ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বসুরহাট পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: 'দুইজন মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন' কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: ফেনীতে প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্রদের মাঝে সেহেরি-ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ: 'মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে গণইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত' পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আব্দুল হালিম মানিক ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ: 'গণতন্ত্র, নির্বাচন প্রকৌশল ও নারী নীতি' কোম্পানীগঞ্জে খেলাফত মজলিসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: কবিরহাটে সাংবাদিকদের সম্মানে ইউএনও’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত: কোম্পানীগঞ্জে বিশিষ্টজনদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত:

'দুইজন মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন'

'দুইজন মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির  মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন'

'দুইজন মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শন'

বালু ও মাটি কাটার দৌরাত্ম্যে ভেঙে পড়ছে সড়ক, বাড়ছে জনদুর্ভোগ:

মোঃ আল এমরান:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে। নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে।

এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসেন দুই মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার ১০ মার্চ দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এমপি মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এমপি উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় বর্তমানে নদীর দুই পাড়েই ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব অঞ্চল) মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি. এম. মোশারেফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম সিকদার। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জসহ ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সকাল ১১টায় মন্ত্রীদের কোম্পানীগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তারা পৌঁছান দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। এ সময় উপস্থিত মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সেখান থেকে মুছাপুর ক্লোজার এলাকা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। বসুরহাট থেকে মুছাপুরের দূরত্ব প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হলেও সেই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কষ্ট করে।

কারণ, এ পথের অধিকাংশ সড়কই এখন ভাঙাচোরা। কোথাও পাকা রাস্তার চিহ্ন আছে, আবার কোথাও কাঁচা ও ধুলোময় পথ। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি নিয়ে এগোনো যেন এক কঠিন যাত্রা।

মনে হচ্ছিল যেন আমরা ফিরে গেছি আশির দশকের কোনো দুর্গম গ্রামীণ জনপদে। সংবাদকর্মী হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে গিয়ে সহকর্মী নোয়াখালী খবরের প্রধান সম্পাদক হিমেল আহম্মেদের সঙ্গে আমাকেও সেই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

এই ভাঙাচোরা সড়কের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার কারণে সড়কগুলো টেকসই থাকছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সড়কের নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা থাকে। এখানে সড়কের ধারণক্ষমতা যেখানে ১৪ টনের বেশি নয়, সেখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টন ওজনের ট্রাক অবাধে চলাচল করছে।

দিন-রাত অবিরাম চলছে এসব ভারী যানবাহন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

বালু ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের কারণে আজ কোম্পানীগঞ্জবাসী দিশেহারা।

অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু সড়ক নষ্ট করছে না, বরং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকেও ব্যাহত করছে। এর ফলে নদীভাঙন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও কোনোভাবে এই বালু খেকোদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের অভিযানের পরও তারা আবার নতুন কৌশলে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করে।

ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি

কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু তাদের সবার জন্যই এই পথ যেন এক দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যদি নিজের দলের কেউ বা অন্য কেউ জড়িত থাকে, তাহলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে শুধু রাস্তা নয়, বাংলাবাজার ব্রিজসহ আশপাশের বহু স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার একর কৃষিজমি এবং অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কগুলো পুনঃসংস্কার করতে হবে এবং অবৈধ বালু ও মাটি ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মুছাপুর ক্লোজার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নদীভাঙন রোধের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ যখন নোয়াখালীর সরকারি কর্মকর্তা ও মাননীয় সংসদ সদস্যরা সরেজমিনে এই দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেছেন, তখন সাধারণ মানুষের আশা এই বাস্তবতা যেন শুধু পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

কারণ কোম্পানীগঞ্জের মানুষ চায় একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও উন্নত জনপদ। তারা চায় মজবুত রাস্তা, নদীভাঙনমুক্ত জীবন এবং পরিবেশের সুরক্ষা।

মুছাপুর ক্লোজার তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়

এটি এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। একই সঙ্গে অবৈধ বালু ও মাটি কাটা বন্ধ করাও আজ গণমানুষের জোরালো দাবি হয়ে উঠেছে।

কোম্পানীগঞ্জবাসী এখন তাকিয়ে আছে প্রশাসন ও সরকারের দিকে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে মিলবে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.