ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

“জনতার সেবক জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া" প্রবাসেও হৃদয়ে কোম্পানীগঞ্জ:

“জনতার সেবক জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া" প্রবাসেও হৃদয়ে কোম্পানীগঞ্জ:

জন্মভূমি যেমন ভালোবাসার, তেমনি দায়বদ্ধতারও। সেই দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামের সন্তান।

১৯৮০ সালে ছোট ফেনী নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত এই জনপদের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা-মাতার বড় সন্তান হিসেবে তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের ভরসাস্থল।

বর্তমানে পিতামাতাসহ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন আজও বাজে প্রিয় জন্মভূমি কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীর জন্য।

শৈশবে থেকেই তার মধ্যে ছিল এক অন্যরকম মনন ও মমত্ববোধ। রহিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বসুরহাট এ.এইচ.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি সম্পন্ন করেন।এরপর উচ্চশিক্ষার

জন্য ভর্তি হন ফেনী আইসিএসটি প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষা পাঠ শেষ করেন।

শুরু থেকেই রাজনীতির প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে যুক্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে। ছাত্র রাজনীতিতে ছিলেন নিষ্ঠাবান, সৎ, ও দায়িত্বশীল।

দলীয় কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ও সততার পরিচয় দিয়ে খুব দ্রুতই তিনি স্থানীয় নেতৃত্বে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

তবে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির রোষানলে পড়ে তাকে এলাকা ছাড়তে হয়।

পরবর্তীতে পিতার আমেরিকান নাগরিকত্বের সুবাদে তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। কিন্তু দেশ ছেড়ে গেলেও দেশপ্রেম কখনও ছেড়ে যাননি। প্রবাস জীবনে থেকেও দল ও এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।

দীর্ঘ দুই যুগ ধরে জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া কোম্পানিগঞ্জের রাজনীতি, মানবসেবা, ও প্রবাসী সমাজকল্যাণের এক নিবেদিত নাম।

তিনি কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইনক (ইউএসএ)-এর অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায়।

পাশাপাশি চরপার্বতী প্রবাসী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন মানবতার এক বিশাল মঞ্চে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক। সংসার, সমাজ, ও মানবতার সেতুবন্ধনেই খুঁজে নেন জীবনের অর্থ।

তিনি বিশ্বাস করেন,আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তার একটি অংশ গরিব-দুঃখীর হক। তাই প্রবাসে থেকেও নীরবে নিভৃতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

অসহায়, এতিম, অনাথ, দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষের পাশে।

শিক্ষা, চিকিৎসা, মসজিদ, মাদরাসা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে তিনি দাঁড়ান নীরবে কোনো প্রচার ছাড়াই।

তিনি একজন দানশীল, পরোপকারী, মিশুক ও নম্র স্বভাবের মানুষ। কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীর মানুষ আজও স্মরণ করে তার প্রবাসের অনুদান, তার দেয়া সাহায্য, তার মানবিক উদ্যোগের গল্প।

অনলাইনেও তিনি ছিলেন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের

বিরুদ্ধে এক দৃঢ় কণ্ঠ।তার জীবনের মূলমন্ত্রমানবসেবা। তিনি বলেন,

“সেবক হয়ে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। সেবা আমার নেশা, রাজনীতি আমার ফ্যাশন, সহযোগিতা আমার ধর্ম। কোম্পানীগঞ্জ পূর্বাঞ্চল আমার হৃদয়।”

এই উক্তির মধ্যেই ফুটে ওঠে তার আত্মিক ভালোবাসা, তার মাটির টান। তিনি চান জনতার মাঝে থাকতে, তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে, তাদের জীবনের পরিবর্তনের সহযাত্রী হতে।

জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া শুধু একজন প্রবাসী নন; তিনি কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীর এক প্রেরণার প্রতীক, মানবতার এক নীরব সৈনিক।

তার জীবন কথা শেখায় দেশপ্রেম কেবল ভূগোলের গণ্ডিতে আটকে থাকে না, বরং হৃদয়ে থাকে, কর্মে থাকে, মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকে।

মানুষের জন্য বেঁচে থাকা মানুষদেরই বলা হয় আলোর দিশারী, জাহিদ উদ্দিন ভুইয়া তেমনই এক আলোকবর্তিকা, যিনি বিদেশের মাটিতে থেকেও নিজের জনপদের জন্য জ্বালিয়ে রাখেন সেবার আলো।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.