, দক্ষতাকে হ্যাঁ বলুন।

এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে তিনি চরহাজারীতে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

যেখানে গ্রামের তরুণরা আধুনিক দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভর হতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও তিনি এক অর্থে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত।বিভিন্ন প্রবাসী আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বিশ্বাস করেন,দেশপ্রেম মানে কেবল পতাকা ওড়ানো নয়,দেশের মর্যাদা বিশ্বে তুলে ধরা।

বিদেশের মাটিতে থেকেও তাঁর প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা।

বাংলাদেশি কমিউনিটির সংহতি ও ঐক্য রক্ষায় তাঁর অবদান প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র।

প্রবাস জীবনে অর্জিত উপার্জনের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করেন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে ও রেমিট্যান্স প্রেরণে।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান মনে করেন, সফলতা মানে শুধু নিজের সমৃদ্ধি নয়;

অন্যের জীবনে আলো জ্বালাতে পারাই প্রকৃত সফলতা।তাঁর প্রিয় উক্তি,যদি সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়, তবে দেশ একদিন আলোকিত হবে।

তাঁর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন,চরহাজারীতে একটি পূর্ণাঙ্গ দরিদ্র সহায়তা কেন্দ্র, বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা প্রকল্প এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা।

যেখানে দরিদ্ররা সেবা পাবে, তরুণরা দক্ষতা অর্জন করবে, আর সমাজ হবে স্বনির্ভর ও আলোকিত।

প্রবাসে থেকেও দেশ, মাটি, মানুষ, রাজনীতি ও মানবতার প্রতি যাঁর ভালোবাসা নিঃশেষ নয়,

তিনি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান।

তাঁর জীবন এক অনন্য অনুপ্রেরণা, যেখানে দেশপ্রেম, মানবতা ও প্রবাস জীবনের মেলবন্ধন ঘটে গেছে অপূর্বভাবে।

তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, দেশপ্রেম মানে শুধু ভাষণের শব্দ নয়, মানুষের চোখে হাসি ফোটানো।”

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি প্রমাণ করেছেন

দেশের প্রতি ভালোবাসা দূরত্বে মাপা যায় না;

হৃদয়ের গভীরতায় তা অনন্ত আলো হয়ে জ্বলে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.