মানুষ প্রথমে গাছ চিনেছে, পরে ঔষুধ,
প্রথমে প্রকৃতিকে পেয়েছে, পরে চিকিৎসাকে, আর এই প্রকৃতি চিকিৎসার মাঝে যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে যুগের পর যুগ ধরে, তারই নাম ইউনানী চিকিৎসাশাস্ত্র।
আড়াই হাজার বছরের বেশি পুরনো এ শাস্ত্র যখন পৃথিবীর বহু দেশে হারিয়ে যেতে বসেছিল, ঠিক তখন দক্ষিণ এশিয়ায় কিছু আলোকিত মানুষ এটিকে
নিজেদের ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং সেবার অস্ত্র হিসেবে ধরে রেখেছেন।এমনই একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন,প্রখ্যাত ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানী, আলেম,
গবেষক ও সমাজনেতা, রাজনীতিবিদ হাকিম মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)।
যাঁর হাত ধরে ১৯৫৩ সালে নোয়াখালীর উপকূলীয় জনপদ কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাটে প্রতিষ্ঠিত হয়,“ইউনান ল্যাবরেটরি”যা আজ ৭২ বছরের ঐতিহ্য, গবেষণা, সুনাম ও আস্থার প্রতিষ্ঠান।
এ শুধু একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়,এ এক পরিবারের বংশের ইতিহাস,একটি দর্শন,একটি মিশন,একটি মানব সেবার যাত্রা।
হাকিম ইলিয়াস (রহ.) কোনো সাধারণ পরিবারে জন্ম নেননি। তিনি ছিলেন এমন এক আলোকিত বংশের সন্তান,যেখানে ধর্ম, জ্ঞান, সেবা এবং মানবিকতা ছিল প্রাণের মতো মূল্যবান।
তার জন্ম ১৯২৭ সালে ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে।
তার পিতা মৌলভী আবদুর রহমান ছিলেন একজন গুণী আলেম, সৎ, মিতভাষী ও মানব সেবায় নিবেদিত মানুষ,মাতা ফয়েজুন্নেছা ছিলেন,দ্বীনদার,শিক্ষানুরাগী,
মানবপ্রেমী।
তার দাদা মৌলভী আমজাদ হোসেন মিয়া ছিলেন আলেম বংশের অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব।
এই পরিবারে বংশগত ভাবেই দয়া, জ্ঞান, চিকিৎসা ও মানুষের উপকার করার মানসিকতা ছিল।
শৈশব থেকেই ইলিয়াস (রহ.) সেই আলোয় বড় হয়েছেন।
ছোটবেলায় তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী, মননশীল ও বিচক্ষণ।তিনি আরবি, বাংলা, ফার্সি, ইংরেজি, উর্দু পাঁচটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
প্রথমে স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা, এরপর বসুরহাট ফাজিল মাদরাসা, বর্তমান (কামিল) থেকে ফাজিল পাশ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল এই দুই শিক্ষাজীবন তাঁর মধ্যে ধর্মীয়চেতনা, সাহিত্য, যুক্তি ও জ্ঞানের বিস্তার ঘটায়।
এরপর তিনি ভর্তি হন,ঢাকা তিব্বিয়া কলেজে
যেখানে তিনি গভীরভাবে ডুব দেন ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশাল জগতে।
কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় কাজ দুটি ছিল কোম্পানীগঞ্জে নিজেই একটি ইউনানী চিকিৎসার ল্যাবরেটরিজ করা,দ্বিতীয়টি হলো তিব্বিয়া কলেজ গড়ে তোলা,সফলও হলেন।
সামাজিক জীবনে ইলিয়াস (রহ.) ছিলেন হাকিম ইলিয়াস নামে বেশি পরিচিত।সাদাসিধে জীবন, বিনয়ী আচরণ, মানুষের প্রতি অফুরন্ত মায়া, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো এসব তাঁর চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
তিনি বসুরহাটে খাম্বা হুজুররের মাজারের পাশে বর্তমানে (ইসলামী ব্যাংকের) নিচে দক্ষিন পাশে একটি দাওয়াখানা চালাতেন, যার নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান দাওয়াখানা, এলাকায় এ দাওয়াখানার সুপরিচিত
সুনাম ছিল।যেখানে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের সারি থাকত।মানুষ বলত,তিনি শুধু চিকিৎসক নন, তিনি দোয়া, বিশ্বাস ও মমতার চিকিৎসা দিতেন।
তিনি চিকিৎসক ছিলেন, কিন্তু সমাজের প্রতি তাঁর দায় কম ছিল না।কোম্পানীগঞ্জে কাজীর দায়িত্ব পালন,
মুসলিম লীগের স্থানীয় নেতৃত্ব,এমনকি বাংলাদেশ
মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল পরিচ্ছন্ন, মূল্যবোধনিষ্ঠ ও ন্যায়ভিত্তিক।
তিনি ১৯৫৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন,ইউনান ল্যাবরেটরি যা ছিল তখনকার সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইউনানী গবেষণা, উৎপাদন ও চিকিৎসা কেন্দ্র।
এই ল্যাবরেটরি থেকে উৎপাদিত ওষুধ মানুষের আস্থা এত দ্রুত অর্জন করে যে ১৯৬৩ সালে সরকারিভাবে ইউনানী ঔষধ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
উৎপাদন, গবেষণা, পরীক্ষা সবই ছিল সেই সময়ের তুলনায় অত্যাধুনিক। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন,শুধু চিকিৎসা দিয়ে প্রজন্ম বদলানো যায়না,দরকার শিক্ষা
তাই তিনি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে প্রতিষ্ঠা করেন
তিব্বিয়া কলেজ যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রথম ইউনানী চিকিৎসা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান।
উদ্দেশ্য ছিল,স্থানীয় তরুণদের তিব্বিয়া শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা উদ্ভিদ ও ভেষজ নিয়ে গবেষণা বিস্তার
প্রাচীন চিকিৎসাকে আধুনিক কাঠামোয় দাঁড় করানো
ভবিষ্যৎ হাকিম তৈরি করা এ কলেজ আজও তাঁর শ্রম, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার প্রতীক।হাকিম ইলিয়াস (রহ.) শুধু স্থানীয় চিকিৎসক ছিলেন না তিনি ছিলেন বাংলাদেশ
ইউনানী মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি।
এই পদে থেকে তিনি জাতীয় ইউনানী নীতি প্রণয়ন
সিলেবাস সংস্কার, ভেষজ গবেষণা,ইউনানী চিকিৎসকদের অধিকার, সরকারী স্বীকৃতি আদায়
আন্তর্জাতিক সেমিনার সমন্বয় এসব কাজে অনন্য ভূমিকা রাখেন।
তিনি ভারত, পাকিস্তান, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।
তার প্রবন্ধ, বক্তৃতা, গবেষণা সবই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত ছিল।
তিনি শুধু চিকিৎসক বা নেতা ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন দানবীর ও নির্মাতা।বসুরহাটে তাঁর ইউনান ল্যাবরেটরিজের সামনে প্রতিষ্ঠা করছেন ইলিয়াস
আলী জামে মসজিদ, ১৯৫৮ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীহাটে ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছেন। ।দরিদ্রের চিকিৎসায় নিজ খরচায় সহযোগিতা করতেন,
সামাজিক কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন সব সময় ।তার প্রত্যেকটি কাজ ছিল আল্লাহর প্রতি প্রেম আর মানুষের প্রতি দয়ার বহিঃপ্রকাশ।
জন্মিলেই মৃত্যু হবে চিরন্তন সত্য, মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, প্রত্যেক প্রানীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। সালটি ছিল ইংরেজি ১৯৯৮ এপ্রিল মাসের ১২ তারিখ পরিবার,পরিজন, আত্নীয়
স্বজন, বন্ধুবান্ধব কে শোক সাগরে ভাসিয়ে পাড়ি জমালেন পরপারে, তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত ইউনান
ভেষজ চিকিৎসার শুভাকাঙ্ক্ষীরা, এক উজ্জল নক্ষএ হারিয়ে গেল। যার শূণ্যতা পূরন হবার নয়।
হাজারো রোগী, রাজনীতিবিদ, আলেম, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সকলেই ভিড় করেছিলেন তাঁর জানাজায়।সেদিন বসুরহাট কেঁদেছিল। কেঁদেছিল ইউনান পরিবার, মানুষ বলেছিল একটি যুগের অবসান হলো।
দেশের প্রধান পত্রিকাগুলোও তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক, ইনকিলাব, ভোরের কাগজ, সংগ্রাম, দিনকাল, মানবজমিন, ও ফেনীর অর্ধসাপ্তাহিক পথ পত্রিকা।
মৃত্যু কালে হাকিম মাওলানা ইলিয়াস (রাঃ) ৪ পুত্র ও ৫ কন্যা রেখে যান, যার মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য
উত্তরসূরি অধ্যাপক হাকিম মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।
আলোর পথের যোগ্য বাহক,তিনি ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণ আলীপুর গ্রামে।
চাঁদপুর তিব্বিয়া কলেজ ও ফেনী তিব্বিয়া কলেজ থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে ইউনানী চিকিৎসায় দক্ষতা অর্জন করেন।
যিনি বর্তমানে ইউনান ল্যাবরেটরীর স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ব্যবস্থাপক। তিনি একাধারে ইউনানী চিকিৎসক গবেষক, ঔষধ প্রস্তুতকারক, সামাজিক
ব্যক্তিত্ব,রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ।
তার হাতে ল্যাবরেটরি পেয়েছে নতুন প্রাণ।
এছাড়াও তিনি নারী রোগী বিশেষজ্ঞ, সরকার অনুমোদিত ড্রাগ লাইসেন্সধারী, উদ্ভিদ ভিত্তিক গবেষক অধ্যাপক, নম্র, ভদ্র, রুচিশীল ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৯ সালে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে “সেবা ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন” শ্রেষ্ঠ যুবক পদক পান।
এছাড়াও তিনি অনেক সরকারি ও বেসরকারি সম্মামনা স্মারক,ও পদক অর্জন করেন।
ইউনান ল্যাবরেটরিজ এর বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন,আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি জনাব হাকিম শহীদ উল্লাহর পুত্র।তিনি ফ্যাক্টরির দৈনন্দিন
কার্যক্রম, উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও নতুন গবেষণামূলক উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে ইউনান ল্যাবরেটরি আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়াও নারী রোগীদের চিকিৎসায় আছেন নারী চিকিৎসক, হাকিম মিসেস লুৎফুন্নাহার।তিনি নারী রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিবেদিতপ্রাণ, এবং চিকিৎসার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।
আজকের ইউনান ল্যাবরেটরি একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ইউনানী শিল্প প্রতিষ্ঠান।হাইজিন মানসম্পন্ন পরিবেশ,
প্রশিক্ষিত ৯ জন মার্কেটিং কর্মকর্তা ও ১ জন কেমিস্ট।
আছে আধুনিক উৎপাদন লাইসেন্স ও গবেষণাভিত্তিক স্পেশাল ক্লিনিক্যাল আইটেম। বিপননের জন্য দেশজুড়ে কুরিয়ার সার্ভিস,ডাকযোগের ব্যবস্থায় পন্য পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকায়।
ইউনান ল্যাবরেটরিজে উৎপাদিত কিছু জনপ্রিয় ঔষধ,আমলারোজ, ইউনালিভ, চন্দনাসেব, ফাওলাদ, মোছাফফী, ইউনিকফ, ইউনাস্টোম, দশমুলারিষ, পেইন কিউর, তুলসী, অর্জুনারিষ, অশোকারিষ, মহাবাতারি, মেথোলিন, বেবিজিন এবং আরো বহু ফর্মুলা।
বিশেষ ক্লিনিক্যাল আইটেম যেগুলো ল্যাবরেটরীর সুনাম বহুগুণ বাড়িয়েছে১. হাব্বে হামল ২. হাব্বে মুদির
৩. হাব্বে জিরিয়ান ৪. মাজুনে হলিলা৫. হাব্বে রাল
৬. সফুফে জিগার৭. রওগনে আমলা ৮. সুফ্ফে মুহাযযিল
৯. মরহমে কাফুরী১০. মাজুনে আওজা
১১. সফুফে সুজাক১২. হাব্বে মুকিল১৩. হাব্বে এযরাকি১৪. হাব্বে কাবদ১৫. লবুবে কবীর ১৬. লিকুরিন। এই ফর্মুলাগুলো শত শত রোগীকে সুস্থতা দিয়েছে, আস্থা বাড়িয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউনান ল্যাবরেটরীর একটি ভেষজ বাগান আছে।সেখানে স্থানীয় ভেষজ সংগ্রহ, পরিচর্যা এবং গবেষণা হয়।
কোম্পানীগঞ্জেও বাগান করার ইচ্ছা আছে,সরকারি সহযোগিতায় ভুমি ব্যবস্থা হলে,ভেষজ বাগান বাস্তবায়ন করার কথা বলেন, হাকিম শহীদ উল্লাহ।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা চলছে,বিভিন্ন জেলা উপজেলায়,বিশেষ করে বৃহওর নোয়াখালী,রাঙামাটি, কুমিল্লা জেলায়।
দেশের বিভিন্ন জেলায় ঔষধ বিপনন করা।তবে
মুল লক্ষ্য পুরো বাংলাদেশে ইউনান ল্যাবরেটরীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা।
অধ্যক্ষ হাকিম শহীদ উল্লাহর এ ফিচার লেখককে বলেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, ল্যাবরেটরি সম্প্রসারণ, শোরুম স্থাপন,ইউনানী পার্ক/হার্বাল গার্ডেন,আধুনিক কেমিক্যাল গবেষণা ব্যবস্থা,
আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন প্ল্যান্ট, বিদেশে মার্কেটিং বিস্তার করা।
হাকিম শহিদ উল্ল্যাহর পরিবারে এক পুত্র ও নয় জন কন্যা সবাই উচ্চশিক্ষিত,দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। হাকিম শহিদ উল্ল্যাহ তার সন্তানদের নিয়ে গর্ব করে বলেন,
মহান আল্লাহ পাকের নিকট শুকরিয়া আমরা ছেলে মেয়ে দশ জনেই ডিগ্রীধারী সুশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত,নাতি,নাতিন সহ আছে ২৭ জন।
এর চেয়ে বড় পাওনা অর্জন আর কি হতে পারে তিনি উমরাহ হজ্ব করছেন। চলতি বছর ২৮ ডিসেম্বর আষ্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক হার্বাল সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন, এ ফিচার লেখক কে বলেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত প্রাচীনতম চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোর একটি হচ্ছে ইউনানী চিকিৎসা।যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইউরোপের সব জায়গায় ভেষজ হার্বাল মেডিসিনের চাহিদা বাড়ছে।
হিপোক্রেটিস বলেছিলেন“স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপাদানে তৈরি ওষুধই মানুষের জন্য সর্বোত্তম।”
এ কারণেই ইউনান ল্যাবরেটরীর প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক ওষুধ মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৭২ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠান,গবেষণা করেছে হাজারো রোগীকে সুস্থ করেছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে আস্থা তৈরি করেছে,সমাজে আলো ছড়িয়েছে,মানবতার জন্য
কাজ করেছে এ এক বংশের গল্প,যেখানে চিকিৎসা হলো ইবাদত,গবেষণা হলো আমল,ওষুধ হলো
দয়া,আর মানুষকে সুস্থ করা হলো সর্বোত্তম সেবা।
ইউনান ল্যাবরেটরীর যাত্রা আমাদের শেখায়,প্রকৃতিই আমাদের প্রথম চিকিৎসক।আর সঠিক হাতে সেই প্রকৃতির ওষুধই মানুষকে সুস্থ করতে পারে।
প্রতিষ্ঠাতা হাকিম ইলিয়াস (রহ.) যেমন বলতেন,
মানুষকে সুস্থ করা শুধু পেশা নয়,এটা সওয়াব, এটা দয়া, এটা ইবাদত।
আজ তাঁর উত্তরসূরিরা সেই কথাকেই জীবন দর্শন হিসেবে ধরে রেখেছেন, আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাচ্ছে নতুন উচ্চতায়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment