জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত চরপার্বতীর ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা:
নব জ্যোতি অনলাইন ফিচার ডেস্ক:
মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব কথায় নয়,কাজে প্রকাশ পায়
এই সত্যকে বাস্তবে রূপ দিয়ে চলছেন, চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন। অসহায় মানুষের মুখে হাসি
ফোটাতে যিনি রাত দিন ছুটে যান, নিজের সীমিত সামর্থ্যকে অতিক্রম করে মানব সেবাকে ইবাদত মনে করেন,তিনি আজ এই অঞ্চলের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বশির সারেং বাড়ির মৃত মৌলবী আবদুর রব মুন্সীর পুএ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন মেম্বার। বংশের পবিত্রতা, চরিত্রে দৃঢ়তা আর কাজে সত্য ও নিরলসতা এই মূল্যবোধ নিয়েই তিনি বড় হয়েছেন।
রাজনৈতিক,সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সমান দক্ষতা দেখানো এই মানুষটি শুধু একজন ইউপি সদস্য নন,তিনি একজন মানব হিতৈষী সমাজকর্মী এবং রহিমিয়া এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান মোহতামিম।সমাজের যেকোনো সংকটে সামনে দেখা যায় একজন, তিনি মেম্বার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চরপার্বতী ৭নং ওয়ার্ডে বহু বছর পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য বিধির ঘাটতি ছিল বড় সমস্যা। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করে সরকারি প্রকল্প ও নিজের প্রচেষ্টায় ৫১টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে টয়লেট উপহার দেন।
তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন টয়লেট পেতে কেউ কোনো লেনদেন করবেন না। এটি সম্পূর্ণ মানব সেবার অংশ।
স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি সব নামের তালিকাও প্রকাশ করেন যা একজন সৎ ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির উদাহরণ।
চরপার্বতী ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে মানব সম্পদ উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প
ইতোমধ্যে বিনামূল্যে বিতরণকৃত ৫১টি টয়লেটের উপকার ভোগীর তালিকা :
১. আবু তৈয়ব – আলী রাজার বাড়ি
২. মোঃ মিজান – মোটা চাঁন মিয়ার বাড়ি
৩. আবুল হাশেম – ছেরু মুন্সি বাড়ি
৪. শামসুল হক – গোরা গাজী বাড়ি
৫. সুরমা বেগম – পাটোয়ারী বাড়ি
৬. জাহাঙ্গীর আলম – পাটোয়ারী বাড়ি
৭. নুর আলম – গোরা গাজী বাড়ি
৮. নাজমা বেগম – পাটোয়ারী বাড়ি
৯. শরবতের নেছা – বৌচন আলী কবিরাজ বাড়ি
১০. নুর করিম – পাটোয়ারী বাড়ি
১১. বেলায়েত হোসেন (চান্দু) – জলিল সারাং বাড়ি
১২. সাইফুল ইসলাম – বৌচন আলী কবিরাজ বাড়ি
১৩. জামাল হক – গোরা গাজী বাড়ি
১৪. শেখ ফরিদ – গোরা গাজী বাড়ি
১৫. আবুল কাশেম – আবদুল কাদের পাটোয়ারী বাড়ি
১৬. আবু নাছের – রজ্জব আলী হাজী বাড়ি
১৭. লোকমান হোসেন – রজ্জব আলী হাজী বাড়ি
১৮. ছকিনা খাতুন – সোনা মিয়া সওদাগর বাড়ি
১৯. মোঃ মোস্তফা – আদর্শ পাড়া
২০. ছলেমা খাতুন – কালা বাক্স আলীর বাড়ি
২১. আবদুল হালিম – আদর্শ পাড়া
২২. মোঃ হোসেন – মজু মিয়াজি বাড়ি
২৩. আংকুরেন্নেছা – বৌচন আলী কবিরাজ বাড়ি
২৪. মহিন উদ্দিন – আবদুল কাদের পাটোয়ারী বাড়ি
২৫. নাছিমা আক্তার – আলী রাজার বাড়ি
২৬. হাজেরা বেগম – রজ্জব আলী হাজী বাড়ি
২৭. ছিরু রানী মজুমদার – রামচন্দ্র মহাজন বাড়ি
২৮. কামরুন্নাহার – মজু মিয়াজি বাড়ি
২৯মোঃ মাসুদুর রহমান – আলী রাজার বাড়ি
৩০ জাহানারা বেগম – আলী রাজার বাড়ি
৩১. মোঃ হানিফ – আলী রাজার বাড়ি
৩২. শরীয়ত উল্লাহ – আলী রাজার বাড়ি
৩৩. মোঃ খোকন – আলী রাজার বাড়ি
৩৪.মোঃ মিকাইল হোসেন – আলী রাজার বাড়ি
৩৫. মোঃ ইউসুফ – আলী রাজার বাড়ি
৩৬. মোঃ আবদুর রহিম – আলী রাজার বাড়ি
৩৭. মহিন উদ্দিন – আলী রাজার বাড়ি
৩৮ মোঃ ফরিদ – আলী রাজার বাড়ি
৩৯ মোঃ বাবুল – আলী রাজার বাড়ি
৪০ শাহ আলম – আদর্শ পাড়া
৪১. জেসমিন আক্তার-মানিক মিয়া বাড়ি,আদর্শ পাড়া
৪২. পারুল আক্তার – আমিন মিকার বাড়ি
৪৩. শাহানা আক্তার – আদর্শ পাড়া (বেডি বাঁধ)
৪৪. মোঃ ছিদ্দিক – বেডি বাঁধ, আদর্শ পাড়া
৪৫. মোঃ সেলিম উদ্দিন – সেলিমের নতুন বাড়ি
৪৬.. নুর নাহার – কালা মিয়ার বাড়ি
৪৭. বাহার উল্লাহ – বাহারের নতুন বাড়ি, আদর্শ পাড়া
৪৮. আইয়ুব আলী – আইয়ুবের নতুন বাড়ি
৪৯আনোয়ার হোসেন – আবদুর রহিমের বাড়ি
৫০. মোঃ শাহজাহান – মজু মিয়াজি বাড়ি
৫১. নুর করিম – ওমর আলী মাঝি বাড়ি
বিগত কয়েক বছরে তাঁর আর্থসামাজিক কাজ তাঁকে
এতদঅঞ্চলে মানুষের হৃদয়ের কোটায় গেঁথে রেখেছে।
চরপার্বতী ইউনিয়ন নদীবেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছর ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমি ও পথঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যখন সরকারি সহযোগিতা পৌঁছানোর আগেই মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখন সামনে দাঁড়ান মেম্বার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
নিজ উদ্যোগে, কখনো স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহায়তায়,বালুর বস্তা ফেলা,বাঁধ নির্মাণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পুনর্বাসন,এসব কাজে তিনি রাতভর ছুটে বেড়ান। স্থানীয়রা বলেন,ভাঙন ঠেকাতে প্রথম যে মানুষটিকে পাওয়া যায়, তিনি আব্দুল্লাহ মেম্বার।
তার সময়ে যে সংখ্যক উন্নয়ন কাজ হয়েছে, এলাকার মানুষ বলে,গত ৫৪ বছরের ইতিহাসে এত কাজ কখনো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার
কালভার্ট,ড্রেনেজ,কবরস্থান সংস্কার,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন,পানি সরবরাহ,স্যানিটেশন,বাঁধ নির্মাণ
টিআর, কাবিখা, ৪০ দিনের কর্মসূচি ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিটি কাজে তিনি স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন।তিনি নিশ্চিত করেন যেন ৭নং ওয়ার্ডের কোনো যোগ্য ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা প্রতিবন্ধী ভাতা মাতৃত্বকালীন ভাতা থেকে বঞ্চিত না হয়। নিজ হাতে যাচাই বাছাই করেন প্রতিটি তালিকা। অনেকে প্রয়োজনের সময় তার ব্যক্তিগত সহায়তাও পেয়েছেন।
টিকাদান কর্মসূচিতে সক্রিয়,বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ
ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলে ফেরানো পরিবার পরিকল্পনা সচেতনতা,বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি প্রচারণা মাদক, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ গ্রাম আদালতের ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতেও তিনি প্রশংসিত, চেষ্টা করেন সমঝোতায় শান্তি ফেরাতে।
রহিমিয়া এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি অগণিত এতিম শিশুর লালন পালনে কাজ করছেন।রমজান, কোরবানির ঈদে উপহার সামগ্রী বিতরন, কোরবানী ঈদে বিগত ৭ বছরে দরিদ্রদের মাঝে গোশত বিতরনে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
এছাড়াও ওয়াজ মাহফিল সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাপক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।মানুষ তাই তাকে বলে,২৪ ঘণ্টা মানবতার সেবক।আগুন, বন্যা, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা যাই হোক না কেন, ফোন পেলেই তিনি ছুটে যান।
তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের সেবা করা মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।চরপার্বতী ৭নং ওয়ার্ড আজ যে অগ্রযাত্রায় আছে তার পেছনে রয়েছে তার নিবেদিত প্রাণ নেতৃত্ব।
তিনি শুধু জন প্রতিনিধি নন একজন মানব হিতৈষী, সৎ কর্মী, সমাজের অভিভাবক ও নদীবেষ্টিত এলাকার রক্ষাকবচ।মানুষ বলে, আব্দুল্ল্যাহ মেম্বার থাকলে আমরা ভয় পাই না।এটাই তার কর্মকে মানুষের হৃদয়ে স্থান দেওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment