মানুষের জীবনে কিছু নাম থাকে যেগুলো শুধু পরিচয়ের জন্য উচ্চারিত হয় না,সেগুলো উচ্চারিত হয় ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, আস্থায় এবং কৃতজ্ঞতায়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এমনই এক প্রিয় নাম ডাঃ মোঃ শাহাদাত হোসেন সাগর। তিনি এম.বি.বি.এস (বিসিএস) স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন দক্ষ চিকিৎসক।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া একজন সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি)।
কিন্তু তার আসল পরিচয় আরও বিশাল তিনি মানবতার ফেরিওয়ালা,অসহায় মানুষের ভরসাস্থল, এলাকার মানুষের বাঁচার আশার আলো।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে এই সাধারণ পাড়াটিতেই জন্ম গ্রহন করেন ডাঃ সাগর।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শান্ত, দায়িত্বশীল এবং স্বপ্নবাজ। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন একসময় তাকে নিয়ে যায় কঠোর পরিশ্রমের পথে।
পরিবারের মূল্যবোধ, মানবসেবার শিক্ষা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে গড়ে তুলেছিল এক দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে।
চিকিৎসক হওয়া ছিল তার পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, কিন্তু মানুষকে ভালোবাসা এটা ছিল তার জন্মগত গুণ।
এম.বি.বি.এস সম্পন্ন করার পর তিনি যোগ দেন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে। এরপর দীর্ঘদিন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সরকারি চাকরিতে অনেকেই নিয়ম কানুনকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু ডাঃ সাগর ছিলেন ব্যতিক্রম।
সময়মতো উপস্থিতি, নিয়মিত রোগী দেখা,
পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল চেম্বার, রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ সবকিছু তাকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
ডাক্তার সাগর মানেই আস্থা। তার রুমে ঢুকলেই ভয় কেটে যায়।এটাই চিকিৎসকের প্রথম অর্জন আস্থা।
অনেক চিকিৎসকের নামের সঙ্গে স্বার্থ জড়িত থাকে, কিন্তু ডাঃ সাগরের নাম উচ্চারিত হয় নিঃস্বার্থতার গল্প হিসেবে।
হাজার হাজার রোগীকে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন৷ কারও পরীক্ষার খরচ নেই,তিনি নিজেই পরিশোধ করেছেন।কারও ওষুধ কেনার টাকা নেই,
নিজেই কিনে দিয়েছেন।
মানুষ বলে,তিনি শুধু প্রেসক্রিপশন দেন না, সাথে দেন সাহস।হার্ট অপারেশন ও রিং পরানো যেখানে তিনি হয়ে ওঠেন স্বর্গদূত।
হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। গরীব মানুষের পক্ষে হার্টের রিং পরানো বা অপারেশন করানো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ডাঃ সাগর।
অনেক অসহায় মানুষের হার্টে রিং স্থাপনের সম্পূর্ণ খরচ তিনি নিজে বহন করেছেন।
কাউকে অপারেশন করিয়েছেন কোনো অর্থ ছাড়াই।
এইসব কাজে তিনি কখনো প্রচার চাননি, চাননি সম্মাননা চেয়েছেন শুধু মানুষের সুস্থতা।
কোম্পানীগঞ্জের শত শত পরিবার গর্বের সঙ্গে বলে, আল্লাহর দয়ায় আমাদের ডাঃ সাগর সাহেবের উসিলায় চিকিৎসা পেয়ে আজ আমাদের প্রিয় মানুষটি
আমাদের কাছে আছে।
ডাঃ সাগরের চেম্বারে প্রবেশ করলেই বোঝা যায়,
তিনি শুধু চিকিৎসক নন, তিনি সৌন্দর্যপ্রেমী ও শৃঙ্খলাপ্রিয় একজন মানুষ।
তার চেম্বার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসিকভাবে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে।রোগী দেখার সময় তিনি কখনো তাড়াহুড়ো করেন না।
প্রত্যেক রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা,ওষুধ এবং জীবনাচরণ সব ব্যাখ্যা করে দেন ধৈর্য নিয়ে।
এজন্য রোগীরা বলেন,তার আচরণই অর্ধেক চিকিৎসা। অনেক সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে সময়মতো রোগী দেখেন না।
কিন্তু ডাঃ সাগর নিয়মিত অফিস শেষে হাসপাতালে কিংবা চেম্বারে রোগী দেখেন পুরো মনোযোগ দিয়ে।
সময়ের প্রতি তার যত্ন, রোগীর প্রতি তার সম্মান এই দুটি গুণ তাকে সাধারণ চিকিৎসকের বাইরে আলাদা এক উচ্চতায় তোলে।
সম্প্রতি তিনি সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন।এটি শুধু একটি চাকরির পদোন্নতি নয়, এটি তার নিষ্ঠা, দক্ষতা ও মানবিকতার স্বীকৃতি।
তার এই পদোন্নতির সংবাদ যখন এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছে, পুরো কোম্পানীগঞ্জ জুড়ে আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সাধারণ মানুষের কথায়, সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় সবখানে এক অভিন্ন বাক্য
এ সাফল্য তার প্রাপ্য। তিনি আরও এগিয়ে যাবেন।
কারণ মানুষ জানে একজন সৎ, পরিশ্রমী ও মানবিক মানুষ প্রচেষ্টার ফল একদিন পেতেই হয়।
কারণ তিনি শুধু ডাক্তার নন,তিনি মানুষের বন্ধু।
ডাঃ সাগরকে আলাদা করে তোলে তার ভেতরের সত্তা যেখানে আছে, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ, নীতিবোধ,পেশার প্রতি শ্রদ্ধা মানুষের প্রতি সহানুভূতি,
তিনি কখনো মানুষকে টাকা দিয়ে মাপেননি।
তিনি মাপেন তাদের কষ্ট দিয়ে, তাদের অসহায়ত্ব দিয়ে, তাদের দুঃখ দিয়ে।
একজন রোগী তাকে বলেছিলেন
আপনার মতো ডাক্তার থাকলে গরীব মানুষ আর ভয় পাবে কেন?
হাসপাতালে শিশুর কান্না, প্রবীণের হৃদস্পন্দন, মায়ের উদ্বেগ সবই তিনি নিজের মতো করে অনুভব করেন।
এমন একজন মানুষকে মানুষ ভুলে যায় না।
তাই তার নাম আজগৃহে গৃহে,চায়ের দোকানে হাসপাতালের পথে,মসজিদের সামনে সবখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।আলোকিত মানুষের পরিচয় কখনো হারায় না।
ডাঃ মোঃ শাহাদাত হোসেন সাগর,একজন চিকিৎসক থেকে বড় হয়ে ওঠা একজন মানুষ,আলোকিত
বিবেকের ধন,অসহায় মানুষের সহায়,
হৃদরোগীদের রক্ষক,আর মানবতার এক অবিচল পথযাত্রী।
এই ব্যস্ত পৃথিবীতে এমন নিঃস্বার্থ মানুষ খুব কম।
তাই তার সাফল্য শুধু তার নয়, তার প্রতিটি রোগীর, প্রতিটি পরিবারের, প্রতিটি মানুষের।
নব জ্যোতি পরিবার প্রার্থনা করে,
তিনি যেন আরও সাফল্যের পথে এগিয়ে যান,
আরও মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন,
তার সুস্থতা ও শান্তি যেন দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়।
কারণ তিনি শুধু ডাক্তার নন,
তিনি মানবতার ফেরিওয়ালা,
এই সমাজের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment